১০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

নওগাঁয় নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে অবৈধ্য ভাবে মাটি কাটার অভিযোগ

নওগাঁর মান্দায় আত্রাই নদীর ভাটি অংশের বালু মহাল ইজারার নামে ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে নাকিব এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী রহমত আলী মোল্ল্যার বিরুদ্ধে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলা ১৪২৯ সনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আত্রাই নদীর ভাটি অংশের বালুমহাল ইজারার জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। এতে ৫২ লাখ ৯৪ হাজার ৭০১ টাকায় এ বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। সেখানে নদীর মধ্যে থাকা বালু তোলার কথা রয়েছে। আর প্রভাবশালী ওই ইজারাদার নিয়োমের কোন তোয়াক্কা না করে জোর পূর্বক প্রায় ৫০ বছর দখলে থাকা ইউক্যালেপটাস ও প্রায় ৬০/৭০টি আম গাছের বাগানের ধার পর্যন্ত মাটি কেটে বাগানটি হুমকির মুখে ফেলেছে। তারা এমন ভাবে মাটি কেটেছে, যাহাতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে, ভাঙনের কবলে পড়েছে নদীর পাড় সংলগ্ন ফসলি জমি, ফলজ ও বনজ বাগান, শশ্মানঘাট, খেয়াঘাট, বাজার রক্ষা বাঁধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, মাদ্রাসা, ঈদগাহসহ বন্যা ও নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এই মাটি কাটার কারনে ৮ থেকে ১০ টি গ্রামবাসীর পারাপারে ফকিন্নি নদীর ওপর নির্মিত কোটি টাকার সেতু এখন চরম হুমকিতে রয়েছে, অবৈধ মাটি খেকোদের কারনে। মাঠ এর জন্য ব্যবহার করা জায়গাতে ফলজ ও বনজ গাছ কেটে নেওয়ার জন্য একাধিক বার স্কুল কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তারা আরো জানায়, এই বাগান কেটে মাটি বিক্রয়ে স্কুল ও কলেজের হেড মাষ্টার সহ কর্তৃপক্ষ বাঁধা দিতে গেলে তাদেরকে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দেওয়ারও হুমকি দিচ্ছে। সহকারী শিক্ষক কামরুজ্জামান ও তারেক বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ১৯৪০ সালে স্থাপিত হয়। শেখ রাসেল বৃক্ষ রোপন কর্মসুচিতে সেখানে ৬০/৭০ টি আমগাছ রোপন করা হয় এবং সে গাছগুলো থেকে, গত বছর থেকে ফল দিতে শুরু করেছে। বর্তমানে সেখানে জবর দখল করে মাটি ও বালির স্তুপ করে রেখেছে। একটু বাতাস হলেই, স্কুলের ভিতরে থাকা যায় না,সেই বালির কারণে বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীদের শ্বাস কষ্ট শুরু হয়েছে। একবার বালু বহনকারী কাকড়ার বেপোরোয়া চলাচলের কারণে দুর্ঘনায় স্কুলের প্রাচীর ভেঙ্গে মাঠের মধ্যে ঢুকে পড়ে, অল্পের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের জীবন রক্ষা পায়। তারা বলেন, অবৈধ্য বেপোরায়া টাক্ট্রর চলা চলের জন্য প্রতিনিয়ত ঝুকিতে থাকে শিক্ষার্থীরা। এক বিধবা জানায়, তার কোন প্রকার জোত-জমি নেই, নদীর পাড়ে ফসল ফলিয়ে কোন ভাবে জীবন-যাপন করতো, তার সমস্থ জমি মাটি খেকোরা কেটে নেওয়ার জন্য এখন তার জীবন দুর্বিসহ হয়ে গেছে,সামনের জীবন কি খেয়ে বাঁচবেন তা তিনি জানেন না। বৃদ্ধা জানান, নদী থেকে বালু উত্তোলন না করে, ইজারাদারেরা অবৈধভাবে পাড় সংলগ্ন ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। তারা বাঁধা দিলে, দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি। তাদের কোনো বাধাই তোয়াক্কা করছেনা তারা। ইজারাদারের অবৈধ মাটি কাটা বন্ধের দাবিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে এবং স্কুল সংলগ্নে মানববন্ধনও করছে স্কুল শিক্ষক, জমির মালিকগণসহ স্থানীয় বাসীরা।
অধ্যক্ষ ফজলে রাব্বী বলেন, আমাদের স্কুলে ৮/১০ গ্রামের শিক্ষার্থী আছে। খুব ভালো চলছে শিক্ষা ব্যাবস্থা। প্রায় ৫০বছর থেকে স্কুলের নামে দখলি জায়গাতে আমবাগান করা হয়েছে। সেই আম বাগানের পাড় কেটে, পুরো বাগানটি হুমকির মুখে ফেলেছে ইজারাদারেরা। সেখানে বাঁধা দিতে গেলে, তারা বিভিন্ন ভাবে চাঁদাবাজির মামলা সহ হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। অবিলম্বে মাটিকাটা বন্ধসহ ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, স্কুল ও শিক্ষার্থীদের রক্ষায় বৃহঃত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে জানান স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা জানায়।
এবিষয়ে ইজারাদার রহমত আলী মোল্ল্যা বলেন, সরকার যেভাবে, যে যে দাগে তাদেরকে ইজারা দিয়েছে, তারা তার একটুও ব্যাতিক্রম করছে না। সেগুলোর কাগজপত্রও আছে তাদের কাছে। সরকারী নিয়ম-নীতি অনুসারেই তারা মাটিও বালু উত্তলনের কাজ করছে এর বাহিরে তারা কোন প্রকার অবৈধ কাজ করছেনা বলে জানান।
এবিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান পিএএ বলেন, বিষয়টি তিনি সঠিক ভাবে তদন্ত করে,আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে জানান।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা শুরু ১ ডিসেম্বর, দুই বিষয়ে সুযোগ

নওগাঁয় নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে অবৈধ্য ভাবে মাটি কাটার অভিযোগ

প্রকাশিত : ০৬:৩২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২২

নওগাঁর মান্দায় আত্রাই নদীর ভাটি অংশের বালু মহাল ইজারার নামে ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে নাকিব এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী রহমত আলী মোল্ল্যার বিরুদ্ধে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলা ১৪২৯ সনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আত্রাই নদীর ভাটি অংশের বালুমহাল ইজারার জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। এতে ৫২ লাখ ৯৪ হাজার ৭০১ টাকায় এ বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। সেখানে নদীর মধ্যে থাকা বালু তোলার কথা রয়েছে। আর প্রভাবশালী ওই ইজারাদার নিয়োমের কোন তোয়াক্কা না করে জোর পূর্বক প্রায় ৫০ বছর দখলে থাকা ইউক্যালেপটাস ও প্রায় ৬০/৭০টি আম গাছের বাগানের ধার পর্যন্ত মাটি কেটে বাগানটি হুমকির মুখে ফেলেছে। তারা এমন ভাবে মাটি কেটেছে, যাহাতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে, ভাঙনের কবলে পড়েছে নদীর পাড় সংলগ্ন ফসলি জমি, ফলজ ও বনজ বাগান, শশ্মানঘাট, খেয়াঘাট, বাজার রক্ষা বাঁধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, মাদ্রাসা, ঈদগাহসহ বন্যা ও নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এই মাটি কাটার কারনে ৮ থেকে ১০ টি গ্রামবাসীর পারাপারে ফকিন্নি নদীর ওপর নির্মিত কোটি টাকার সেতু এখন চরম হুমকিতে রয়েছে, অবৈধ মাটি খেকোদের কারনে। মাঠ এর জন্য ব্যবহার করা জায়গাতে ফলজ ও বনজ গাছ কেটে নেওয়ার জন্য একাধিক বার স্কুল কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তারা আরো জানায়, এই বাগান কেটে মাটি বিক্রয়ে স্কুল ও কলেজের হেড মাষ্টার সহ কর্তৃপক্ষ বাঁধা দিতে গেলে তাদেরকে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দেওয়ারও হুমকি দিচ্ছে। সহকারী শিক্ষক কামরুজ্জামান ও তারেক বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ১৯৪০ সালে স্থাপিত হয়। শেখ রাসেল বৃক্ষ রোপন কর্মসুচিতে সেখানে ৬০/৭০ টি আমগাছ রোপন করা হয় এবং সে গাছগুলো থেকে, গত বছর থেকে ফল দিতে শুরু করেছে। বর্তমানে সেখানে জবর দখল করে মাটি ও বালির স্তুপ করে রেখেছে। একটু বাতাস হলেই, স্কুলের ভিতরে থাকা যায় না,সেই বালির কারণে বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীদের শ্বাস কষ্ট শুরু হয়েছে। একবার বালু বহনকারী কাকড়ার বেপোরোয়া চলাচলের কারণে দুর্ঘনায় স্কুলের প্রাচীর ভেঙ্গে মাঠের মধ্যে ঢুকে পড়ে, অল্পের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের জীবন রক্ষা পায়। তারা বলেন, অবৈধ্য বেপোরায়া টাক্ট্রর চলা চলের জন্য প্রতিনিয়ত ঝুকিতে থাকে শিক্ষার্থীরা। এক বিধবা জানায়, তার কোন প্রকার জোত-জমি নেই, নদীর পাড়ে ফসল ফলিয়ে কোন ভাবে জীবন-যাপন করতো, তার সমস্থ জমি মাটি খেকোরা কেটে নেওয়ার জন্য এখন তার জীবন দুর্বিসহ হয়ে গেছে,সামনের জীবন কি খেয়ে বাঁচবেন তা তিনি জানেন না। বৃদ্ধা জানান, নদী থেকে বালু উত্তোলন না করে, ইজারাদারেরা অবৈধভাবে পাড় সংলগ্ন ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। তারা বাঁধা দিলে, দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি। তাদের কোনো বাধাই তোয়াক্কা করছেনা তারা। ইজারাদারের অবৈধ মাটি কাটা বন্ধের দাবিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে এবং স্কুল সংলগ্নে মানববন্ধনও করছে স্কুল শিক্ষক, জমির মালিকগণসহ স্থানীয় বাসীরা।
অধ্যক্ষ ফজলে রাব্বী বলেন, আমাদের স্কুলে ৮/১০ গ্রামের শিক্ষার্থী আছে। খুব ভালো চলছে শিক্ষা ব্যাবস্থা। প্রায় ৫০বছর থেকে স্কুলের নামে দখলি জায়গাতে আমবাগান করা হয়েছে। সেই আম বাগানের পাড় কেটে, পুরো বাগানটি হুমকির মুখে ফেলেছে ইজারাদারেরা। সেখানে বাঁধা দিতে গেলে, তারা বিভিন্ন ভাবে চাঁদাবাজির মামলা সহ হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। অবিলম্বে মাটিকাটা বন্ধসহ ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, স্কুল ও শিক্ষার্থীদের রক্ষায় বৃহঃত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে জানান স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা জানায়।
এবিষয়ে ইজারাদার রহমত আলী মোল্ল্যা বলেন, সরকার যেভাবে, যে যে দাগে তাদেরকে ইজারা দিয়েছে, তারা তার একটুও ব্যাতিক্রম করছে না। সেগুলোর কাগজপত্রও আছে তাদের কাছে। সরকারী নিয়ম-নীতি অনুসারেই তারা মাটিও বালু উত্তলনের কাজ করছে এর বাহিরে তারা কোন প্রকার অবৈধ কাজ করছেনা বলে জানান।
এবিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান পিএএ বলেন, বিষয়টি তিনি সঠিক ভাবে তদন্ত করে,আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে জানান।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ