১০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

এক ছড়িতে কয়েক হাজার কলা, দর্শনার্থীদের ভিড়

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের একটি পার্কের কলা গাছের এক ছড়িতে কয়েক হাজার কলা। প্রায় ৭ ফুট লম্বা এই আশ্চর্যজনক কলা গাছ দেখতে পার্কে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। ঘটনাটি ঘটেছে কাশিমপুরের লতিফপুর এলাকার মনপুরা পার্কে।

পার্ক কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা জানান, দুই বছর আগে মনপুরা পার্কে ঘুরতে এসে এক দর্শনার্থী একটি কলার চারা উপহার হিসেবে দিয়ে যান। পরে কলার চারাটি পার্কের ভেতরে রোপণ করা হলে ধীরে ধীরে ওই চারাটি বড় হয়, পরে গাছটিতে কলাও ধরে। পরে সেখান থেকেই আরেকটি কলা গাছের চারা জন্ম নেয়। সেই গাছে ৬ মাস আগে কলার ছড়ি বের হয়। ছড়িটি বড় হতে হতে প্রায় ৭ ফুট লম্বা হয়ে মাটিতে ছুঁয়ে যায়। আর ঐ ছড়িটিতেই কয়েক হাজার কলা ধরেছে। ওই গাছের কলা খেতে চম্পা কলার মতোই স্বাদ। এ ধরনের কলার ছড়ি সচরাচর দেখা যায় না।

পার্কের দর্শনার্থী রিফাত গাজী বলেন, কলার ছড়ি যে এতো বড় হয় তা আগে কখনো দেখিনি। তাও আবার এক ছড়িতে হাজার হাজার কলা। ছড়িটির নিচে জায়গা থাকলে হয়তো আরো বড় হতো। তবে অদ্ভুত এই কলার ছড়ি দেখে খুবই ভালো লাগলো।

মনপুরা পার্কের ব্যবস্থাপক জায়েদ হাসান জানান, দুই বছর আগে এক দর্শনার্থী পার্কে বেড়াতে এসে একটি কলার চারা উপহার হিসেবে দিয়ে যান। কলা চারাটি পার্কের ভেতরেই রোপণ করা হয়। কিন্তু চারাটির কোনো যত্ন নেওয়া হয়নি। পরে ওই প্রথম গাছের কলার ছড়ি থেকে এই গাছটি হয় আর এ কলা গাছের ছড়িটি বড় হতে থাকে। প্রথম গাছের কলার ছড়িও বড় হয় কিন্তু এত বড় হয়নি। এরপর এই গাছটির যত্ন নেওয়া হয়। কলা ছড়ির ভারে যাতে গাছ ভেঙে না পড়ে তাই দুটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ গাছের কলা খেতে কিছুটা টক। এখন এই কলার ছবি দেখতে আমাদের পার্কে অনেক দূর থেকেও দর্শনার্থীরা এসে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করে নিয়ে যাচ্ছেন।

গাজীপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান বলেন, আমরাও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ওই কলার ছড়িতে দুই হাজারের বেশি কলা রয়েছে। এমন কলার ছড়ি আমরাও আগে দেখিনি। তডে তুলনামূলকভাবে কিছু বেশি উৎপাদন হলে সেটিকে হাজারিকা বলে। ওই কলার ছড়ির উপরের কলাগুলো খাওয়ার উপযোগী কিন্তু নিচের কলা গুলো এখনও খাওয়ার মতো না। তবে অপেক্ষা করতে হবে নিচের কলাগুলো কেমন হয়। আমরা কৃষি গবেষণাকে বিষয়টি জানাবো। তারা গবেষণ করে সেখান থেকে নতুন জাত উদ্ভাবন করতে পারে কিনা।

বিজনেস বাংলাদেশ/এমএইচটি

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ময়মনসিংহে ৩ দিনব্যাপী কৃষি মেলা শুরু

এক ছড়িতে কয়েক হাজার কলা, দর্শনার্থীদের ভিড়

প্রকাশিত : ০৪:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৩

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের একটি পার্কের কলা গাছের এক ছড়িতে কয়েক হাজার কলা। প্রায় ৭ ফুট লম্বা এই আশ্চর্যজনক কলা গাছ দেখতে পার্কে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। ঘটনাটি ঘটেছে কাশিমপুরের লতিফপুর এলাকার মনপুরা পার্কে।

পার্ক কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা জানান, দুই বছর আগে মনপুরা পার্কে ঘুরতে এসে এক দর্শনার্থী একটি কলার চারা উপহার হিসেবে দিয়ে যান। পরে কলার চারাটি পার্কের ভেতরে রোপণ করা হলে ধীরে ধীরে ওই চারাটি বড় হয়, পরে গাছটিতে কলাও ধরে। পরে সেখান থেকেই আরেকটি কলা গাছের চারা জন্ম নেয়। সেই গাছে ৬ মাস আগে কলার ছড়ি বের হয়। ছড়িটি বড় হতে হতে প্রায় ৭ ফুট লম্বা হয়ে মাটিতে ছুঁয়ে যায়। আর ঐ ছড়িটিতেই কয়েক হাজার কলা ধরেছে। ওই গাছের কলা খেতে চম্পা কলার মতোই স্বাদ। এ ধরনের কলার ছড়ি সচরাচর দেখা যায় না।

পার্কের দর্শনার্থী রিফাত গাজী বলেন, কলার ছড়ি যে এতো বড় হয় তা আগে কখনো দেখিনি। তাও আবার এক ছড়িতে হাজার হাজার কলা। ছড়িটির নিচে জায়গা থাকলে হয়তো আরো বড় হতো। তবে অদ্ভুত এই কলার ছড়ি দেখে খুবই ভালো লাগলো।

মনপুরা পার্কের ব্যবস্থাপক জায়েদ হাসান জানান, দুই বছর আগে এক দর্শনার্থী পার্কে বেড়াতে এসে একটি কলার চারা উপহার হিসেবে দিয়ে যান। কলা চারাটি পার্কের ভেতরেই রোপণ করা হয়। কিন্তু চারাটির কোনো যত্ন নেওয়া হয়নি। পরে ওই প্রথম গাছের কলার ছড়ি থেকে এই গাছটি হয় আর এ কলা গাছের ছড়িটি বড় হতে থাকে। প্রথম গাছের কলার ছড়িও বড় হয় কিন্তু এত বড় হয়নি। এরপর এই গাছটির যত্ন নেওয়া হয়। কলা ছড়ির ভারে যাতে গাছ ভেঙে না পড়ে তাই দুটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ গাছের কলা খেতে কিছুটা টক। এখন এই কলার ছবি দেখতে আমাদের পার্কে অনেক দূর থেকেও দর্শনার্থীরা এসে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করে নিয়ে যাচ্ছেন।

গাজীপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান বলেন, আমরাও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ওই কলার ছড়িতে দুই হাজারের বেশি কলা রয়েছে। এমন কলার ছড়ি আমরাও আগে দেখিনি। তডে তুলনামূলকভাবে কিছু বেশি উৎপাদন হলে সেটিকে হাজারিকা বলে। ওই কলার ছড়ির উপরের কলাগুলো খাওয়ার উপযোগী কিন্তু নিচের কলা গুলো এখনও খাওয়ার মতো না। তবে অপেক্ষা করতে হবে নিচের কলাগুলো কেমন হয়। আমরা কৃষি গবেষণাকে বিষয়টি জানাবো। তারা গবেষণ করে সেখান থেকে নতুন জাত উদ্ভাবন করতে পারে কিনা।

বিজনেস বাংলাদেশ/এমএইচটি