আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি এবং কাজ করে যাব। আমার কথা হচ্ছে- আমাদের উন্নয়নের কথাগুলো যেমন মানুষের কাছে পৌঁছায়ে দিতে হবে। ঠিক তেমনি ভবিষ্যতের জন্য যে আমরা পরিকল্পনা করছি সেটাও মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।’
আজ শুক্রবার বিকেলে গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভার স্বাগত বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনের ব্যাপারে দলটির সভাপতি বলেন, ‘কতগুলো সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করতে হবে। কতগুলো উপকমিটি করতে হবে। সম্মেলনের খরচ যোগানোর জন্য অর্থ কমিটি একান্তভাবে দরকার। তাছাড়া সাজ-সজ্জার কাজের…। তবে এখানে একটা কথা বলে রাখি। যেহেতু বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা যাচ্ছে, আমাদের দেশেও সে অবস্থা…। তাই এবারের সম্মেলনে শান-শওকত করে করব না। খুব সীমিত আকারে অল্প খরচে সাদাসিদেভাবে আমাদের সম্মেলনটা করতে হবে।’
বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির আমলে লুটপাট, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, গ্রেনেড হামলা, অত্যাচার, নির্যাতন, খুন রাহজানি- এমন কোনো অপকর্ম নাই যা তারা না করেছে। যে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে এসেছে সেই দেশকে তারা ভিখারির দেশে পরিণত করে। হাত পেতে চলার দেশে পরিণত হয়েছিল। সেখান থেকে বাংলাদেশকে তুলে এনে আজকে আমরা আত্মমর্যাদাশীল দেশে পরিণতি করেছি। যে দেশকে বিশ্বের মানুষ সম্মানের চোখে দেখে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র বিশ্বাস করি। যে কারণে বিএনপি আজ স্বাধীনভাবে মিটিংও করতে পারছে, মিছিলও করতে পারছে, সবই করতে পারছে। কিন্তু যে সমস্ত আসামি যারা অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত, যারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে। রেল, বাস, গাড়ি এমনকি সিএনজি, লঞ্চ কোনো জায়গা বাদ ছিল না যেখানে আগুন দেয়নি। প্রত্যেক জায়গায় আগুন দিয়ে জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘যারা এই খুনের সঙ্গে জড়িত, অগ্নি-সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত, জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত তারা অনেকেই লুকিয়ে ছিল। বিএনপি মাঠে নামলে তারা মাঠে নামবে। এইসব আসামিদের কিন্তু ধরতে হবে এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। কারণ তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, জীবন্ত মানুষ হত্যা করেছে। হাত কেটেছে, চোখ তুলে মানুষকে নির্যাতন করেছে, তাদের ছাড় নাই। আইন তার আপন গতিতে চলবে, আইন সবার জন্য সমান। এটা তাদের মাথায় রাখতে হবে।’
বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাজনীতি করবে রাজনীতি হিসেবে। কিন্তু সন্ত্রাসী জঙ্গিবাদী রাজনীতি এদেশে চলবে না। এটা আমরা চলতে দেব না। এটা মাথায় রাখতে হবে।’
নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এই উপমহাদেশের অনেক পুরোনো সংগঠন আওয়ামী লীগ। এই সংগঠন আরও শক্তিশালী হোক, মানুষের পাশে দাঁড়াক, মানুষের জন্য কাজ করে মানুষের হৃদয় জয় করেই আমরা ক্ষমতায় এসেছি। আমরা জনগণের ভোটে এসেছি। জনগণের আস্থায় এসেছি। সেই আস্থা আমরা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। ১৪টা বছর আমরা এদেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ধরে রেখেছি, আস্থা অর্জন করে জনপ্রিয় হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সেটা মাথায় রেখেছি এগিয়ে যেতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আর সন্ত্রাসী, খুনি, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার আসামি, গ্রেনেড হামলাকারী, ৬৩ জেলার বোমা হামলাকারী দল বিএনপি। এদেরকে এদেশের মানুষ বিশ্বাসও করে না, এদের পাশে কোনো দিন থাকবেও না। এদের কোনো দিন ভোটও দেবে না। এটা হলো বাস্তবতা।’
বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ




















