১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঈশ্বরদীতে অবরোধের সমর্থনে ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাঙচুর

বিএনপি-জামায়াতের ডাকা দ্বিতীয় ধাপের অবরোধের প্রথম দিনে মূর্হুমূহু হাত বোমা বিস্ফোরণে প্রকম্পিত হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীর ব্যস্ততম রেলগেট এলাকা। রবিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রেলগেট এলাকায় পরপর অন্তত ৫ টি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১টি ট্রাক ভাংচুর ও রেললাইনের ওপর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় অবরোধের সমর্থনে লাঠিসোঠা নিয়ে মিছিলের চেষ্টা করে বিএনপির ৪০-৫০ জনের একটি দল। এরপর রেল লাইনের ওপর আগুন জ্বালিয়ে অবরোধের সমর্থনে শ্লোগান দেয় এবং একটি ট্রাকের হামলা চালিয়ে গ্লাস ভাংচুর করে। এ সময় পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে তারা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর ছয়টি ককটেল নিক্ষেপ করে। বিকট শব্দে পর পর ককটেল বিস্ফোরিত হলে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। মুহূর্তেই রেলগেট থেকে শুরু করে বাজার এবং শহরের প্রধান প্রধান সড়কের সকল দোকানপাট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় প্রাণভয়ে সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি শুরু করে।
রিকশা চালক আলী হোসেন বলেন, বিএনপির লোকজন রেলগেটে এসে পরপর পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। আশপাশ থেকে নারিকেলে ছোবা, কাগজ ও পলিথিন জড়ো করে রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
এদিকে, খবর পেয়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের শত শত নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে রেলগেটে পশ্চিমপাশে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর ব্যক্তিগত কার্যালয় ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সদস্য সচিব মেহেদি হাসানের কার্যালয় ভাংচুর করে। পরে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবরোধের বিরুদ্ধে শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে বিজিবি, উপজেলা প্রশাসন, জেলা ও স্থানীয় পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবীর কুমার দাশ বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী থানার অফিসার ইনচার্জ অরবিন্দ সরকারসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছেন। দৃষ্কৃতিকারীরা নাশকতার চেষ্টাকালে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। তাদের হামলায় পুলিশের রিকুইজিশন করা মাইক্রোবাস কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে, আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে, এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি টহল জোরদার করা হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন, ধ্বংসাত্মক রাজনীতির অংশ হিসেবে অগ্নিসন্ত্রাসীরা চোরের মত ককটেল ফাটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। বিস্ফোরণের পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।

বিসনেস বাংলাদেশ/bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ঈশ্বরদীতে অবরোধের সমর্থনে ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাঙচুর

প্রকাশিত : ০৯:৩১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৩

বিএনপি-জামায়াতের ডাকা দ্বিতীয় ধাপের অবরোধের প্রথম দিনে মূর্হুমূহু হাত বোমা বিস্ফোরণে প্রকম্পিত হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীর ব্যস্ততম রেলগেট এলাকা। রবিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রেলগেট এলাকায় পরপর অন্তত ৫ টি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১টি ট্রাক ভাংচুর ও রেললাইনের ওপর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় অবরোধের সমর্থনে লাঠিসোঠা নিয়ে মিছিলের চেষ্টা করে বিএনপির ৪০-৫০ জনের একটি দল। এরপর রেল লাইনের ওপর আগুন জ্বালিয়ে অবরোধের সমর্থনে শ্লোগান দেয় এবং একটি ট্রাকের হামলা চালিয়ে গ্লাস ভাংচুর করে। এ সময় পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে তারা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর ছয়টি ককটেল নিক্ষেপ করে। বিকট শব্দে পর পর ককটেল বিস্ফোরিত হলে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। মুহূর্তেই রেলগেট থেকে শুরু করে বাজার এবং শহরের প্রধান প্রধান সড়কের সকল দোকানপাট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় প্রাণভয়ে সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি শুরু করে।
রিকশা চালক আলী হোসেন বলেন, বিএনপির লোকজন রেলগেটে এসে পরপর পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। আশপাশ থেকে নারিকেলে ছোবা, কাগজ ও পলিথিন জড়ো করে রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
এদিকে, খবর পেয়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের শত শত নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে রেলগেটে পশ্চিমপাশে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর ব্যক্তিগত কার্যালয় ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সদস্য সচিব মেহেদি হাসানের কার্যালয় ভাংচুর করে। পরে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবরোধের বিরুদ্ধে শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে বিজিবি, উপজেলা প্রশাসন, জেলা ও স্থানীয় পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবীর কুমার দাশ বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী থানার অফিসার ইনচার্জ অরবিন্দ সরকারসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছেন। দৃষ্কৃতিকারীরা নাশকতার চেষ্টাকালে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। তাদের হামলায় পুলিশের রিকুইজিশন করা মাইক্রোবাস কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে, আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে, এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি টহল জোরদার করা হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন, ধ্বংসাত্মক রাজনীতির অংশ হিসেবে অগ্নিসন্ত্রাসীরা চোরের মত ককটেল ফাটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। বিস্ফোরণের পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।

বিসনেস বাংলাদেশ/bh