০৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আনোয়ারায় স্ত্রী লাশ গুমের ঘটনার ১৪ বছর পলাতক আসামি আটক

চট্টগ্রামে আনোয়ারা উপজেলায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা ও লাশ গুমের অপরাধে ১৪ বছরের পলাতক আসামি মামুনুর রশীদ (৫০) আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৭)।

আটক মামুনুর রশীদ (৫০) কৈখাইন আব্দুল শুক্কুরের পুত্র।

ভিকটিমের মা বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানায় ঘাতক স্বামী মামুনুর রশীদকে ১নং আসামী করে সঙ্গীয় আরো ০৮ জন নামীয় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-০২(১১)০৯, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোদন-০৩) এর ১১(ক)/৩০ তৎসহ পেনাল কোড ২০১।

২০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৩টা চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন ব্রীজঘাট এলাকায় অবস্থানের গোপন সংবাদ ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

জানা যায়, নিহত ভিকটিম কলি আক্তার বরগুনা জেলার তালতলী থানাধীন নিদ্রারচর এলাকার বাসিন্দা। সে গত ২০০২ সালের জুন মাসে চট্টগ্রামে এসে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে চাকুরী করে আসছিল। চাকুরী করাকালীন আসামী মামুনুর রশীদ এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং ভিকটিম তার পরিবারের কাউকে না জানিয়ে গত ২০০৫ সালের ফেব্রয়ারি মাসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২৬ মে ২০০৯ইং তারিখে বিকাল আনুমানিক ১৫০০ ঘটিকায় ভিকটিমের মা ফোন করে ভিকটিম কলি আক্তারের খবর জানতে চাইলে ঘাতক স্বামী মামুনুর রশীদ জানায় ভিকটিম কলি আক্তার ডায়রিয়ায় আক্তান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর ঘাতক মামুনুর রশীদ মোবাইল ফোনে ভিকটিমের মা’কে জানায় তার মেয়ে ভিকটিম কলি আক্তার ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং দাফন-কাফনও শেষ। নিহত ভিকটিম কলি আক্তারের পিতা-মাতাকে না জানিয়ে দাফন করার কারন জিজ্ঞাসা করলে ঘাতক স্বামী মামুনুর রশীদ কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। এ ব্যাপারে ভিকটিমের পরিবার আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে যৌতুকের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ভিকটিম কলি আক্তারকে অমানুষিক নির্যাতন করে গত ২৬ মে ২০০৯ তারিখে হত্যা করে এবং হত্যার আলামত গোপন করার জন্য তাড়াহুড়া করে কাউকে না জানিয়ে দাফন করে ফেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবসার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে, বর্ণিত হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী ঘাতক স্বামী মামুনুর রশীদ চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন ব্রীজঘাট এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল আসামিকে আটক করেন।পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে বর্ণিত হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১নং পলাতক আসামী মর্মে স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আনোয়ারা থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি সোহেল আহমেদ জানান, যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা ও লাশ গুমের অপরাধে ১৪ বছরের পলাতক আসামি র‍্যাব- ৭ আটক করে থানায় হস্তান্তর করে। যা কোর্টে বিচারাধীন। আসামি বিরুদ্ধে আরো ২টা মামলার ওয়ারেন্ট থাকায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামে পরিবর্তনের রূপকার: ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল আজিজকে ঘিরে গণজোয়ার

আনোয়ারায় স্ত্রী লাশ গুমের ঘটনার ১৪ বছর পলাতক আসামি আটক

প্রকাশিত : ০৮:১০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০২৩

চট্টগ্রামে আনোয়ারা উপজেলায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা ও লাশ গুমের অপরাধে ১৪ বছরের পলাতক আসামি মামুনুর রশীদ (৫০) আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৭)।

আটক মামুনুর রশীদ (৫০) কৈখাইন আব্দুল শুক্কুরের পুত্র।

ভিকটিমের মা বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানায় ঘাতক স্বামী মামুনুর রশীদকে ১নং আসামী করে সঙ্গীয় আরো ০৮ জন নামীয় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-০২(১১)০৯, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোদন-০৩) এর ১১(ক)/৩০ তৎসহ পেনাল কোড ২০১।

২০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৩টা চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন ব্রীজঘাট এলাকায় অবস্থানের গোপন সংবাদ ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

জানা যায়, নিহত ভিকটিম কলি আক্তার বরগুনা জেলার তালতলী থানাধীন নিদ্রারচর এলাকার বাসিন্দা। সে গত ২০০২ সালের জুন মাসে চট্টগ্রামে এসে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে চাকুরী করে আসছিল। চাকুরী করাকালীন আসামী মামুনুর রশীদ এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং ভিকটিম তার পরিবারের কাউকে না জানিয়ে গত ২০০৫ সালের ফেব্রয়ারি মাসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২৬ মে ২০০৯ইং তারিখে বিকাল আনুমানিক ১৫০০ ঘটিকায় ভিকটিমের মা ফোন করে ভিকটিম কলি আক্তারের খবর জানতে চাইলে ঘাতক স্বামী মামুনুর রশীদ জানায় ভিকটিম কলি আক্তার ডায়রিয়ায় আক্তান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর ঘাতক মামুনুর রশীদ মোবাইল ফোনে ভিকটিমের মা’কে জানায় তার মেয়ে ভিকটিম কলি আক্তার ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং দাফন-কাফনও শেষ। নিহত ভিকটিম কলি আক্তারের পিতা-মাতাকে না জানিয়ে দাফন করার কারন জিজ্ঞাসা করলে ঘাতক স্বামী মামুনুর রশীদ কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। এ ব্যাপারে ভিকটিমের পরিবার আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে যৌতুকের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ভিকটিম কলি আক্তারকে অমানুষিক নির্যাতন করে গত ২৬ মে ২০০৯ তারিখে হত্যা করে এবং হত্যার আলামত গোপন করার জন্য তাড়াহুড়া করে কাউকে না জানিয়ে দাফন করে ফেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবসার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে, বর্ণিত হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী ঘাতক স্বামী মামুনুর রশীদ চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন ব্রীজঘাট এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল আসামিকে আটক করেন।পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে বর্ণিত হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১নং পলাতক আসামী মর্মে স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আনোয়ারা থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি সোহেল আহমেদ জানান, যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা ও লাশ গুমের অপরাধে ১৪ বছরের পলাতক আসামি র‍্যাব- ৭ আটক করে থানায় হস্তান্তর করে। যা কোর্টে বিচারাধীন। আসামি বিরুদ্ধে আরো ২টা মামলার ওয়ারেন্ট থাকায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh