০৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রত্যাশা

স্লুইসগেটের যুগে প্রবেশ করল চট্টগ্রাম। জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই স্লুইসগেটের কারণে সাগরের জোয়ারের পানি নগরীতে প্রবেশ করতে পারবে না। এতে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রত্যাশা চট্টগ্রাম মহানগরীর।

জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের ৩৪ ব্রিগেড। এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়োজিত প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মো. শাহ্ আলী ।‘এই স্লুইসগেটের কারণে চট্টগ্রামের বিরাট একটি এলাকায় জোয়ারের পানি উঠবে না। অগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের সময় ভর দুপুরেও রাস্তায় পানি ওঠে, কিন্তু এখন আর তা হবে না। একই সঙ্গে হালিশহর কে ব্লক, এল ব্লক, শান্তিবাগ, ছোটপুল পুলিশ লাইনস প্রভৃতি এলাকায়ও আর জোয়ারের পানি উঠবে না।’

মঙ্গলবার (২ মে) দুপুরে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ৩৪ কনস্ট্রাকশন বিগ্রেডের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান প্রকল্পটির পরিচালক ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মো. শাহ আলী।

তিনি আরও বলেন, ‘মহেশ খালের ওপর নির্মিত এই স্লুইসগেটের কারণে সাগরের জোয়ারের পানি প্রবেশ করতে পারবে না। এ ছাড়া জোয়ারের সময় স্লুইসগেট বন্ধ থাকলে গেটের ভেতরের পানি অপসারণ করতে সেকেন্ডে ৫৫ হাজার লিটার পানি অপসারণ ক্ষমতার তিনটি পাম্প বসাচ্ছি। তাই এখন আর জলাবদ্ধতার শঙ্কা নেই।’

কিন্তু আগ্রাবাদ এলাকায় পানি না উঠলেও গতকাল শনিবার সকালের সামান্য বৃষ্টিতে কাপাসগোলা, বাদুরতলা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুরসহ প্রভৃতি এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা হয়েছে। এসব এলাকার কী অবস্থা হবে জানতে চাইলে লে. কর্নেল মো. শাহ্ আলী বলেন, ‘মেগা প্রকল্পের আওতায় ৩৬টির মধ্যে ২০টি খালের কাজ শেষ করেছি। এসব খালের মাটিও (খালে রিটেনিং দেয়াল দেওয়ার সময় মাটি দিয়ে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল) প্রায় অপসারণের পথে রয়েছে। যেগুলোতে মাটি রয়েছে, সেগুলো মধ্য এপ্রিলের মধ্যে অপসারণ করা হবে। কিন্তু বাকি ১৬টি খালে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু না করায় সেগুলোতে রিটেনিং দেয়াল নির্মাণকাজ থমকে রয়েছে। ফলে ওই সব এলাকায় পানি জমছে।’

তাহলে কি বাকলিয়া, কাপাসগোলা, বাদুরতলা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চান্দগাঁওসহ আশপাশের এলাকাগুলোয় জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ যাবে না? এমন প্রশ্নের জবাবে লে. কর্নেল মো. শাহ্ আলী বলেন, ‘এসব এলাকায় পানি নামতে পারে না বলে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। খালের উভয় পাড়ে ভূমি অধিগ্রহণ হলে আমরা রিটেনিং ওয়াল নির্মাণ করতে পারলে পানি চলাচলের রাস্তা সুগম হবে। তখন আর পানি আটকাবে না।’

এদিকে মেগা প্রকল্পের আওতায় মহেশখাল ছাড়াও সদরঘাট ও ফিরিঙ্গীবাজার এলাকার কলাবাগিচা খাল, মরিয়ম বিবি খাল, টেকপাড়া খাল ও ফিরিঙ্গীবাজার খালে স্লুইসগেট বসানো হয়েছে এবং সেগুলো চালু রয়েছে। এসব খালে দুই বেন্ডের স্লুইসগেট হলেও মহেশখালে ১২টি বেন্ডের স্লুইসগেট। স্লুইসগেট বসাতেই খরচ হয়েছে ১৭৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে মহেশখালে ১৩৫ কোটি এবং বাকিগুলোর প্রতিটিতে ১০ কোটি করে। মহেশখালে নৌকা চলাচলের জন্য নেভিগেশন চ্যানেলও রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাস্তবায়নকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্রীজ, কালভার্ট ও রোড সাইড ড্রেনের কাজ শতভাগ শেষ হলেও খালের মুখে রেগুলেটর বসানোর কাজ শেষ হয়েছে ৯৮ শতাংশ। এছাড়া রিটানিং ওয়ালের কাজ ৬৭.০৫ শতাংশ, সিল্ট ট্রেপ নির্মাণ কাজ ৩০.৯৫ শতাংশ, খাল পাড়ের রাস্তা নির্মাণ ১৮.৯০ শতাংশ এবং ফুটপাত নির্মাণের কাজ ১১ শতাংশ শেষ হয়েছে।

ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মো. শাহ আলী শাহ আলী জানান, এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি যে কাজগুলো আছে তা বাকি সময়ের মধ্যে শেষ করা যাবে। গত বছরগুলোতে নগরে যেভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল তা এবার আরও কমে আসবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার পাশে যেসব খাল বা নালা রয়েছে তার কাজ শতাভাগ শেষ করা হয়েছে। বর্ষার আগে খালগুলো পরিস্কার করে দিলে নগরবাসীকে ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।

তিনি বলেন, শুধু খাল বা নালা প্রশস্ত করলে হবে না, নগরবাসীকে আরও সচেতন হতে হবে। বাসা বাড়ির বিভিন্ন ধরণের বর্জ্য বিশেষ করে পলিথিন জাতীয় বস্তু যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না। কারণ এ ধরণে বস্তুগুলো পানি চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি করে। তাই এ ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত।

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনটি প্রকল্প চলমান। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্পের আওতায় ৫টি, সিডিএর অপর প্রকল্প চাক্তাই থেকে কালুরঘাট চার লেন রোড নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১২টি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন পতেঙ্গা থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত স্লুইসগেট ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে ২৩টি স্লুইসগেট রয়েছে। তিন প্রকল্পের ৪০টি স্লুইসগেটের মধ্যে মেগা প্রকল্পের আওতায় ৫টির কাজ শেষ হয়েছে। সিডিএর ১২টির মধ্যে ৫টির এ বছর চালু হওয়ার কথা রয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় কোনো অগ্রগতি নেই। সিডিএর ৫টি চালু করা প্রসঙ্গে চাক্তাই থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত রোড নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব দাশ বলেন, ‘আমাদের ১২টির মধ্যে ১০টির কাজ শেষ। এর মধ্যে চাক্তাই ও রাজাখালীসহ ৫টি স্লুইসগেট এ বছর চালু করে দেব।’

প্রকৌশলীদের মতে, ৪০টি স্লুইসগেট একই সঙ্গে সচল না হলে জলাবদ্ধতা থেকে শিগগিরই মুক্তি পাবে না চট্টগ্রাম। তারপরও মেগা প্রকল্প ও সিডিএর প্রকল্পের আওতায় থাকা ১৭টি স্লুইসগেট একসঙ্গে চালু হলে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ অনেকটা কমে আসত।

উল্লেখ্য, ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় চট্টগ্রামের জলাদ্ধতা নিরসনের মেগা প্রকল্পটি ২০১৭ সালের আগস্টে একনেকে অনুমোদন পায়। সিডিএ এ প্রকল্পটির অনুমোদন পেলেও মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়নের জন্য ২০১৮ সালের এপ্রিলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির আওতায় সেনাবাহিনী মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করবে। কিন্তু দুই দফায় সময় বৃদ্ধি হলেও এখনো প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। ২০২১ সালে সংশোধিত আকারে প্রকল্পটি পুনরায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলেও এখনো একনেকে অনুমোদন পায়নি। এই প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের ৫৭টির মধ্যে ৩৬টি খাল সংস্কার ও উন্নয়নকাজ করবে সেনাবাহিনী। বাকি খালগুলোতে সিটি করপোরেশন তাদের নিয়মিত মেইনটেন্যান্স কাজগুলো করবে। প্রকল্পের আওতাধীন ৩৬টির মধ্যে পুরোদমে শেষ হয়েছে প্রায় ২০টি খালের কাজ। এসব খাল খনন, মাটি অপসারণ, রিটেনিং দেয়াল নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তবে খালের উভয় পাশে রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি। আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকা এই প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৩৬টি খাল বিএস শিট অনুযায়ী আগের অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, খালের উভয় পাশে ১৫ ফুট চওড়া রোড ও খালের মুখে ৫টি স্লুইসগেট বসানো, ৪২টি সিল্ট ট্র্যাপ (বালু জমার স্থান), ৩টি জলাধার নির্মাণ, ৩৬টি খাল খননের মাধ্যমে ৫ লাখ ২৮ হাজার ২১৪ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন, ৪২ লাখ ঘনমিটার কাদা অপসারণ, নতুন করে ১০ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ, ১ লাখ ৭৬ হাজার মিটার দীর্ঘ রিটেনিং দেয়াল নির্মাণ এবং খালের উভয় পাশে ৮৫ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করার কাজ রয়েছে। তবে সংশোধিত ডিপিপিতে এসব উপাত্তে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ৩৪ কনস্ট্রাকশন বিগ্রেডের ডিজি বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাসুদ রহমান প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস, নির্বাহী প্রকৌশলী আহম্মদ মইনুদ্দিন, কাজী কাদের নেওয়াজ, সিডিএ বোর্ড মেম্বার ও সিডিএ উদ্ধর্তন কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ছাত্রদলের নতুন কমিটির আলোচনায় বারবার গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আবু হান্নান তালুকদার

জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রত্যাশা

প্রকাশিত : ০৯:৩৩:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ মে ২০২৩

স্লুইসগেটের যুগে প্রবেশ করল চট্টগ্রাম। জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই স্লুইসগেটের কারণে সাগরের জোয়ারের পানি নগরীতে প্রবেশ করতে পারবে না। এতে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রত্যাশা চট্টগ্রাম মহানগরীর।

জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের ৩৪ ব্রিগেড। এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়োজিত প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মো. শাহ্ আলী ।‘এই স্লুইসগেটের কারণে চট্টগ্রামের বিরাট একটি এলাকায় জোয়ারের পানি উঠবে না। অগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের সময় ভর দুপুরেও রাস্তায় পানি ওঠে, কিন্তু এখন আর তা হবে না। একই সঙ্গে হালিশহর কে ব্লক, এল ব্লক, শান্তিবাগ, ছোটপুল পুলিশ লাইনস প্রভৃতি এলাকায়ও আর জোয়ারের পানি উঠবে না।’

মঙ্গলবার (২ মে) দুপুরে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ৩৪ কনস্ট্রাকশন বিগ্রেডের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান প্রকল্পটির পরিচালক ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মো. শাহ আলী।

তিনি আরও বলেন, ‘মহেশ খালের ওপর নির্মিত এই স্লুইসগেটের কারণে সাগরের জোয়ারের পানি প্রবেশ করতে পারবে না। এ ছাড়া জোয়ারের সময় স্লুইসগেট বন্ধ থাকলে গেটের ভেতরের পানি অপসারণ করতে সেকেন্ডে ৫৫ হাজার লিটার পানি অপসারণ ক্ষমতার তিনটি পাম্প বসাচ্ছি। তাই এখন আর জলাবদ্ধতার শঙ্কা নেই।’

কিন্তু আগ্রাবাদ এলাকায় পানি না উঠলেও গতকাল শনিবার সকালের সামান্য বৃষ্টিতে কাপাসগোলা, বাদুরতলা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুরসহ প্রভৃতি এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা হয়েছে। এসব এলাকার কী অবস্থা হবে জানতে চাইলে লে. কর্নেল মো. শাহ্ আলী বলেন, ‘মেগা প্রকল্পের আওতায় ৩৬টির মধ্যে ২০টি খালের কাজ শেষ করেছি। এসব খালের মাটিও (খালে রিটেনিং দেয়াল দেওয়ার সময় মাটি দিয়ে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল) প্রায় অপসারণের পথে রয়েছে। যেগুলোতে মাটি রয়েছে, সেগুলো মধ্য এপ্রিলের মধ্যে অপসারণ করা হবে। কিন্তু বাকি ১৬টি খালে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু না করায় সেগুলোতে রিটেনিং দেয়াল নির্মাণকাজ থমকে রয়েছে। ফলে ওই সব এলাকায় পানি জমছে।’

তাহলে কি বাকলিয়া, কাপাসগোলা, বাদুরতলা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চান্দগাঁওসহ আশপাশের এলাকাগুলোয় জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ যাবে না? এমন প্রশ্নের জবাবে লে. কর্নেল মো. শাহ্ আলী বলেন, ‘এসব এলাকায় পানি নামতে পারে না বলে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। খালের উভয় পাড়ে ভূমি অধিগ্রহণ হলে আমরা রিটেনিং ওয়াল নির্মাণ করতে পারলে পানি চলাচলের রাস্তা সুগম হবে। তখন আর পানি আটকাবে না।’

এদিকে মেগা প্রকল্পের আওতায় মহেশখাল ছাড়াও সদরঘাট ও ফিরিঙ্গীবাজার এলাকার কলাবাগিচা খাল, মরিয়ম বিবি খাল, টেকপাড়া খাল ও ফিরিঙ্গীবাজার খালে স্লুইসগেট বসানো হয়েছে এবং সেগুলো চালু রয়েছে। এসব খালে দুই বেন্ডের স্লুইসগেট হলেও মহেশখালে ১২টি বেন্ডের স্লুইসগেট। স্লুইসগেট বসাতেই খরচ হয়েছে ১৭৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে মহেশখালে ১৩৫ কোটি এবং বাকিগুলোর প্রতিটিতে ১০ কোটি করে। মহেশখালে নৌকা চলাচলের জন্য নেভিগেশন চ্যানেলও রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাস্তবায়নকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্রীজ, কালভার্ট ও রোড সাইড ড্রেনের কাজ শতভাগ শেষ হলেও খালের মুখে রেগুলেটর বসানোর কাজ শেষ হয়েছে ৯৮ শতাংশ। এছাড়া রিটানিং ওয়ালের কাজ ৬৭.০৫ শতাংশ, সিল্ট ট্রেপ নির্মাণ কাজ ৩০.৯৫ শতাংশ, খাল পাড়ের রাস্তা নির্মাণ ১৮.৯০ শতাংশ এবং ফুটপাত নির্মাণের কাজ ১১ শতাংশ শেষ হয়েছে।

ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মো. শাহ আলী শাহ আলী জানান, এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি যে কাজগুলো আছে তা বাকি সময়ের মধ্যে শেষ করা যাবে। গত বছরগুলোতে নগরে যেভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল তা এবার আরও কমে আসবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার পাশে যেসব খাল বা নালা রয়েছে তার কাজ শতাভাগ শেষ করা হয়েছে। বর্ষার আগে খালগুলো পরিস্কার করে দিলে নগরবাসীকে ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।

তিনি বলেন, শুধু খাল বা নালা প্রশস্ত করলে হবে না, নগরবাসীকে আরও সচেতন হতে হবে। বাসা বাড়ির বিভিন্ন ধরণের বর্জ্য বিশেষ করে পলিথিন জাতীয় বস্তু যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না। কারণ এ ধরণে বস্তুগুলো পানি চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি করে। তাই এ ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত।

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনটি প্রকল্প চলমান। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্পের আওতায় ৫টি, সিডিএর অপর প্রকল্প চাক্তাই থেকে কালুরঘাট চার লেন রোড নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১২টি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন পতেঙ্গা থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত স্লুইসগেট ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে ২৩টি স্লুইসগেট রয়েছে। তিন প্রকল্পের ৪০টি স্লুইসগেটের মধ্যে মেগা প্রকল্পের আওতায় ৫টির কাজ শেষ হয়েছে। সিডিএর ১২টির মধ্যে ৫টির এ বছর চালু হওয়ার কথা রয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় কোনো অগ্রগতি নেই। সিডিএর ৫টি চালু করা প্রসঙ্গে চাক্তাই থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত রোড নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব দাশ বলেন, ‘আমাদের ১২টির মধ্যে ১০টির কাজ শেষ। এর মধ্যে চাক্তাই ও রাজাখালীসহ ৫টি স্লুইসগেট এ বছর চালু করে দেব।’

প্রকৌশলীদের মতে, ৪০টি স্লুইসগেট একই সঙ্গে সচল না হলে জলাবদ্ধতা থেকে শিগগিরই মুক্তি পাবে না চট্টগ্রাম। তারপরও মেগা প্রকল্প ও সিডিএর প্রকল্পের আওতায় থাকা ১৭টি স্লুইসগেট একসঙ্গে চালু হলে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ অনেকটা কমে আসত।

উল্লেখ্য, ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় চট্টগ্রামের জলাদ্ধতা নিরসনের মেগা প্রকল্পটি ২০১৭ সালের আগস্টে একনেকে অনুমোদন পায়। সিডিএ এ প্রকল্পটির অনুমোদন পেলেও মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়নের জন্য ২০১৮ সালের এপ্রিলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির আওতায় সেনাবাহিনী মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করবে। কিন্তু দুই দফায় সময় বৃদ্ধি হলেও এখনো প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। ২০২১ সালে সংশোধিত আকারে প্রকল্পটি পুনরায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলেও এখনো একনেকে অনুমোদন পায়নি। এই প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের ৫৭টির মধ্যে ৩৬টি খাল সংস্কার ও উন্নয়নকাজ করবে সেনাবাহিনী। বাকি খালগুলোতে সিটি করপোরেশন তাদের নিয়মিত মেইনটেন্যান্স কাজগুলো করবে। প্রকল্পের আওতাধীন ৩৬টির মধ্যে পুরোদমে শেষ হয়েছে প্রায় ২০টি খালের কাজ। এসব খাল খনন, মাটি অপসারণ, রিটেনিং দেয়াল নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তবে খালের উভয় পাশে রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি। আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকা এই প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৩৬টি খাল বিএস শিট অনুযায়ী আগের অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, খালের উভয় পাশে ১৫ ফুট চওড়া রোড ও খালের মুখে ৫টি স্লুইসগেট বসানো, ৪২টি সিল্ট ট্র্যাপ (বালু জমার স্থান), ৩টি জলাধার নির্মাণ, ৩৬টি খাল খননের মাধ্যমে ৫ লাখ ২৮ হাজার ২১৪ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন, ৪২ লাখ ঘনমিটার কাদা অপসারণ, নতুন করে ১০ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ, ১ লাখ ৭৬ হাজার মিটার দীর্ঘ রিটেনিং দেয়াল নির্মাণ এবং খালের উভয় পাশে ৮৫ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করার কাজ রয়েছে। তবে সংশোধিত ডিপিপিতে এসব উপাত্তে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ৩৪ কনস্ট্রাকশন বিগ্রেডের ডিজি বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাসুদ রহমান প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস, নির্বাহী প্রকৌশলী আহম্মদ মইনুদ্দিন, কাজী কাদের নেওয়াজ, সিডিএ বোর্ড মেম্বার ও সিডিএ উদ্ধর্তন কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh