চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলাকে মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এসময় কর্মরত সাংবাদিকদেরও হেনস্তা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলা শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ১০০ তম দিনের আন্দোলন করতে সকাল ১০ টায় শহীদ মিনারে অবস্থান নেয় । এসময় ছত্রভঙ্গ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ ভিএক্স এবং বাংলার মুখ আন্দোলনে বাধা প্রদান করে।
চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে, শিক্ষার্থীদের ২২ দফা আন্দোলন পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে ফেরার আন্দোলনে রুপ নেয়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ব্যানার ফেস্টুন কেড়ে নিয়ে চড় থাপ্পড় মারেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মারজান আকতার বলেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা যখন আন্দোলনকারীদের বাধা দিচ্ছিল তখন পেশাগত দায়িত্ব হিসবে তার ফুটেজ নিচ্ছিলাম। এসময় ছাত্রলীগের ভিএক্স গ্রুপের নেতাকর্মীরা এসে আমাকে আটকায় এবং ভিডিও ডিলিট করার জন্য জোর করতে থাকে। আমি ডিলিট করতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে নিরাপত্তাজনিত হুমকি প্রদান করে।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বাধার মুখে ছত্রভঙ্গ হওয়ার পর আন্দোলনকারীরা জিরো পয়েন্টে (স্মরণ চত্বর) এসে অবস্থান নেন। তাদের প্রতি অন্যায় হয়েছে এ কথাগুলো সাংবাদিকদের জানায় শিক্ষার্থীরা। এরপর প্রক্টর অফিসের সামনে গিয়ে স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারী চারুকলার ১৮-১৯ শেসনের ছাত্রী পায়েল দে বলেন, আজ আমাদের আন্দোলনের শততম দিন। বিগত দিনের মতো আজকেও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে শহিদ মিনারে অবস্থান নিয়েছিলাম। হঠাৎ করে একদল লোক এসে আমাদের থেকে ব্যানার, ফেস্টুন কেড়ে নেয় এবং আমাদের আন্দোলন বন্ধের জন্য হুমকি দিয়ে শহিদ মিনার থেকে বের করে দেয়। আমি মনে করি তারা প্রশাসনের মদদে এটা করেছে। আজকে সেই শিক্ষক, প্রশাসন কোথায় যারা বলে শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানের মতো? আজকে আমরা লাঞ্ছিত, মার খাচ্ছি তারপরও প্রশাসনের কোন ধরনের সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেই।
চারুকলার শিক্ষার্থী মেহেদী আজকের বিজনেস বাংলাদেশ বলেন, ছাত্রলীগ বলতেছে আমরা টাকার বিনিময়ে আন্দোলন করছি। কিন্তু আমরা এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি। আপনারা দেখেছেন তারা কিভাবে আমাদের সাথে আচরণ করেছে, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছি। আমারা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমাদের সাথে এমন ব্যবহারের জন্য। সাংবাদিকদের বলে, আপনারা পাশে থাকলে আমরা আমাদের আন্দোলন সফলভাবে সম্পন্ন করবো।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ভিএক্স গ্রুপের নেতা মারুফ আহমেদ বলেন, চারুকলার আন্দোলনে আমাদের কিছু ছেলে অংশগ্রহণ করেছিল। আমরা তাদেরকে ফিরিয়ে আনার জন্য ওখানে গিয়েছিলাম। আমাদের ছেলেদের বাইরে আমরা কাউকে কোনো প্রকার বাধা দেই নি।
সাংবাদিক হেনস্তার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সাংবাদিককে প্রথমে সাধারণ শিক্ষার্থী মনে করেছিলাম। তাই ভিডিও ডিলিট করতে বলি। কিন্তু তিনি যখন সাংবাদিক পরিচয় দিয়েছেন তখন আমরা আর কিছু বলি নি।
রিপোর্ট পাঠানোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাউকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে দেখা যায় নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়াকে ফোন করা হলে তিনি এ ধরনের কোনো ঘঠনা শুনেন নি বলে জানান। তিনি বলেন, আমি বায়োলজি ফ্যাকাল্টিতে একটি মিটিংয়ে আছি। এ ধরনের কোনো কিছু শুনি নি। কেউ কোনো অভিযোগও দেয় নি। আমি খবর নিচ্ছি।






















