০৮:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

চোলাইমদ উৎপন্ন না করার শপথ নিলেন আদিবাসী নারীরা

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের বলদিপুকুর মমিনপুর আদিবাসী সাঁওতাল পল্লী চোলাইমদ আর হাঁড়িয়ার জন্য বিখ্যাত। এবার বিখ্যাত এ পল্লীর আদিবাসী নারীরা শপথ নিয়েছেন চোলাইমদ উৎপন্ন না করার।

যুগের পর যুগ চলে আসা তাদের নিজেদের রীতিতে তৈরি নেশা জাতীয় পানি (হাঁড়িয়া) ও চোলাইমদ উৎপন্ন, সেবন এবং বিক্রি থেকে নিজেদের কোনো ভাবে দুরে রাখতে পারছিলেন না তারা। মাদক সেবীদের কারণে মমিনপুর গ্রামটি শান্তিপুর উপাধি লাভ করতে যাচ্ছিলো। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়েও মাদক বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। বরং বেড়েই চলছিলো খুন,ধর্ষণ, চুরিসহ নানান অপরাধ প্রবণতা।

প্রশাসনিক নজরদারি এবং সামাজিক আন্দোলনেও যখন মাদক বন্ধ হচ্ছিলো না, তখন মিলন টপ্য নামে এক আদিবাসী যুবকের লাশ পুকুরের পানিতে ভেসে উঠার পর আদিবাসী মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ব্যবসা বন্ধে নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে চোলাই মদ এবং হাঁড়িয়া উৎপন্ন বন্ধে একজোট হয়। নিজেরা শপথ করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাঁচাতে তাঁরা মাদক কারবার থেকে দুরে থাকবেন। অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে মৃত্যুহার ঠেকাতে একে অপরকে সহযোগিতা করবেন। কৃষি এবং শ্রমিকের কাজ করবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আদিবাসী নারী জানান, এই পাড়ায় ১৭ টি আদিবাসী পরিবার রয়েছে। চোলাই মদ উৎপন্ন এবং সেবনের কারণে তাদের প্রত্যেক পরিবার স্বামী নতুবা সন্তান হারিয়েছেন। এই পাড়ায় যে কয়েকজন পুরুষ বেঁচে আছেন তাঁরাও বিভিন্ন রোগশোকে ভুগছেন। তাই নিজেদের সন্তানদের বাঁচাতে তাদের এমন উদ্যোগ।

ইউপি সদস্য ওয়াজেদ আলী জানান, আমরা তাদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করা হবে।

মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, যাঁরা মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে তাদের প্রশাসন সব সময় সহযোগিতা করবে।

ইউপি চেয়ারম্যান আবু ফরহাদ পুটু জানান, আমরা তাদের সরকারি সুযোগ সুবিধা দিয়ে জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করবো।

বিজনেস বাংলাদেশ/এমএইচটি

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

চোলাইমদ উৎপন্ন না করার শপথ নিলেন আদিবাসী নারীরা

প্রকাশিত : ০৫:২২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৪

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের বলদিপুকুর মমিনপুর আদিবাসী সাঁওতাল পল্লী চোলাইমদ আর হাঁড়িয়ার জন্য বিখ্যাত। এবার বিখ্যাত এ পল্লীর আদিবাসী নারীরা শপথ নিয়েছেন চোলাইমদ উৎপন্ন না করার।

যুগের পর যুগ চলে আসা তাদের নিজেদের রীতিতে তৈরি নেশা জাতীয় পানি (হাঁড়িয়া) ও চোলাইমদ উৎপন্ন, সেবন এবং বিক্রি থেকে নিজেদের কোনো ভাবে দুরে রাখতে পারছিলেন না তারা। মাদক সেবীদের কারণে মমিনপুর গ্রামটি শান্তিপুর উপাধি লাভ করতে যাচ্ছিলো। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়েও মাদক বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। বরং বেড়েই চলছিলো খুন,ধর্ষণ, চুরিসহ নানান অপরাধ প্রবণতা।

প্রশাসনিক নজরদারি এবং সামাজিক আন্দোলনেও যখন মাদক বন্ধ হচ্ছিলো না, তখন মিলন টপ্য নামে এক আদিবাসী যুবকের লাশ পুকুরের পানিতে ভেসে উঠার পর আদিবাসী মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ব্যবসা বন্ধে নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে চোলাই মদ এবং হাঁড়িয়া উৎপন্ন বন্ধে একজোট হয়। নিজেরা শপথ করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাঁচাতে তাঁরা মাদক কারবার থেকে দুরে থাকবেন। অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে মৃত্যুহার ঠেকাতে একে অপরকে সহযোগিতা করবেন। কৃষি এবং শ্রমিকের কাজ করবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আদিবাসী নারী জানান, এই পাড়ায় ১৭ টি আদিবাসী পরিবার রয়েছে। চোলাই মদ উৎপন্ন এবং সেবনের কারণে তাদের প্রত্যেক পরিবার স্বামী নতুবা সন্তান হারিয়েছেন। এই পাড়ায় যে কয়েকজন পুরুষ বেঁচে আছেন তাঁরাও বিভিন্ন রোগশোকে ভুগছেন। তাই নিজেদের সন্তানদের বাঁচাতে তাদের এমন উদ্যোগ।

ইউপি সদস্য ওয়াজেদ আলী জানান, আমরা তাদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করা হবে।

মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, যাঁরা মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে তাদের প্রশাসন সব সময় সহযোগিতা করবে।

ইউপি চেয়ারম্যান আবু ফরহাদ পুটু জানান, আমরা তাদের সরকারি সুযোগ সুবিধা দিয়ে জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করবো।

বিজনেস বাংলাদেশ/এমএইচটি