০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

চারঘাটের গাছিরা খেজুরের রস সংগ্রহে গাছ প্রস্তুত করেছে

খেজুরের রস খুবই মজাদার খাবার। প্রতি বছর স্থানীয় কৃষকরা খেজুরের রস ও গুড় প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করে। এবছর রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় ৯২ হেক্টরে ১লক্ষ ৮৪ হাজার ২৭৫টি গাছ চাষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় গাছিরা তাদের উৎপাদন ক্ষমতা সমপূর্ণ গাছ গুলো প্রস্তুত করেছে। এই মৌসুমে প্রতি গাছের রস থেকে ৮ কেজি গুড় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

অসহায়ত্যের কারনে প্রতিনিয়িত স্থানীয় কৃষকরা খেজুর রস ও গুড় তৈরীতে অনিহা প্রকাশ করছে। অধিক খরচের কারনে গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। যার কারনে প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারাচ্ছে এবং ভবিষৎ প্রজন্ম বঞ্চিত হবে এই ঐতিহ্য খাবারের তালিকা থেকে। উপজেরা কৃষি দপ্তর থেকে সরকারী কোন বরাদ্দ তাদের দেয়া হচ্ছে না। তবে কৃষি দপ্তরের ফিল্ড কর্মকর্তরা ভালো মানের খেজুরের গুড় উৎপাদনে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

উপজেলার কৃষক জাকির হোসেন বলেন, পাখি ডাকা ভোরে তাদের ঘুম থেকে উঠে শিশির ভেজা মাঠের পর মাঠ পেরিয়ে খেজুরের রস সংগ্রহ করতে হয়। সেই রস বাড়ির আঙ্গিনায় গুড় প্রস্ততের জন্য ব্যবস্থা করতে হয়। ওই সময় পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় গুড় প্রস্তত করা হয়। রস ও গুড় খুবই মজাদার খাবার। প্রতি বছর স্থানীয়সহ অনেক জেলার অতিথিরা রস খাবরের জন্য আসেন। শীতের পিঠা ও পায়েসের জন্য তারা খেজুরের গুড় ক্রয় করে নিয়ে যায়। শীতের সময় খেজুরের গুড় ছাড়া কোন পিঠা ও পায়েস তৈরী করা সম্ভব হয় না। অতি কষ্টের অর্জিত খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরী করে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না কৃষকরা। অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীদের কারনে তাদের খাটি গুড় বিক্রয়ের অযোগ্য বলে ক্রেতারা আখ্যায়িত করে। এই বিষয়ে অসাধু গুড় প্রস্তুত ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জোড় দাবি জানান স্থানীয় প্রকৃত ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা কৃষিবিদ লুৎফুন নাহার গনমাধ্যমকে বলেন, শীতের মৌসুমে খেজুরের রস ও গুড়ের তৈরী পিঠা ও পায়েসের সাদ গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। কিন্ত ওই সকল খেজুর চাষীদের জন্য সরকারী দপ্তর কতৃক কোন বরাদ্দ নেই। কৃষি দপ্তর থেকে কৃষকদের নানা ভাবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রশাসনকে নিতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, কোন ধরনের অনিয়মের খবর পেলে প্রশাসন ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করেন। কখন কখনও অভিযুক্তদের আটক করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চারঘাটের গাছিরা খেজুরের রস সংগ্রহে গাছ প্রস্তুত করেছে

প্রকাশিত : ০২:৫২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ নভেম্বর ২০২৩

খেজুরের রস খুবই মজাদার খাবার। প্রতি বছর স্থানীয় কৃষকরা খেজুরের রস ও গুড় প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করে। এবছর রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় ৯২ হেক্টরে ১লক্ষ ৮৪ হাজার ২৭৫টি গাছ চাষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় গাছিরা তাদের উৎপাদন ক্ষমতা সমপূর্ণ গাছ গুলো প্রস্তুত করেছে। এই মৌসুমে প্রতি গাছের রস থেকে ৮ কেজি গুড় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

অসহায়ত্যের কারনে প্রতিনিয়িত স্থানীয় কৃষকরা খেজুর রস ও গুড় তৈরীতে অনিহা প্রকাশ করছে। অধিক খরচের কারনে গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। যার কারনে প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারাচ্ছে এবং ভবিষৎ প্রজন্ম বঞ্চিত হবে এই ঐতিহ্য খাবারের তালিকা থেকে। উপজেরা কৃষি দপ্তর থেকে সরকারী কোন বরাদ্দ তাদের দেয়া হচ্ছে না। তবে কৃষি দপ্তরের ফিল্ড কর্মকর্তরা ভালো মানের খেজুরের গুড় উৎপাদনে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

উপজেলার কৃষক জাকির হোসেন বলেন, পাখি ডাকা ভোরে তাদের ঘুম থেকে উঠে শিশির ভেজা মাঠের পর মাঠ পেরিয়ে খেজুরের রস সংগ্রহ করতে হয়। সেই রস বাড়ির আঙ্গিনায় গুড় প্রস্ততের জন্য ব্যবস্থা করতে হয়। ওই সময় পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় গুড় প্রস্তত করা হয়। রস ও গুড় খুবই মজাদার খাবার। প্রতি বছর স্থানীয়সহ অনেক জেলার অতিথিরা রস খাবরের জন্য আসেন। শীতের পিঠা ও পায়েসের জন্য তারা খেজুরের গুড় ক্রয় করে নিয়ে যায়। শীতের সময় খেজুরের গুড় ছাড়া কোন পিঠা ও পায়েস তৈরী করা সম্ভব হয় না। অতি কষ্টের অর্জিত খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরী করে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না কৃষকরা। অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীদের কারনে তাদের খাটি গুড় বিক্রয়ের অযোগ্য বলে ক্রেতারা আখ্যায়িত করে। এই বিষয়ে অসাধু গুড় প্রস্তুত ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জোড় দাবি জানান স্থানীয় প্রকৃত ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা কৃষিবিদ লুৎফুন নাহার গনমাধ্যমকে বলেন, শীতের মৌসুমে খেজুরের রস ও গুড়ের তৈরী পিঠা ও পায়েসের সাদ গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। কিন্ত ওই সকল খেজুর চাষীদের জন্য সরকারী দপ্তর কতৃক কোন বরাদ্দ নেই। কৃষি দপ্তর থেকে কৃষকদের নানা ভাবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রশাসনকে নিতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, কোন ধরনের অনিয়মের খবর পেলে প্রশাসন ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করেন। কখন কখনও অভিযুক্তদের আটক করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে