ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের নির্বাচনী সভায় তার সমর্থকদের সঙ্গে উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও চাপাচাপিতে নুরুল ইসলাম নুরু (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। গত কাল শুক্রবার রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের পূর্ব নির্ধারিত পথসভা ছিল ছাগলনাইয়ায়। এর আগে থেকেই দলীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল। দলীয় কার্যালয়ের সামনে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেলের অনুসারীরা শ্লোগানে মুখরিত করে রাখে। তিনি ও আগামী নির্বাচনে ফেনী-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। উপজেলা শহরের জিরো পয়েন্টে আলাউদ্দিন নাসিম পথসভা শুরু করলে দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, হট্টগোল, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতি হয়।
পরে এক পক্ষ ‘পুলিশের সহায়তায়’ দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে আলাউদ্দিন নাসিমকে কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে নাসিম অনুসারী পরশুরাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল মজুমদারের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অপর পক্ষের লোকজন ভেতরে প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করলে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি শুরু হয়। এক পর্যায়ে সভা শেষ করে আলা উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী নাসিম এলাকা ত্যাগ করেন। ধাক্কা ধাক্কি ও মারামারির মধ্যে নুরুল ইসলাম নুরু নামে এক বৃদ্ধ কর্মীর মৃত্যু হয়। ছাগলনাইয়া থানার উপ-পরিদর্শক মহিম উদ্দিন জানান, নুরু কি ভাবে মারা গেছেন, তা জানা যায়নি। তবে জটলা শেষে কার্যালয়ে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আলাউদ্দিন চৌধুরী নাসিম বলেন, আগামী নির্বাচনে আমি ফেনী-১ আসনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক। আমার মতো অনেকেরই এমন ইচ্ছা রয়েছে। এরই জেরে সাময়িক অসুবিধা তৈরি করা হচ্ছে। তবে আমি মনোনয়ন পেলে সব ঠিক হয়ে যাবে, কোনো গ্রুপিং থাকবে না। এ সময় হট্টগোল, হাতা হাতি ও কর্মীর মৃত্যুকে ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল জানান, কয়েক দিন ধরে তিনি অসুস্থ। এ জন্য ছাগলনাইয়ায় যেতে পারছেন না। শুক্রবার রাতে ঘটনা কারা ঘটিয়েছে, তা তার জানা নেই বলেও তিনি জানান। তবে পার্টি অফিসে জনসভা না হলেও অফিসে বৃদ্ধের মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেছে ছাগলনাইয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সুদ্বীপ রায় পলাশ। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ছাগলনাইয়া থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।


























