কক্সবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের পরিবারের দেওয়া অডিও রেকর্ডটি খতিয়ে দেখছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)।
শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।
তিনি বলেন, ‘অডিও রেকর্ডটি আমরা শুনেছি। সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
গত ২৬ মে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একরাম নিহত হয়েছে বলে দাবি করে র্যাব। বাহিনীটির দাবি, ইয়াবা চালানের লেনেদেনের খবর পেয়ে অভিযানে যায় একটি দল। সে সময় র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় র্যাব। মাদক চক্রের অন্যরা পিছু হটলে একরামুল হকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়।
ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শ্যুটার গান, ছয়টি গুলি ও পাঁচটি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও র্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে একরামুলের পরিবার।
তবে একরামুলের পরিবারের দাবি, তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ নিয়ে গত ৩১ মে টেকনাফে এক সংবাদ সম্মেলন করেন একরামুলের পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে একরামুলের স্ত্রী আয়েশা বেগম সাংবাদিকদের কাছে একটি অডিও রেকর্ড তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় দিয়ে ২৬ মে রাতে আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় আমার ও আমার মেয়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন আমার স্বামী। কথা বলার সময় তার কণ্ঠে আতঙ্ক ছিল।
এরপর থেকে আমার মোবাইলটি সারাক্ষণ খোলা ছিল। এতে আমার স্বামীর সঙ্গে আমাদের কথোপকথন রেকর্ড হচ্ছিল। আমার স্বামীকে মারার সময় তার মোবাইলটি সচল ছিল। আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।’
ঘটনা নিয়ে রেকর্ড করা অডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে অডিও এর বিষয়ে বিবিসি বাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন,ওই অডিও আমি শুনিনি। আমি না দেখেতো বলতে পারবো না যে, কি অডিও বের হয়েছে। এটা আমরা সবসময় বলছি, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বা অন্যায়ভাবে কিছু করে থাকে তাহলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
তারতো একটা ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল এনকোয়ারি হচ্ছে এবং হবে। সেখানে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তারও বিচার হবে। সেটা আমরা সবসময় বলে আসছি। কিন্তু এটা অডিও না দেখে আমি বলতে পারবো না।
উল্লেখ্য, একরামুল হক উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন ও পৌর এলাকার কায়ুকখালী গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে।






















