০৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকায় পুকুর সেঁচে র‍্যাবের অভিযানে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও অশুভ তৎপরতায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসী ও চোরাচালান চক্র। নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করে তোলতে, আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে গোপনে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করা হচ্ছে—এমনই এক ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে কুমিল্লায় র‍্যাবের সর্বশেষ অভিযানে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারী) ভোরে কুমিল্লা সদর উপজেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা কটকবাজার এলাকায় একটি (ডোবা) পুকুর সেঁচে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে র‍্যাব-১১। গোপন সংবাদ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভোরবেলা থেকেই র‍্যাবের একটি বিশেষ দল পুকুরটিকে ঘিরে ফেলে এবং সেচ দিয়ে তলদেশে লুকানো অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।

র‍্যাব-১১ কুমিল্লা কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, পুকুরটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র সাড়ে ৩০০ মিটার দূরে অবস্থিত। এই ভৌগোলিক অবস্থানই প্রমাণ করে যে অস্ত্রগুলো সীমান্তপথে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে বলে শক্তিশালী ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় টানা ছয় ঘণ্টার অভিযানে পুকুরের তলদেশ থেকে সাদা বস্তা ও স্কচটেপে মোড়ানো একাধিক পিস্তল, বন্দুক এবং দুই বস্তাভর্তি দেশীয় ও বিদেশি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন,“মঙ্গলবার ভোর থেকেই আমরা অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান শুরু করি। পুকুরের তলায় অত্যন্ত কৌশলে এসব অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও নাশকতার উদ্দেশ্যেই এই বিপুল অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, অস্ত্রগুলো যেভাবে প্যাকেটজাত করে রাখা হয়েছিল, তাতে স্পষ্ট বোঝা যায়—এগুলো দ্রুত তুলে ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত রাখা ছিল। অর্থাৎ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেই সন্ত্রাসীরা যাতে দ্রুত এসব অস্ত্র হাতে পায়, সেই লক্ষ্যেই এ গোপন মজুত গড়ে তোলা হয়েছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী কটকবাজার এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ও অপরাধচক্রের নিরাপদ রুট হিসেবে পরিচিত। ভারত সীমান্তের এত কাছাকাছি একটি পুকুরে বিপুল অস্ত্র মজুত থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যেও চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

র‍্যাব জানায়, এই অস্ত্রগুলো কারা এনেছে, কোন চক্র এর সঙ্গে জড়িত এবং নির্বাচনের সময় কোথায় ও কীভাবে এগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল তা খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনে সীমান্ত এলাকা, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং চোরাচালান নেটওয়ার্কগুলোকেও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

র‍্যাব-১১ জানিয়েছে, কুমিল্লাসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে নির্বাচনের পরিবেশ কোনোভাবেই সন্ত্রাসী বা অপরাধচক্রের হাতে জিম্মি না হয়ে পড়ে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকায় পুকুর সেঁচে র‍্যাবের অভিযানে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশিত : ০৪:২৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও অশুভ তৎপরতায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসী ও চোরাচালান চক্র। নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করে তোলতে, আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে গোপনে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করা হচ্ছে—এমনই এক ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে কুমিল্লায় র‍্যাবের সর্বশেষ অভিযানে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারী) ভোরে কুমিল্লা সদর উপজেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা কটকবাজার এলাকায় একটি (ডোবা) পুকুর সেঁচে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে র‍্যাব-১১। গোপন সংবাদ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভোরবেলা থেকেই র‍্যাবের একটি বিশেষ দল পুকুরটিকে ঘিরে ফেলে এবং সেচ দিয়ে তলদেশে লুকানো অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।

র‍্যাব-১১ কুমিল্লা কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, পুকুরটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র সাড়ে ৩০০ মিটার দূরে অবস্থিত। এই ভৌগোলিক অবস্থানই প্রমাণ করে যে অস্ত্রগুলো সীমান্তপথে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে বলে শক্তিশালী ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় টানা ছয় ঘণ্টার অভিযানে পুকুরের তলদেশ থেকে সাদা বস্তা ও স্কচটেপে মোড়ানো একাধিক পিস্তল, বন্দুক এবং দুই বস্তাভর্তি দেশীয় ও বিদেশি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন,“মঙ্গলবার ভোর থেকেই আমরা অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান শুরু করি। পুকুরের তলায় অত্যন্ত কৌশলে এসব অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও নাশকতার উদ্দেশ্যেই এই বিপুল অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, অস্ত্রগুলো যেভাবে প্যাকেটজাত করে রাখা হয়েছিল, তাতে স্পষ্ট বোঝা যায়—এগুলো দ্রুত তুলে ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত রাখা ছিল। অর্থাৎ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেই সন্ত্রাসীরা যাতে দ্রুত এসব অস্ত্র হাতে পায়, সেই লক্ষ্যেই এ গোপন মজুত গড়ে তোলা হয়েছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী কটকবাজার এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ও অপরাধচক্রের নিরাপদ রুট হিসেবে পরিচিত। ভারত সীমান্তের এত কাছাকাছি একটি পুকুরে বিপুল অস্ত্র মজুত থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যেও চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

র‍্যাব জানায়, এই অস্ত্রগুলো কারা এনেছে, কোন চক্র এর সঙ্গে জড়িত এবং নির্বাচনের সময় কোথায় ও কীভাবে এগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল তা খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনে সীমান্ত এলাকা, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং চোরাচালান নেটওয়ার্কগুলোকেও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

র‍্যাব-১১ জানিয়েছে, কুমিল্লাসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে নির্বাচনের পরিবেশ কোনোভাবেই সন্ত্রাসী বা অপরাধচক্রের হাতে জিম্মি না হয়ে পড়ে।

ডিএস./