০৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

যুব সমাবেশ: প্রস্তুত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশ শুক্রবার (১১ নভেম্বর)। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠেয় এই সমাবেশে উপস্থিত হয়ে রাজনৈতিক বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুব সমাবেশকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রস্তুত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। যেখানে অন্তত ১০ লাখ লোক জড়ো করার ঘোষণা দিয়েছে যুবলীগ। সারা দেশ থেকে সংগঠনটির অনুসারীরা অংশ নেবেন সমাবেশে। নেতাকর্মীরা গাড়িবহর নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে আসবেন বলে রাজধানীতে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুবলীগের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সমাবেশের কারণে নগরবাসীকে চলাচলে যেন কোনও ভোগান্তি পোহাতে না হয়, সে জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে ট্রাফিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; বিষয়টি সামনে রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাও নতুন করে ঠিক করা হয়েছে।

ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, শুক্রবার রাজধানীতে ঢাকার বাইরের গাড়ির চাপ থাকার কারণে বিশেষ প্রয়োজনে সড়ক ব্যবহার করা নাগরিকদের জন্য ইতিবাচক।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোড ডাইভারশনের ভেতরে শুধু গ্রিন কার্ড (সবুজ কার্ড) ব্যবহৃত গাড়িগুলো প্রবেশ করতে পারবে। তাছাড়া ঢাকার বাইরে থেকে আসা নেতাকর্মীদের গাড়িগুলো বিভিন্ন জায়গায় পার্ক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৯ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয়ে বিস্তারিত গণমাধ্যমে তুলে ধরেছে যুবলীগ। পরে বিকালে কোন কোন রুট ধরে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করতে হবে, সে বিষয়ে ডিএমপির পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার ডিএমপি রমনা ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. জয়নুল আবেদীনবলেন, ‘সমাবেশকে ঘিরে ট্রাফিক বিভাগ নতুন করে সাজানো হয়েছে। ওই দিনের ভিআইপি চলাচলের জন্য বেশ কিছু পয়েন্টে নিরবচ্ছিন্ন ট্রাফিক ব্যবস্থা থাকবে। কোনও দর্শনার্থী যদি রমনা পার্কে আসেন, তবে তিনি সমাবেশের দিকে যেতে পারবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া কোনও গাড়িকেই সমাবেশস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ঢাকার বাইরে থেকে আসা নেতাকর্মীদের নিয়ে আসা গাড়িগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় পার্ক করতে হবে।’

রমনা ডিসি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই সমাবেশ শেষ করে নেতাকর্মীরা চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের ১১টি পয়েন্টে রোড ডাইভারশন দেওয়া হবে। নগরবাসীকে অনুরোধ করবো সমাবেশে আসা ছাড়া এসব রোড পরিহার করে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার জন্য।’

রোড ডাইভারশন থাকছে যেসব এলাকায়
কাঁটাবন ক্রসিং: হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, পুলিশ ভবন ক্রসিং, কাকরাইল চার্চ ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, দোয়েল চত্বর ক্রসিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার ক্রসিং, জগন্নাথ হল ক্রসিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাস্কর্য ক্রসিং ও উপাচার্য ভবন ক্রসিং।

বুধবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে যুবলীগ জানায়, আসন্ন যুব মহাসমাবেশকে মহাজনসমুদ্রে পরিণত করা হবে। এই কর্মসূচি সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই সহযোগী সংগঠন। সারা দেশ থেকে তাদের নেতাকর্মীরা কোন রুটে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করবে, তার বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে যুবলীগ তুলে ধরেছে।

এ সময় তাদের পক্ষ থেকেও চলাচলের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোন এলাকার নেতাকর্মীরা কোন পথে আসবে, সেটাও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে সম্মেলনে; যাতে নগরবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে না হয়।

সমাবেশে আসা গাড়িগুলো যেসব এলাকায় পার্কিং করবে
মুহসীন হল মাঠ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ভিআইপি); মলচত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; পলাশী ক্রসিং থেকে ভাস্কর্য ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে; ফুলার রোডে রাস্তার দুই পাশে; দোয়েল চত্বর ক্রসিং থেকে শহিদুল্লাহ হল ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে; পলাশী ক্রসিং থেকে নীলক্ষেত ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে; সবজি বাগান থেকে নেভাল গ্যাপ পর্যন্ত; সুগন্ধা থেকে অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং পর্যন্ত; হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল গলি; নেভাল গেট এলাকা; হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বিপরীত পাশে; মিন্টো রোড ক্রসিং থেকে পুলিশ ভবন ক্রসিং এবং দিলকুশা ও মতিঝিল এলাকার রাস্তার দুই পাশে আসা গাড়িগুলো পার্ক করা হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মনিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দীতে যুবলীগের সমাবেশ ঘিরে ১১টি পয়েন্টে ডাইভারশন দেওয়া হয়েছে। এই এলাকার মধ্যে কোনও পাবলিক গাড়ি এবং ঢাকা বাইরে থেকে আসা নেতাকর্মীদের গাড়ি চলাচল করতে পারবে না। শুধু নির্দিষ্ট কিছু সবুজ স্টিকারযুক্ত ভিআইপি গাড়ি চলাচল করতে পারবে।’

সমাবেশস্থলে ঢোকার পাঁচটি প্রবেশপথ
ভিআইপি গেট বাদে সমাবেশে প্রবেশের গেট থাকবে পাঁচটি। এগুলো হলো– টিএসসির রাজু ভাস্কর্য-সংলগ্ন গেট, মেট্রোরেল স্টেশন গেট, রমনা কালীমন্দির গেট, মেট্রোরেল গেট-১ (মাজার গেটের পরের গেট) ও মাজার গেট।

সমাবেশে প্রবেশের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সবুজ কার্ডধারী অতিথিরা ৩ নম্বর গেট (রমনা কালীমন্দির গেট) দিয়ে প্রবেশ করবেন।

রংপুর বিভাগ, রাজশাহী বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ ও ঢাকা মহানগর উত্তর, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, ঢাকা জেলা উত্তরের নেতাকর্মীরা প্রবেশ করবেন ১ ও ২ নম্বর গেট দিয়ে।

বৃহত্তর ফরিদপুর, খুলনা বিভাগ, বরিশাল বিভাগ, সিলেট বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগ, ঢাকা জেলা দক্ষিণ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের নেতাকর্মীরা প্রবেশ করবেন ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গেট দিয়ে।

যুবলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগ থেকে যারা পদ্মা সেতু হয়ে মহাসমাবেশে আসবেন, তারা হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে না এসে বাবুবাজার ব্রিজ হয়ে আসবেন। কারণ, সিলেট বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগ, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের নেতাকর্মী একই সঙ্গে হানিফ ফ্লাইওভার ব্যবহার করলে টোল প্লাজায় দীর্ঘ লাইন পড়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া সাংবাদিকরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা মোতাবেক ভিআইপি গেট, অর্থাৎ শিখা চিরন্তনী গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন।

বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি আসার রুট
চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ থেকে যারা আসবেন, তারা মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার হয়ে গুলিস্তান, জিরো পয়েন্ট, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার, পলাশী হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাড়ি নিয়ে আসবেন।

ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল বিভাগ থেকে যারা বাসে আসবেন, তারা পদ্মা সেতু হয়ে বাবুবাজার ব্রিজ দিয়ে গুলিস্তান, নগর ভবনের সামনের রাস্তা, বঙ্গবাজার-সংলগ্ন রাস্তাগুলো এবং জিরো পয়েন্ট ওসমানী উদ্যান-সংলগ্ন এলাকা দিয়ে প্রবেশ করবেন।

ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে মহাখালী, মগবাজার ফ্লাইওভার, কাকরাইল চার্চের বামে মোড়-সংলগ্ন রাস্তা হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসবেন।

রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকে গাবতলী, মিরপুর রোড, সায়েন্স ল্যাব ক্রসিং, নিউ মার্কেট ক্রসিং, বামে মোড়; অথবা গাবতলী, মিরপুর রোড সায়েন্স ল্যাব ক্রসিং বামে মোড়, কাঁটাবন ক্রসিং ডানে মোড়, নীলক্ষেত ক্রসিং, পলাশী ক্রসিং হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসবেন।

বিজনেস বাংলাদেশ / বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ময়মনসিংহে ৩ দিনব্যাপী কৃষি মেলা শুরু

যুব সমাবেশ: প্রস্তুত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

প্রকাশিত : ০৭:৩৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর ২০২২

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশ শুক্রবার (১১ নভেম্বর)। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠেয় এই সমাবেশে উপস্থিত হয়ে রাজনৈতিক বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুব সমাবেশকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রস্তুত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। যেখানে অন্তত ১০ লাখ লোক জড়ো করার ঘোষণা দিয়েছে যুবলীগ। সারা দেশ থেকে সংগঠনটির অনুসারীরা অংশ নেবেন সমাবেশে। নেতাকর্মীরা গাড়িবহর নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে আসবেন বলে রাজধানীতে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুবলীগের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সমাবেশের কারণে নগরবাসীকে চলাচলে যেন কোনও ভোগান্তি পোহাতে না হয়, সে জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে ট্রাফিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; বিষয়টি সামনে রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাও নতুন করে ঠিক করা হয়েছে।

ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, শুক্রবার রাজধানীতে ঢাকার বাইরের গাড়ির চাপ থাকার কারণে বিশেষ প্রয়োজনে সড়ক ব্যবহার করা নাগরিকদের জন্য ইতিবাচক।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোড ডাইভারশনের ভেতরে শুধু গ্রিন কার্ড (সবুজ কার্ড) ব্যবহৃত গাড়িগুলো প্রবেশ করতে পারবে। তাছাড়া ঢাকার বাইরে থেকে আসা নেতাকর্মীদের গাড়িগুলো বিভিন্ন জায়গায় পার্ক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৯ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয়ে বিস্তারিত গণমাধ্যমে তুলে ধরেছে যুবলীগ। পরে বিকালে কোন কোন রুট ধরে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করতে হবে, সে বিষয়ে ডিএমপির পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার ডিএমপি রমনা ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. জয়নুল আবেদীনবলেন, ‘সমাবেশকে ঘিরে ট্রাফিক বিভাগ নতুন করে সাজানো হয়েছে। ওই দিনের ভিআইপি চলাচলের জন্য বেশ কিছু পয়েন্টে নিরবচ্ছিন্ন ট্রাফিক ব্যবস্থা থাকবে। কোনও দর্শনার্থী যদি রমনা পার্কে আসেন, তবে তিনি সমাবেশের দিকে যেতে পারবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া কোনও গাড়িকেই সমাবেশস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ঢাকার বাইরে থেকে আসা নেতাকর্মীদের নিয়ে আসা গাড়িগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় পার্ক করতে হবে।’

রমনা ডিসি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই সমাবেশ শেষ করে নেতাকর্মীরা চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের ১১টি পয়েন্টে রোড ডাইভারশন দেওয়া হবে। নগরবাসীকে অনুরোধ করবো সমাবেশে আসা ছাড়া এসব রোড পরিহার করে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার জন্য।’

রোড ডাইভারশন থাকছে যেসব এলাকায়
কাঁটাবন ক্রসিং: হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, পুলিশ ভবন ক্রসিং, কাকরাইল চার্চ ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, দোয়েল চত্বর ক্রসিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার ক্রসিং, জগন্নাথ হল ক্রসিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাস্কর্য ক্রসিং ও উপাচার্য ভবন ক্রসিং।

বুধবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে যুবলীগ জানায়, আসন্ন যুব মহাসমাবেশকে মহাজনসমুদ্রে পরিণত করা হবে। এই কর্মসূচি সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই সহযোগী সংগঠন। সারা দেশ থেকে তাদের নেতাকর্মীরা কোন রুটে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করবে, তার বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে যুবলীগ তুলে ধরেছে।

এ সময় তাদের পক্ষ থেকেও চলাচলের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোন এলাকার নেতাকর্মীরা কোন পথে আসবে, সেটাও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে সম্মেলনে; যাতে নগরবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে না হয়।

সমাবেশে আসা গাড়িগুলো যেসব এলাকায় পার্কিং করবে
মুহসীন হল মাঠ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ভিআইপি); মলচত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; পলাশী ক্রসিং থেকে ভাস্কর্য ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে; ফুলার রোডে রাস্তার দুই পাশে; দোয়েল চত্বর ক্রসিং থেকে শহিদুল্লাহ হল ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে; পলাশী ক্রসিং থেকে নীলক্ষেত ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে; সবজি বাগান থেকে নেভাল গ্যাপ পর্যন্ত; সুগন্ধা থেকে অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং পর্যন্ত; হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল গলি; নেভাল গেট এলাকা; হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বিপরীত পাশে; মিন্টো রোড ক্রসিং থেকে পুলিশ ভবন ক্রসিং এবং দিলকুশা ও মতিঝিল এলাকার রাস্তার দুই পাশে আসা গাড়িগুলো পার্ক করা হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মনিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দীতে যুবলীগের সমাবেশ ঘিরে ১১টি পয়েন্টে ডাইভারশন দেওয়া হয়েছে। এই এলাকার মধ্যে কোনও পাবলিক গাড়ি এবং ঢাকা বাইরে থেকে আসা নেতাকর্মীদের গাড়ি চলাচল করতে পারবে না। শুধু নির্দিষ্ট কিছু সবুজ স্টিকারযুক্ত ভিআইপি গাড়ি চলাচল করতে পারবে।’

সমাবেশস্থলে ঢোকার পাঁচটি প্রবেশপথ
ভিআইপি গেট বাদে সমাবেশে প্রবেশের গেট থাকবে পাঁচটি। এগুলো হলো– টিএসসির রাজু ভাস্কর্য-সংলগ্ন গেট, মেট্রোরেল স্টেশন গেট, রমনা কালীমন্দির গেট, মেট্রোরেল গেট-১ (মাজার গেটের পরের গেট) ও মাজার গেট।

সমাবেশে প্রবেশের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সবুজ কার্ডধারী অতিথিরা ৩ নম্বর গেট (রমনা কালীমন্দির গেট) দিয়ে প্রবেশ করবেন।

রংপুর বিভাগ, রাজশাহী বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ ও ঢাকা মহানগর উত্তর, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, ঢাকা জেলা উত্তরের নেতাকর্মীরা প্রবেশ করবেন ১ ও ২ নম্বর গেট দিয়ে।

বৃহত্তর ফরিদপুর, খুলনা বিভাগ, বরিশাল বিভাগ, সিলেট বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগ, ঢাকা জেলা দক্ষিণ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের নেতাকর্মীরা প্রবেশ করবেন ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গেট দিয়ে।

যুবলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগ থেকে যারা পদ্মা সেতু হয়ে মহাসমাবেশে আসবেন, তারা হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে না এসে বাবুবাজার ব্রিজ হয়ে আসবেন। কারণ, সিলেট বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগ, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের নেতাকর্মী একই সঙ্গে হানিফ ফ্লাইওভার ব্যবহার করলে টোল প্লাজায় দীর্ঘ লাইন পড়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া সাংবাদিকরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা মোতাবেক ভিআইপি গেট, অর্থাৎ শিখা চিরন্তনী গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন।

বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি আসার রুট
চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ থেকে যারা আসবেন, তারা মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার হয়ে গুলিস্তান, জিরো পয়েন্ট, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার, পলাশী হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাড়ি নিয়ে আসবেন।

ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল বিভাগ থেকে যারা বাসে আসবেন, তারা পদ্মা সেতু হয়ে বাবুবাজার ব্রিজ দিয়ে গুলিস্তান, নগর ভবনের সামনের রাস্তা, বঙ্গবাজার-সংলগ্ন রাস্তাগুলো এবং জিরো পয়েন্ট ওসমানী উদ্যান-সংলগ্ন এলাকা দিয়ে প্রবেশ করবেন।

ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে মহাখালী, মগবাজার ফ্লাইওভার, কাকরাইল চার্চের বামে মোড়-সংলগ্ন রাস্তা হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসবেন।

রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকে গাবতলী, মিরপুর রোড, সায়েন্স ল্যাব ক্রসিং, নিউ মার্কেট ক্রসিং, বামে মোড়; অথবা গাবতলী, মিরপুর রোড সায়েন্স ল্যাব ক্রসিং বামে মোড়, কাঁটাবন ক্রসিং ডানে মোড়, নীলক্ষেত ক্রসিং, পলাশী ক্রসিং হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসবেন।

বিজনেস বাংলাদেশ / বিএইচ