১০:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপির গণমিছিল ঢাকায় ৩০ ডিসেম্বর, সারা দেশে ২৪ ডিসেম্বর

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করাসহ ১০ দফা দাবিতে পূর্বঘোষিত গণমিছিল কর্মসূচি ২৪ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩০ ডিসেম্বর পালন করবে বিএনপি। তবে, ঢাকা বাদে জেলা ও মহানগরে ২৪ ডিসেম্বরই গণমিছিল হবে। পাশাপাশি বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী গণতন্ত্র মঞ্চ, ১১ দল, ৭ দল এবং জামায়াতে ইসলামীও ২৪ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩০ ডিসেম্বর পৃথকভাবে সারা দেশে গণমিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

গতকাল শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। নজরুল ইসলাম খান বলেন, যেহেতু বিএনপি সংঘাত চায় না, শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকট নিরসন করতে চায় এবং সমস্যার সমাধান চায়, আর যেহেতু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ২৪ তারিখে তাদের কাউন্সিলের কারণে আমাদের কর্মসূচি পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছেন এবং আমাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সেজন্য আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক আচরণ করতে চাই। তাই ২৪ ডিসেম্বরের কর্মসূচি আমরা পুনর্বিন্যাস করেছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেহেতু ঢাকায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে সেজন্য ২৪ তারিখে আমরা ঢাকায় গণমিছিল করব না। তবে, ঢাকা বাদে সারা দেশে গণমিছিলের যে কর্মসূচি আছে, জেলা ও মহানগরে, সেটি অব্যাহত থাকবে। আর ঢাকায় ২৪ তারিখের পরিবর্তে ৩০ তারিখে গণমিছিল করব।

‘৩০ ডিসেম্বর’কে গণমিছিলের জন্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অনির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের যে আন্দোলন, সেই লড়াইয়ে জনগণকে ৩০ ডিসেম্বর স্মরণ করিয়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০১৮ সালের এই তারিখে দিনের ভোট রাতে করে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সেজন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী ৩০ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগরীতে আমাদের ১০ দফা দাবির আলোকে যে লড়াই, সেই লড়াই এগিয়ে নিতে গণমিছিল করব।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আবদুস সালাম আজাদ, সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুপ্রমুখ।

৩০ ডিসেম্বর গণমিছিল-সমাবেশ করবে গণতন্ত্র মঞ্চ

সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে গণতন্ত্র মঞ্চ। আগামী ৩০ ডিসেম্বর সারা দেশে গণমিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বরকে কালো দিন বিবেচনায় নিয়ে সারা দেশে গণমিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করবে গণতন্ত্র মঞ্চ। তিনি বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চ অতীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালন করেছি। তাই ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করব এবং এখান থেকে গণমিছিল শুরু করব। সরকার পতনের দাবিতে লাগাতার কর্মসূচি দেবেন কিনা এ প্রশ্নে মান্না বলেন, এখন পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচিতে আন্দোলনে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। পরবর্তী কর্মসূচি যথাসময়ে জানানো হবে। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন স্বপন, গণ অধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম প্রমুখ।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বেলুচিস্তানে ৪০ ঘণ্টার নিরাপত্তা অভিযানে ১৪৫ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত

বিএনপির গণমিছিল ঢাকায় ৩০ ডিসেম্বর, সারা দেশে ২৪ ডিসেম্বর

প্রকাশিত : ০৪:৫০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২২

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করাসহ ১০ দফা দাবিতে পূর্বঘোষিত গণমিছিল কর্মসূচি ২৪ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩০ ডিসেম্বর পালন করবে বিএনপি। তবে, ঢাকা বাদে জেলা ও মহানগরে ২৪ ডিসেম্বরই গণমিছিল হবে। পাশাপাশি বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী গণতন্ত্র মঞ্চ, ১১ দল, ৭ দল এবং জামায়াতে ইসলামীও ২৪ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩০ ডিসেম্বর পৃথকভাবে সারা দেশে গণমিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

গতকাল শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। নজরুল ইসলাম খান বলেন, যেহেতু বিএনপি সংঘাত চায় না, শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকট নিরসন করতে চায় এবং সমস্যার সমাধান চায়, আর যেহেতু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ২৪ তারিখে তাদের কাউন্সিলের কারণে আমাদের কর্মসূচি পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছেন এবং আমাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সেজন্য আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক আচরণ করতে চাই। তাই ২৪ ডিসেম্বরের কর্মসূচি আমরা পুনর্বিন্যাস করেছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেহেতু ঢাকায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে সেজন্য ২৪ তারিখে আমরা ঢাকায় গণমিছিল করব না। তবে, ঢাকা বাদে সারা দেশে গণমিছিলের যে কর্মসূচি আছে, জেলা ও মহানগরে, সেটি অব্যাহত থাকবে। আর ঢাকায় ২৪ তারিখের পরিবর্তে ৩০ তারিখে গণমিছিল করব।

‘৩০ ডিসেম্বর’কে গণমিছিলের জন্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অনির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের যে আন্দোলন, সেই লড়াইয়ে জনগণকে ৩০ ডিসেম্বর স্মরণ করিয়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০১৮ সালের এই তারিখে দিনের ভোট রাতে করে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সেজন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী ৩০ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগরীতে আমাদের ১০ দফা দাবির আলোকে যে লড়াই, সেই লড়াই এগিয়ে নিতে গণমিছিল করব।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আবদুস সালাম আজাদ, সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুপ্রমুখ।

৩০ ডিসেম্বর গণমিছিল-সমাবেশ করবে গণতন্ত্র মঞ্চ

সরকার ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে গণতন্ত্র মঞ্চ। আগামী ৩০ ডিসেম্বর সারা দেশে গণমিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বরকে কালো দিন বিবেচনায় নিয়ে সারা দেশে গণমিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করবে গণতন্ত্র মঞ্চ। তিনি বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চ অতীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালন করেছি। তাই ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করব এবং এখান থেকে গণমিছিল শুরু করব। সরকার পতনের দাবিতে লাগাতার কর্মসূচি দেবেন কিনা এ প্রশ্নে মান্না বলেন, এখন পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচিতে আন্দোলনে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। পরবর্তী কর্মসূচি যথাসময়ে জানানো হবে। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন স্বপন, গণ অধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম প্রমুখ।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh