১২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

চবিতে ভাঙচুর : দৃশ্যমান হয়নি কার্যকরী পদক্ষেপ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাটল ট্রেনে চৌধুরী হাট এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। প্রায় দুই মাস হতে চলছে এখনও ভাঙচুরের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেও কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারে নি। বরং মামলা করা হলেও মামলার আসামীরা প্রশাসনের কাছে বিভিন্নভাবে ধরনা দিচ্ছে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য।

বটতলী থেকে ছেড়ে আসা রাত সাড়ে আটটার ট্রেন ক্যাম্পাসে আসলে প্রথমে শিক্ষার্থীরা ট্রেন চালককে মারতে গিয়ে ফিরে আসে। পরে মূল ফটকে তালা লাগানো হয় , পুলিশ বক্স ভাঙচুরের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় ভাঙচুরের ঘটনা। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পর্যাক্রমে ভাঙচুর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটি কোটি টাকার সম্পদ। ভাঙচুর শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বক্স থেকে, এরপরে ভিসির বাসভবনে গিয়ে ভাঙচুর, সবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্টে বাস এবং মাইক্রোবাস ভাঙা হয়। এতে প্রায় ৬৫ টি পরিবহন ভাঙচুর করা হয়। এই পুরো ভাঙচুরের ঘটনায় সময় লাগে প্রায় কয়েক ঘন্টার মতো। এতক্ষণ ভাঙচুর হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নিরব।

পুলিশ বলছে, হামলার ঘটনা পরিকল্পিত ছিল। নইলে এত অল্প সময়ে এভাবে ভাঙচুর করা সম্ভব নয়।
উপাচার্য ও পরিবহন দপ্তর থেকে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এতে ‘পুঁজি’ করা হয়েছে শাটল ট্রেন দুর্ঘটনাকে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের আড়ালে ছাত্রলীগ কর্মীরা ভাঙচুর করে। এদিকে মামলার এজাহারও তাই বলে। এজাহারে দেখা যায় ১৪ আসামির মধ্যে ১২ জনই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। তাঁরা ছাত্রলীগের তিন উপপক্ষ—সিএফসি, সিক্সটি নাইন ও বিজয়ের সঙ্গে যুক্ত। এরমধ্যে সিএফসি গ্রুপের পাঁচজন, সিক্সটি নাইন গ্রুপের ছয়জন ও বিজয় গ্রুপের একজন অনুসারী আছেন। বাকি দুজন নিজেদের সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে দাবি করেছেন। তাদের দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। এছাড়া হাজার খানেক অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে।

কিছুদিন আগে অর্থাৎ ২৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীকে মারধর এবং ভারপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছে চাঁদা দাবিসহ তাকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছিল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক রাজু মুন্সির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত রাজু মুন্সি ও অজ্ঞাত দুইজনের বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় মামলা করেছেন তারা। মারধরের ঘটনায় মামলা করে প্রশাসন, রাজু মুন্সিকে খুঁজলেও দেখা মেলেনি তার। পরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় শাহজালাল হলে অভিযুক্তের দখলে থাকা ৪৩৫ নম্বর রুম সিলগালা করে দেয় প্রক্টরিয়াল বডি। চাঁদার টাকা না পাওয়ায় এমন ঘটনা ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাঙচুরের দেয়া তথ্য কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবহন দপ্তরে আনুমানিক ৩০ কোটি টাকা ও কোথাও ৩৭ কোটি টাকার বাস ভাঙচুরে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের প্রধান প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন। কিন্তু বাস্তবে এতো টাকা লাগার কথা না, এই নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।

এই বিষয়ে চবি প্রক্টর ড. মোহাম্মদ নুরুল আজিম সিকদারকে কয়েকদফায় ফোন দিলেও কোন সাড়া মেলেনি।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বশির আহমেদের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি পারবো না বলতে, আমি এখন হসপিটালে।’

পরিবহন দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিনের কাছে কত কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে প্রশ্ন করলে আজকের বিজনেস বাংলাদেশ পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের প্রশাসনের মুখপাত্র রেজিস্ট্রার সাথে যোগাযোগ করেন। ওনাদের কাছে কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এটা জানতে পারবেন, ওনারা এ নিয়ে কমিটি করছে। আমাদের যা কাজ করার তা করেই যাচ্ছি। পরে দীর্ঘক্ষন ভাঙচুরের ব্যাপারে গার্ড বা কর্মচারীর তাদের অবগত করেছে কি-না জানতে চাইলে বলেন, আমাদের কর্মচারী বা গার্ডদের মারধর করেছে ফলে তারা জানাতে পারে না-ই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নূর আহমেদকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে বলেন, ‘এতদিন পর কিসের প্রশ্ন, এগুলো তো অনেক হয়ে গেছে। এগুলো লিখিত দেন, আমি এগুলি মুখস্থ তথ্য দিতে পারবো না। এগুলো সব উত্তর তো আমার জানা নাই, আপনি লিখিত চান আমি দিব।’

বিজনেস বাংলদেশ/একে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ছাত্রদলের নতুন কমিটির আলোচনায় বারবার গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আবু হান্নান তালুকদার

চবিতে ভাঙচুর : দৃশ্যমান হয়নি কার্যকরী পদক্ষেপ

প্রকাশিত : ০২:৫৭:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাটল ট্রেনে চৌধুরী হাট এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। প্রায় দুই মাস হতে চলছে এখনও ভাঙচুরের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেও কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারে নি। বরং মামলা করা হলেও মামলার আসামীরা প্রশাসনের কাছে বিভিন্নভাবে ধরনা দিচ্ছে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য।

বটতলী থেকে ছেড়ে আসা রাত সাড়ে আটটার ট্রেন ক্যাম্পাসে আসলে প্রথমে শিক্ষার্থীরা ট্রেন চালককে মারতে গিয়ে ফিরে আসে। পরে মূল ফটকে তালা লাগানো হয় , পুলিশ বক্স ভাঙচুরের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় ভাঙচুরের ঘটনা। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পর্যাক্রমে ভাঙচুর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটি কোটি টাকার সম্পদ। ভাঙচুর শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বক্স থেকে, এরপরে ভিসির বাসভবনে গিয়ে ভাঙচুর, সবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্টে বাস এবং মাইক্রোবাস ভাঙা হয়। এতে প্রায় ৬৫ টি পরিবহন ভাঙচুর করা হয়। এই পুরো ভাঙচুরের ঘটনায় সময় লাগে প্রায় কয়েক ঘন্টার মতো। এতক্ষণ ভাঙচুর হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নিরব।

পুলিশ বলছে, হামলার ঘটনা পরিকল্পিত ছিল। নইলে এত অল্প সময়ে এভাবে ভাঙচুর করা সম্ভব নয়।
উপাচার্য ও পরিবহন দপ্তর থেকে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এতে ‘পুঁজি’ করা হয়েছে শাটল ট্রেন দুর্ঘটনাকে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের আড়ালে ছাত্রলীগ কর্মীরা ভাঙচুর করে। এদিকে মামলার এজাহারও তাই বলে। এজাহারে দেখা যায় ১৪ আসামির মধ্যে ১২ জনই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। তাঁরা ছাত্রলীগের তিন উপপক্ষ—সিএফসি, সিক্সটি নাইন ও বিজয়ের সঙ্গে যুক্ত। এরমধ্যে সিএফসি গ্রুপের পাঁচজন, সিক্সটি নাইন গ্রুপের ছয়জন ও বিজয় গ্রুপের একজন অনুসারী আছেন। বাকি দুজন নিজেদের সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে দাবি করেছেন। তাদের দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। এছাড়া হাজার খানেক অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে।

কিছুদিন আগে অর্থাৎ ২৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীকে মারধর এবং ভারপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছে চাঁদা দাবিসহ তাকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছিল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক রাজু মুন্সির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত রাজু মুন্সি ও অজ্ঞাত দুইজনের বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় মামলা করেছেন তারা। মারধরের ঘটনায় মামলা করে প্রশাসন, রাজু মুন্সিকে খুঁজলেও দেখা মেলেনি তার। পরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় শাহজালাল হলে অভিযুক্তের দখলে থাকা ৪৩৫ নম্বর রুম সিলগালা করে দেয় প্রক্টরিয়াল বডি। চাঁদার টাকা না পাওয়ায় এমন ঘটনা ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাঙচুরের দেয়া তথ্য কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবহন দপ্তরে আনুমানিক ৩০ কোটি টাকা ও কোথাও ৩৭ কোটি টাকার বাস ভাঙচুরে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের প্রধান প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন। কিন্তু বাস্তবে এতো টাকা লাগার কথা না, এই নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।

এই বিষয়ে চবি প্রক্টর ড. মোহাম্মদ নুরুল আজিম সিকদারকে কয়েকদফায় ফোন দিলেও কোন সাড়া মেলেনি।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বশির আহমেদের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি পারবো না বলতে, আমি এখন হসপিটালে।’

পরিবহন দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিনের কাছে কত কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে প্রশ্ন করলে আজকের বিজনেস বাংলাদেশ পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের প্রশাসনের মুখপাত্র রেজিস্ট্রার সাথে যোগাযোগ করেন। ওনাদের কাছে কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এটা জানতে পারবেন, ওনারা এ নিয়ে কমিটি করছে। আমাদের যা কাজ করার তা করেই যাচ্ছি। পরে দীর্ঘক্ষন ভাঙচুরের ব্যাপারে গার্ড বা কর্মচারীর তাদের অবগত করেছে কি-না জানতে চাইলে বলেন, আমাদের কর্মচারী বা গার্ডদের মারধর করেছে ফলে তারা জানাতে পারে না-ই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নূর আহমেদকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে বলেন, ‘এতদিন পর কিসের প্রশ্ন, এগুলো তো অনেক হয়ে গেছে। এগুলো লিখিত দেন, আমি এগুলি মুখস্থ তথ্য দিতে পারবো না। এগুলো সব উত্তর তো আমার জানা নাই, আপনি লিখিত চান আমি দিব।’

বিজনেস বাংলদেশ/একে