০৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চবিতে হলুদ দলের আলোচনা সভা

জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ (হলুদ দল)।

রবিবার (২৭ আগস্ট) চবির সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাসবিদ ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস এর বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষাবিদ ও চবি কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহীবুল আজিজ। তিনি বলেন, ‘১৯৬৬ সালে ছয়দফা দাবির মাধ্যমে বুঝা যায় তিনি একজন রাষ্ট্র নায়ক হবেন, বাঙালি হিসেবে আমরা এটা অনেক আগেই বুঝেছি। বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলার জন্য একটা প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়। বাংলাদেশের শত্রুরা তাকে হত্যা করে।’

বঙ্গবন্ধুর শাসনামল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু তার শাসনামলে মোট ৫৯৩ টি আইন পাস করেন। তিনি চেয়েছিলেন কৃষিজাত পণ্য থেকে রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করবেন। তার চিন্তা ছিল কৃষির মাধ্যমে শিল্পায়নের দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। বঙ্গবন্ধু কৃষিকে সবসময় প্রধান্য দিয়েছেন। তিনি বাঙালি সংস্কৃতির জন্য বেশ অবদান রেখেছেন। বঙ্গবন্ধু বলে গিয়েছেন বাঙালি সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে পারলেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বার্থকতা।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি ২০১৪ সাল থেকে বঙ্গবন্ধুর হত্যার ঘটনা অনুসন্ধানে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করার জন্য কথা বলছি। দেশ, জাতি ও বিশ্বকে ১৫ আগস্ট সম্পর্কে জানানো দরকার। তা না হলে আবারও ২১ আগস্টের মতো ঘটনা ঘটবে বারবার। তদন্ত কমিটি যে প্রতিবেদন জমা দিবে, যে শ্বেতপত্র দিবে সেটা সবাইকে জানতে হবে, জানাতে হবে। তদন্ত কমিটি না হলে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটতেই থাকবে। কারণ, বাংলাদেশ এখনও বিপদ মুক্ত নয়।

তিনি বলেন, পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে বঙ্গবন্ধু মোট ৩০৫৩ দিন জেল খেটেছেন। তিনি পাকিস্তানে আরও ৪ বছর জেলে ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশ গড়তে তিনি মোট ১৩১৪ দিন সময় পেয়েছেন। ৫৫ বছর ৪ মাস ২৯ দিন বঙ্গবন্ধু বেঁচে ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু তার শাসনামলের শুরুর দিকে ভুল করেছেন। তিনি পাকিস্তানি আমলাদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার কাজ শুরু করেন। এটা নিয়ে আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে ফিদেল কাস্ত্রো বঙ্গবন্ধুকে বলেছেন যে পাকিস্তানি আমলা দিয়ে যেন দেশ পরিচালনা না করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করতে হবে।’

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর করা কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশন ছিল আসল শিক্ষা কমিশন। এরপরে অনেক গুলো কমিশন হলেও সেগুলোর গুনগত মান ছিল না। আমিও ১৯৯৭ সালের করা শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলাম। কিন্ত, সেই কমিশনগুলো ভালো ছিল না। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন হযবরল হয়ে গেছে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. খসরুল আলম কুদ্দুসী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, জীববিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সিরাজ উদ দৌল্লাহ। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আব্দুল হক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ছাত্রদলের নতুন কমিটির আলোচনায় বারবার গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আবু হান্নান তালুকদার

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চবিতে হলুদ দলের আলোচনা সভা

প্রকাশিত : ০৮:১৭:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৩

জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ (হলুদ দল)।

রবিবার (২৭ আগস্ট) চবির সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাসবিদ ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস এর বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষাবিদ ও চবি কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহীবুল আজিজ। তিনি বলেন, ‘১৯৬৬ সালে ছয়দফা দাবির মাধ্যমে বুঝা যায় তিনি একজন রাষ্ট্র নায়ক হবেন, বাঙালি হিসেবে আমরা এটা অনেক আগেই বুঝেছি। বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলার জন্য একটা প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়। বাংলাদেশের শত্রুরা তাকে হত্যা করে।’

বঙ্গবন্ধুর শাসনামল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু তার শাসনামলে মোট ৫৯৩ টি আইন পাস করেন। তিনি চেয়েছিলেন কৃষিজাত পণ্য থেকে রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করবেন। তার চিন্তা ছিল কৃষির মাধ্যমে শিল্পায়নের দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। বঙ্গবন্ধু কৃষিকে সবসময় প্রধান্য দিয়েছেন। তিনি বাঙালি সংস্কৃতির জন্য বেশ অবদান রেখেছেন। বঙ্গবন্ধু বলে গিয়েছেন বাঙালি সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে পারলেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বার্থকতা।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি ২০১৪ সাল থেকে বঙ্গবন্ধুর হত্যার ঘটনা অনুসন্ধানে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করার জন্য কথা বলছি। দেশ, জাতি ও বিশ্বকে ১৫ আগস্ট সম্পর্কে জানানো দরকার। তা না হলে আবারও ২১ আগস্টের মতো ঘটনা ঘটবে বারবার। তদন্ত কমিটি যে প্রতিবেদন জমা দিবে, যে শ্বেতপত্র দিবে সেটা সবাইকে জানতে হবে, জানাতে হবে। তদন্ত কমিটি না হলে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটতেই থাকবে। কারণ, বাংলাদেশ এখনও বিপদ মুক্ত নয়।

তিনি বলেন, পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে বঙ্গবন্ধু মোট ৩০৫৩ দিন জেল খেটেছেন। তিনি পাকিস্তানে আরও ৪ বছর জেলে ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশ গড়তে তিনি মোট ১৩১৪ দিন সময় পেয়েছেন। ৫৫ বছর ৪ মাস ২৯ দিন বঙ্গবন্ধু বেঁচে ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু তার শাসনামলের শুরুর দিকে ভুল করেছেন। তিনি পাকিস্তানি আমলাদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার কাজ শুরু করেন। এটা নিয়ে আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে ফিদেল কাস্ত্রো বঙ্গবন্ধুকে বলেছেন যে পাকিস্তানি আমলা দিয়ে যেন দেশ পরিচালনা না করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করতে হবে।’

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর করা কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশন ছিল আসল শিক্ষা কমিশন। এরপরে অনেক গুলো কমিশন হলেও সেগুলোর গুনগত মান ছিল না। আমিও ১৯৯৭ সালের করা শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলাম। কিন্ত, সেই কমিশনগুলো ভালো ছিল না। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন হযবরল হয়ে গেছে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. খসরুল আলম কুদ্দুসী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, জীববিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সিরাজ উদ দৌল্লাহ। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আব্দুল হক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh