০৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ন্যাশনাল ব্যাংকের নতুন পর্ষদ আতঙ্কে রয়েছে আমানতকারীরা

ঋণে অনিয়ম, আমানত সংরক্ষণে ব্যর্থতা ও সুশাসনের ঘাটতির অভিযোগে গেল বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে ব্যাংকটির আমানতকারীদের মধ্যে। শাখাগুলোতে চাপ বেড়েছে আমানত উত্তলনের। বিষয়টি স্বীকারও করেছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের দিলকুশা শাখা প্রধান। তিনি জানান, পর্ষদ পরিবর্তনের ঘটনায় আমানতকারিদের মধ্যে কিউরিসিটি (কৌতুহল) তৈরি হয়েছে। আর আমরাও আমানত ফেরত দেওয়ার জন্য অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।
সরেজমিনে রোবরার ন্যাশনাল ব্যাংকের দিলকুশা শাখায় গিয়ে দেখা যায় অন্যান্য দিনের তুলনায় লেনদেনের ভিড় বেশি। তবে কোনো কাজে ব্যাঘাত ঘটার খবর পাওয়া যায়নি। আধাঘন্টা যাবত অপেক্ষমান একজন গ্রাহক জানান টাকা তুলতে এসেছি। তবে ক্যাশ থেকে বলা হয়েছে একটু দেরি হবে। তাই অপেক্ষা করছি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা প্রধান আব্দুর রহিম আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, পর্ষদ ভাঙার খবরে আমাদের কাছেও বিভিন্ন জায়গা থেকে আমানতকারিরা ফোন দিচ্ছে না, তা না। কিন্তু আমরা তাদের বুঝাতে সমর্থ হয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো গ্রাহক টাকা তুলতে এসে ফিরে গেছেন এমন কোনো উদাহারণ নেই। অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ টাকা দেওয়ার জন্য আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ আমরা গ্রাহক পর্যায়ে বোঝাতে চাই, মালিকপক্ষ পরিবর্তন হলে ব্যাংকের অপারেশনে কোনো প্রভাব পড়ে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ন্যাশনাল ব্যাংকের বিতরণকৃত মোট ঋণের পরিমাণ ৪২ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে, যা মোট ঋণের ৩২ শতাংশ। এছাড়া ১৩ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতিতে রয়েছে ব্যাংকটি। এখন দুই হাজার ২৪ হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে দুর্নীতিগ্রস্থ এই ব্যাংক।

ন্যাশনাল ব্যাংকের ফাইন্যন্সিয়াল স্টেটমেন্ট বলছে, সেপ্টেম্বর শেষে ৪৮ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকার আমানত জমা হয়েছে ব্যাংকটিতে।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে নতুন করে গঠন করা পর্ষদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার। যিনি বর্তমানে মেঘনা ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া পরিচালক হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম, সাউথইস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামাল হোসেন, খলিলুর রহমান, পারভিন হক সিকদার, শফিকুর রহমান ও মোয়াজ্জেম হোসেন। নতুন পরিচালনা পর্ষদে স্থান পেয়েছেন আগের পরিচালনা পর্ষদের তিনজন পরিচালক। বাকি পরিচালকদের অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক জানান, আগের পর্ষদে মোট পরিচালক ছিলেন আটজন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক আদেশে জানিয়েছে, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক ‘ঋণনিয়মাচার ও বিধিবিধান লঙ্ঘন করে ঋণ অনুমোদন প্রদান করা, পর্ষদ কর্তৃক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ করা, পর্ষদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংকের শেয়ার একই পরিবারে কেন্দ্রীভূত করা, পরিচালক নির্বাচন বা পুনর্নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি, পর্ষদের গোচরে পরিচালকগণ কর্তৃক আর্থিক অনিয়ম সংঘটন, পর্ষদের নীতিনির্ধারণী দুর্বলতার কারণে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতি, ব্যাংকিং সুশাসন ও শৃঙ্খলা বিঘ্ন করার মাধ্যমে ব্যাংক-কোম্পানি ও আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে পর্ষদ কর্তৃক সম্পৃক্ত থাকার ঘটনা ঘটেছে।’ ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১–এর ৪৭ (১) এবং ৪৮ (১) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও জনস্বার্থে ন্যাশনাল ব্যাংকের বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশে বলা হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

ন্যাশনাল ব্যাংকের নতুন পর্ষদ আতঙ্কে রয়েছে আমানতকারীরা

প্রকাশিত : ০৪:৫০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩

ঋণে অনিয়ম, আমানত সংরক্ষণে ব্যর্থতা ও সুশাসনের ঘাটতির অভিযোগে গেল বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে ব্যাংকটির আমানতকারীদের মধ্যে। শাখাগুলোতে চাপ বেড়েছে আমানত উত্তলনের। বিষয়টি স্বীকারও করেছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের দিলকুশা শাখা প্রধান। তিনি জানান, পর্ষদ পরিবর্তনের ঘটনায় আমানতকারিদের মধ্যে কিউরিসিটি (কৌতুহল) তৈরি হয়েছে। আর আমরাও আমানত ফেরত দেওয়ার জন্য অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।
সরেজমিনে রোবরার ন্যাশনাল ব্যাংকের দিলকুশা শাখায় গিয়ে দেখা যায় অন্যান্য দিনের তুলনায় লেনদেনের ভিড় বেশি। তবে কোনো কাজে ব্যাঘাত ঘটার খবর পাওয়া যায়নি। আধাঘন্টা যাবত অপেক্ষমান একজন গ্রাহক জানান টাকা তুলতে এসেছি। তবে ক্যাশ থেকে বলা হয়েছে একটু দেরি হবে। তাই অপেক্ষা করছি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা প্রধান আব্দুর রহিম আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, পর্ষদ ভাঙার খবরে আমাদের কাছেও বিভিন্ন জায়গা থেকে আমানতকারিরা ফোন দিচ্ছে না, তা না। কিন্তু আমরা তাদের বুঝাতে সমর্থ হয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো গ্রাহক টাকা তুলতে এসে ফিরে গেছেন এমন কোনো উদাহারণ নেই। অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ টাকা দেওয়ার জন্য আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ আমরা গ্রাহক পর্যায়ে বোঝাতে চাই, মালিকপক্ষ পরিবর্তন হলে ব্যাংকের অপারেশনে কোনো প্রভাব পড়ে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ন্যাশনাল ব্যাংকের বিতরণকৃত মোট ঋণের পরিমাণ ৪২ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে, যা মোট ঋণের ৩২ শতাংশ। এছাড়া ১৩ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতিতে রয়েছে ব্যাংকটি। এখন দুই হাজার ২৪ হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে দুর্নীতিগ্রস্থ এই ব্যাংক।

ন্যাশনাল ব্যাংকের ফাইন্যন্সিয়াল স্টেটমেন্ট বলছে, সেপ্টেম্বর শেষে ৪৮ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকার আমানত জমা হয়েছে ব্যাংকটিতে।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে নতুন করে গঠন করা পর্ষদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার। যিনি বর্তমানে মেঘনা ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া পরিচালক হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম, সাউথইস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামাল হোসেন, খলিলুর রহমান, পারভিন হক সিকদার, শফিকুর রহমান ও মোয়াজ্জেম হোসেন। নতুন পরিচালনা পর্ষদে স্থান পেয়েছেন আগের পরিচালনা পর্ষদের তিনজন পরিচালক। বাকি পরিচালকদের অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক জানান, আগের পর্ষদে মোট পরিচালক ছিলেন আটজন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক আদেশে জানিয়েছে, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক ‘ঋণনিয়মাচার ও বিধিবিধান লঙ্ঘন করে ঋণ অনুমোদন প্রদান করা, পর্ষদ কর্তৃক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ করা, পর্ষদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংকের শেয়ার একই পরিবারে কেন্দ্রীভূত করা, পরিচালক নির্বাচন বা পুনর্নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি, পর্ষদের গোচরে পরিচালকগণ কর্তৃক আর্থিক অনিয়ম সংঘটন, পর্ষদের নীতিনির্ধারণী দুর্বলতার কারণে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতি, ব্যাংকিং সুশাসন ও শৃঙ্খলা বিঘ্ন করার মাধ্যমে ব্যাংক-কোম্পানি ও আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে পর্ষদ কর্তৃক সম্পৃক্ত থাকার ঘটনা ঘটেছে।’ ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১–এর ৪৭ (১) এবং ৪৮ (১) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও জনস্বার্থে ন্যাশনাল ব্যাংকের বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশে বলা হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh