০২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে অলি গলিতে ড্রেনের পানি, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

নারায়ণগঞ্জ সিটিকরপোরেশনের নাসিক ৭ নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী মধ্যপাড়াসহ এলাকায় কয়েকটি সড়ক সব সময় ড্রেনের পচাঁ দূগন্ধ ময়লা পানিতে তলিয়ে থাকে। ফলে এলাকাবাসীকে ময়লাযুক্ত পচাঁ পানি ভেঙ্গে প্রতিনিয়তই যাতায়াত করতে হচ্ছে। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর।
ওই নোংরা পানি ভেঙ্গে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী, পোষাক কারখানার শ্রমিক, কর্মজীবি পেশাজীবিসহ সর্বসাধারন যাতায়াত করার ক্ষেত্রে সীমাহিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাসিক ৭ নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জের কমদমতলী মধ্যপাড়া, বায়তুল আশা জামে মসজিদ রোড, নয়া পাড়া, মহাসিনের মোড়ের গলিতে খালপাড় এলাকায় ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।
কদমতলী স্থানীয় বাসিন্দ, মোসা. নাসরিন বেগম বলেন, প্রতিদিনই পচাঁ, দূগন্ধ যুক্ত পানি মাড়িয়ে আমাদের ছেলে মেয়েরা স্কুল কলেজে যায় অনেকেরই পানিবাহিত রোগ দিয়েছে, তাছাড়া পচা পানি মাড়িয়ে তারা প্রতিদিন স্কুল কলেজে যেতে চাইছেনা। আল্প বৃষ্টি হলে ড্রেন ভরে যায়, ড্রেন থেকে পানি ডিএনডির শাখা খালে যেতে পারে না এর ফলে ওই পানি ৫/৭ দিন জমে থাকে আমাদের বাড়ীর সামনের গলিতে।

একই এলাকার আরেক স্থানীয় বাসিন্দ, মোসা. রাহিমা বেগম বলেন, বাসাবাড়ির যাবতীয় পানি সবাই সিটিকরপোরেশনের করা ড্রেনের সাথে সংযুক্ত করেছে । কিন্তু ড্রেন দিয়ে পানি ডিএনডির শাখা খালে যাচ্ছেনা। কারণ ডিএনডির শাখা খালগুলো কচুরীপানা লতাপাতা, বিভিন্ন কলকারখার বর্জ্যসহ পানি চলাচল অনেকাংশে বন্ধ রয়েছে। যার কারণে ড্রেনের পানি ডিএনডির শাখা খালে যেতে পারছেনা ফলে ড্রেনের পানি ড্রেন ছাপিয়ে সড়ক তলিয়ে যাচ্ছে।

বায়তুল আশা জামে মসজিদ এলাকার জনৈক ব্যক্তি তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডিএনডি খাল ময়লা আবর্জনা ও কচুরীপানায় টুইটুম্বুর থাকার কারণে আবাসিক এলাকার ড্রেনের পানি খালে যেতে পারছেনা অপদিকে ডিএনডির খালের চেয়ে সিটিকরপোরেশনের অনেক ড্রেন নিচু হওয়ায় ড্রেনের পানি খালে যাচ্ছেনা।

আব্দুর রহমান নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, এমনিতেই ময়লা পানিতে আমাদের এই গলির সড়ক ডুবে যায় তার পর যদি এক পসলা বৃষ্টি হয় তখন ওই সড়কে পানিচলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় ফলে সড়ক ২-৩ ফুট পানিতে ডুবে থাকে। তখন নৌকা ছাড়া চলাচল করা যায়না। সামনে বর্ষা মৌসুম অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন অনেকেই। বর্ষা মৌসুমে এই এলাকার অনেকেরই বাসা বাড়িও পানিতে ডুবে যায়।
বায়তুল আশা জামে মসজিে নামায পড়তে আসা মুসুল্লী আব্দুল হক বলেন, বাসা থেকে ওজু করে মসজিদে নামাজ পড়তে এসে ড্রেনের ময়লা পানি ভেঙ্গে মসজিদে নামায পড়লে তা কতটুকু সহিশুদ্ধ হচ্ছে জানিনা তবে এ অবস্থা কতদিন চলবে তাও তিনি জানেনা।

তিনি বলেন, মসজিদের মুসুল্লীরাই ভুক্তভোগী নয় এই পচাপানির দুর্ভোগে প্রতিনিয়তই ভুগছে এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দ। রাস্তায় পচাঁ পানির কারণে অনেকেই ভাড়া বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটিকরপোরেশনের ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান রিপন বলেন, ২০১৪ সালে ওই এলাকার রাস্তা ও ড্রেন যখন করা হয়েছে তখন তা লেভেল ম্যানটেইন করা হয়নি। ডিএনডি খালের চেয়ে রাস্তা ও ড্রেন নিচু হওয়ার কারণে ড্রেনের পানি খালে যেতে না পেরে রাস্তায় উপচে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসীর দূর্ভোগের কথা ভেবে ইতিমধ্যে আমার ৭ নং ওয়ার্ডের যে সকল রাস্তা ও ড্রেন খালের লেভেলের চেয়ে নিচু রয়েছে সেসব রাস্তা ও ড্রেন ২ ফিট উচু করার জন্য মেয়র মহোদয়ের কাছে আবেন করেছি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ dh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রাজধানীতে ভোটের দিনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, মোতায়েন স্পেশাল ইউনিট

সিদ্ধিরগঞ্জে অলি গলিতে ড্রেনের পানি, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

প্রকাশিত : ০৫:৪৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০২৩

নারায়ণগঞ্জ সিটিকরপোরেশনের নাসিক ৭ নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী মধ্যপাড়াসহ এলাকায় কয়েকটি সড়ক সব সময় ড্রেনের পচাঁ দূগন্ধ ময়লা পানিতে তলিয়ে থাকে। ফলে এলাকাবাসীকে ময়লাযুক্ত পচাঁ পানি ভেঙ্গে প্রতিনিয়তই যাতায়াত করতে হচ্ছে। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর।
ওই নোংরা পানি ভেঙ্গে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী, পোষাক কারখানার শ্রমিক, কর্মজীবি পেশাজীবিসহ সর্বসাধারন যাতায়াত করার ক্ষেত্রে সীমাহিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাসিক ৭ নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জের কমদমতলী মধ্যপাড়া, বায়তুল আশা জামে মসজিদ রোড, নয়া পাড়া, মহাসিনের মোড়ের গলিতে খালপাড় এলাকায় ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।
কদমতলী স্থানীয় বাসিন্দ, মোসা. নাসরিন বেগম বলেন, প্রতিদিনই পচাঁ, দূগন্ধ যুক্ত পানি মাড়িয়ে আমাদের ছেলে মেয়েরা স্কুল কলেজে যায় অনেকেরই পানিবাহিত রোগ দিয়েছে, তাছাড়া পচা পানি মাড়িয়ে তারা প্রতিদিন স্কুল কলেজে যেতে চাইছেনা। আল্প বৃষ্টি হলে ড্রেন ভরে যায়, ড্রেন থেকে পানি ডিএনডির শাখা খালে যেতে পারে না এর ফলে ওই পানি ৫/৭ দিন জমে থাকে আমাদের বাড়ীর সামনের গলিতে।

একই এলাকার আরেক স্থানীয় বাসিন্দ, মোসা. রাহিমা বেগম বলেন, বাসাবাড়ির যাবতীয় পানি সবাই সিটিকরপোরেশনের করা ড্রেনের সাথে সংযুক্ত করেছে । কিন্তু ড্রেন দিয়ে পানি ডিএনডির শাখা খালে যাচ্ছেনা। কারণ ডিএনডির শাখা খালগুলো কচুরীপানা লতাপাতা, বিভিন্ন কলকারখার বর্জ্যসহ পানি চলাচল অনেকাংশে বন্ধ রয়েছে। যার কারণে ড্রেনের পানি ডিএনডির শাখা খালে যেতে পারছেনা ফলে ড্রেনের পানি ড্রেন ছাপিয়ে সড়ক তলিয়ে যাচ্ছে।

বায়তুল আশা জামে মসজিদ এলাকার জনৈক ব্যক্তি তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডিএনডি খাল ময়লা আবর্জনা ও কচুরীপানায় টুইটুম্বুর থাকার কারণে আবাসিক এলাকার ড্রেনের পানি খালে যেতে পারছেনা অপদিকে ডিএনডির খালের চেয়ে সিটিকরপোরেশনের অনেক ড্রেন নিচু হওয়ায় ড্রেনের পানি খালে যাচ্ছেনা।

আব্দুর রহমান নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, এমনিতেই ময়লা পানিতে আমাদের এই গলির সড়ক ডুবে যায় তার পর যদি এক পসলা বৃষ্টি হয় তখন ওই সড়কে পানিচলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় ফলে সড়ক ২-৩ ফুট পানিতে ডুবে থাকে। তখন নৌকা ছাড়া চলাচল করা যায়না। সামনে বর্ষা মৌসুম অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন অনেকেই। বর্ষা মৌসুমে এই এলাকার অনেকেরই বাসা বাড়িও পানিতে ডুবে যায়।
বায়তুল আশা জামে মসজিে নামায পড়তে আসা মুসুল্লী আব্দুল হক বলেন, বাসা থেকে ওজু করে মসজিদে নামাজ পড়তে এসে ড্রেনের ময়লা পানি ভেঙ্গে মসজিদে নামায পড়লে তা কতটুকু সহিশুদ্ধ হচ্ছে জানিনা তবে এ অবস্থা কতদিন চলবে তাও তিনি জানেনা।

তিনি বলেন, মসজিদের মুসুল্লীরাই ভুক্তভোগী নয় এই পচাপানির দুর্ভোগে প্রতিনিয়তই ভুগছে এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দ। রাস্তায় পচাঁ পানির কারণে অনেকেই ভাড়া বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটিকরপোরেশনের ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান রিপন বলেন, ২০১৪ সালে ওই এলাকার রাস্তা ও ড্রেন যখন করা হয়েছে তখন তা লেভেল ম্যানটেইন করা হয়নি। ডিএনডি খালের চেয়ে রাস্তা ও ড্রেন নিচু হওয়ার কারণে ড্রেনের পানি খালে যেতে না পেরে রাস্তায় উপচে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসীর দূর্ভোগের কথা ভেবে ইতিমধ্যে আমার ৭ নং ওয়ার্ডের যে সকল রাস্তা ও ড্রেন খালের লেভেলের চেয়ে নিচু রয়েছে সেসব রাস্তা ও ড্রেন ২ ফিট উচু করার জন্য মেয়র মহোদয়ের কাছে আবেন করেছি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ dh