০৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

ঋণ বিতরণে এসএমই খাতে টার্গেট বেশি: আব্দুল জব্বার

সু-শাসন প্রতিষ্ঠায় জিরো ট্রলারেন্স নীতি ও এসএমই খাতেকে টার্গেট করে কাজ করে যাচ্ছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক গুলোর মধ্যে অন্যতম জনতা ব্যাংক পিএলসি। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জব্বার ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এমডির দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি বছরে রেকর্ড ভঙ্গ করে খেলাপি ঋণ আদায় করতে চায় ব্যাংকটির পরিচালক। ব্যাংটির বর্তমান অবস্থা ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় বিজনেস বাংলাদেশের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক নাজমুল ইসলাম।

বিজনেস বাংলাদেশ: বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলোর প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ। খেলাপি আদায়ে আপনাদের ভূমিকা কেমন?

আব্দুল জব্বার: আমাদের খেলাপি ঋণ প্রতিনিয়ত বেড়েই যাচ্ছিল। কিভাবে খেলাপি ঋণের তথ্য উম্মুক্ত করা যায়। তা আগে প্রকাশ করাটাই ছিল প্রধান কাজ। খেলাপী আদায়ে আমাদের কোন গোপনীয়তা ছিলনা।

এটাকে হয়তো অন্যভাবে কমানো যেত খেলাপি না করে। সেই জায়গা থেকে আমরা বললাম না আমরা তা করব না। প্রকৃত যেটা সেটাই চলে আসল। এরপর যখন খেলাপি করা হয়ে যায় তখন তো গ্রাহকরা বলবে রেগুলার না থাকলে ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে না। আমি একটা পয়েন্টে খুব স্ট্রং ছিলাম যে আমি কোনো অবস্থাতেই সুযোগ দিতে রাজি না। ব্যাংককে ঘুরায়ে ফিরায়ে কোনো কিছু করতে রাজি না। গ্রাহকের কাছে যখন এই বার্তাটা যাবে তখন বাধ্য হয়ে টাকা দিতে থাকবে। গ্রাহকদেরকে কঠোর বার্তা দেওয়ার কারণে পরে তারা দেখল যে আর টাকা না দিয়ে উপায় নাই। ব্যাংক অ্যাকশনে যাচ্ছে তখন তারা বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছে। আমরা তাদেরকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে সিস্টেমে আসতে হবে। সিস্টেমের বাইরে যাওয়া যাবে না। খেলাপিদের তালিকায় অনেক রাঘোব বোয়ালও থাকে। তাদেরকেও একই ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়েছে। অনেক বড় বড় গ্রাহকদের কাছ থেকে আমরা টাকা আদায় করেছি।

বিজনেস বাংলাদেশ: বর্তমানে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কি লক্ষ্যে কাজ করছেন?

আব্দুল জব্বার: আমরা এখন ছোট লোনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। বিশেষ করে এসএমই খাতে আমাদের টার্গেট বেশি। কারণ বড় লোন যেটা সেখান থেকে রিটার্ন আনা কঠিন। কর্মসংস্থান বলে, প্রফিট বলেন, জিডিপি বলেন, যাই বলেন না কেন একটা ইন্ডাস্ট্রি স্টাবলিস্ট হতে ২-৩ বছর লেগে যায়। এজন্য আমরা ছোট লোনে গুরুত্ব দিচ্ছি বেশি। উদ্যোক্তা তৈরি না হলে বাণিজ্য সৃষ্টি হয় না। আমি এই জিনিসটাকে খুব পজিটিভলি দেখি। কোনো উদ্যোক্তা আসলে আমি তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করি।

বিজনেস বাংলাদেশ: ব্যাংককে এগিয়ে নিতে কিভাবে কাজ করছেন?

আব্দুল জব্বার: আমি আসার পরে প্রথমেই আমরা ১০১ দিনের একটা কর্মসূচি হাতে নেই। এটাই ছিল আমার মূল ভিত্তি। এখন পর্যন্ত যেটাই অর্জন হয়েছে এটার মাধ্যমেই হয়েছে। সবাইকে কাজে সম্পৃক্ত করার সুযোগ হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে এটাকে খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। তাদের সাধ্যমত তারা কাজ করেছে। এজন্য আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। যেখানে প্রতিষ্ঠান ঝিমিয়ে গেছিল, সেই জায়গাটাতে সবাই সেই জায়গাতে তারা কাজ করছে। আমার একটা নির্দেশনা ছিল অ্যাকচুয়াল যে পজিশন যেটা সেটাই বের করে আনতে হবে। বাড়লে বাড়বে, কমলে কমবে।

বিজনেস বাংলাদেশ : জনতা ব্যাংকের বর্তমান আমানতের কি অবস্থা?

আব্দুল জব্বার: বর্তমানে জনতা ব্যাংকের প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার মতো আমানত রয়েছে। ডিপোজিট বাড়বে কমবে এটা স্বাভাবিক। আমি যখন আসি তখন আমানত ছিল ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা। আমি আসার একশ এক দিনের কর্মসূচি নেওয়ার পরে ডিপোজিট বেশ বাড়ল। ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি পর্যন্ত হয়। আবার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ যখন হয়, তখন সরকারি ফান্ডগুলো ব্যাবহৃত হয়, আমার এখানেও গভমেন্ট ফান্ডগুলো ছিল। এখন সরকার বিভিন্ন কারণে তা নিয়ে যায়, পেমেন্ট করে, অন্যান্য কাজে লাগায়, বছরের শেষে দিকে কিংবা অর্থ বছরের শেষের দিকে এসে উত্থান পতন ঘটে। আবার বাড়ে। এভাবেই চলে। যেমন এ বছরের শুরুতে আবার বাড়ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ : গত বছরের তুলনায় এ বছর কি পরিমাণ খেলাপি ঋণ কমানোর টার্গেট ছিল? আপনারা কেমন আদায়ে সক্ষম হয়েছেন?

আব্দুল জব্বার: আমাদের পরিকল্পনাটা বিভিন্নভাবে নেওয়া হয়। কিছু পরিকল্পনা থাকে পাঁচ বছরের, কিছু থাকে ১০ বছরের। আমরা আশা করছি আমরা চার বছরের মধ্যে খেলাপি ঋণ সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসব। সরকার যদি আদায়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর হয়। সেক্ষেত্রে আরও কম সময় লাগতে পারে। তারা যে টাকা নিয়েছে সেটা ইনভেস্ট করেছে। তারা তো সেটা পাচার করেনি। সেটা থেকে রেভিনিউ করেই তারা টাকাটা দিবে। এজন্য সময় লাগে। এখন খেলাপি ঋণ ১৬ পার্সেন্ট আছে। প্রতি বছর ১-২ পাসেন্ট এর মতো টার্গেট থাকে। ২০২৪ সালের মধ্যে ১৪ পার্সেন্টে আনা যায় কি না এর পর পর্যায়ক্রমে ১৩-১২ এভাবে চার-পাঁচ বছরের মধ্যে এটাকে সিঙ্গেল ডিজিটে আনার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। চলতি বছরে আমরা সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ আদায় করতে চাই। আমরা রেকর্ড ভাংতে চাই। আমি আশাবাদি কারণ এ বছরের শুরুতে আমরা অপ্রত্যাশিত কিছু আদায় করেছি। বিভিন্ন জায়গায় আমরা যাচ্ছি। আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

বিজনেস বাংলাদেশ: চলমান ডলার সংকট ও তারল্য সংকটে কিভাবে কাজ করে যাচ্ছেন?

আব্দুল জব্বার: চলমান যে ডলার সংকট এটা শুধু জাতীয় সমস্যাই না, বিশ্বব্যাপি একটা সমস্যা। আমরা প্রথমে ভাবছিলাম কোভিটের পরে হয়তো ভালো হবে। কোভিটের পরপরই রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হল। সাইপ্লাই চেইনে সমস্যা হয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবসা বাণিজ্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এটা তো সবাই জানে। ফলে ডলার সংকট আমাদের দেশেও চলে আসে। রেমিট্যান্স কমে যায়। আমাদের ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় সবথেকে বেশি আমদানি করে। সরকারের যে সাপোর্ট, সার, তেল সরকারের অন্যান্য সংস্থার বিশেষ আমদানি এগুলো ম্যাক্সিমামই জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে হয়ে থাকে। আমরা এই সংকট কালেও এই কাজগুলো করে যাচ্ছি। যেভাবে হোক ডলার আমরা ম্যানেজ করি। বাইরে থেকে রেমিট্যান্স আনার জন্য ক্যাম্পিং করি। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় দ্বিগুণ রেমিট্যান্স এসেছে। আর তারল্য সংকটের বিষয়টা হচ্ছে, দেশের বর্তমান ৬২ ব্যাংকেই তারল্য সংকট আছে। সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকেই আছে। এটা আমরা বিভিন্নভাবে সমাধান করি। এটা তো সবসময় হয় না। মাঝেমধ্যে যখন হয় তখন আন্ত ব্যাংক একটা লেনদেন সিস্টেম আছে। আমরা বিভিন্নভাবে এটাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করি। তবে আমদের আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো অবস্থা তৈরি হয়নাই।

বিজনেস বাংলাদেশ : দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো বাধা বা চাপের সম্মুখিন হয়েছেন কি না?

আব্দুল জব্বার: আমি কোনো চাপ অনুভব করি না। আমাকে কেউ চাপ দেয়ও না। আমি নেইও না। কারণ আমি গ্রাহকদের সাইকোলোজি বুঝে কাজ করা চেষ্টা করি। তাদের ক্ষতি হোক এমন কোনো পদক্ষেপ আমি নেই না। কারণ তারা যদি টিকে না থাকে তবে ব্যাংক টিকবে না। ব্যাংক না টিকলে দেশের অর্থনীতি টিকবে না।

বিজনেস বাংলাদেশ: ব্যাংকের সু-শাসন ফিরিয়ে আনতে কি ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

আব্দুল জব্বার: ব্যাংকে সু-শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমরা জিরো ট্রলারেন্সে আছি। কোনো রকম প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে, নিয়মনীতি ভঙ্গ করলে কোনো জায়গায় আমরা আমরা ছার দেই না। কাউকে কোনো পানিশমেন্ট দেওয়ার পরে উপর থেকে তার জন্য কেউ সুপারিশ করতে আসলে আমি আমলে নেই না। আমি বলে দেই তাকে কেন পানিশমেন্ট দেওয়া হয়েছে সেটা তাকে জিজ্ঞেস করেন। শৃঙ্খলার জন্য আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকি।

বিজনেস বাংলাদেশ : ব্যাংকিং সেক্টরে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার কথা শোন যায়। বিশেষ করে এলসির ক্ষেত্রে। আপনারা তা কিভাবে মোকাবিলা করেছেন?

আব্দুল জব্বার: এলসির মাধ্যমে প্রতারণার একটা কথা শোনা যায়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি যাচাই কার। যতগুলা থিউরি আছে অ্যাপ্লাই করি। এবং সেটা আরও উপর থেকেও যাচাই করা হয়। একটা সার্টেন্ট অ্যামাউন্ট যদি এলসি করা হয় সেটা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও একটা মনিটরিং থাকে। আমার মনে হয় না এখন খুব বেশি প্রতারণার সুযোগ আছে। আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে যদি হয়, আমরা আন্তর্জাতিক মূল্য যাচাই করেই এলসি করি। অনেক সময় পেমেন্ট বিভিন্ন কারণে দেড়ি হওয়ার কারণে পণ্য আসতে একটু দেড়ি হতে পারে। কিন্তু পণ্যা আসে না এটা হয় না।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বিগত সময়ে সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে সাতক্ষীরায়: ডা. শফিকুর রহমান

ঋণ বিতরণে এসএমই খাতে টার্গেট বেশি: আব্দুল জব্বার

প্রকাশিত : ০৪:৩২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৪

সু-শাসন প্রতিষ্ঠায় জিরো ট্রলারেন্স নীতি ও এসএমই খাতেকে টার্গেট করে কাজ করে যাচ্ছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক গুলোর মধ্যে অন্যতম জনতা ব্যাংক পিএলসি। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জব্বার ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এমডির দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি বছরে রেকর্ড ভঙ্গ করে খেলাপি ঋণ আদায় করতে চায় ব্যাংকটির পরিচালক। ব্যাংটির বর্তমান অবস্থা ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় বিজনেস বাংলাদেশের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক নাজমুল ইসলাম।

বিজনেস বাংলাদেশ: বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলোর প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ। খেলাপি আদায়ে আপনাদের ভূমিকা কেমন?

আব্দুল জব্বার: আমাদের খেলাপি ঋণ প্রতিনিয়ত বেড়েই যাচ্ছিল। কিভাবে খেলাপি ঋণের তথ্য উম্মুক্ত করা যায়। তা আগে প্রকাশ করাটাই ছিল প্রধান কাজ। খেলাপী আদায়ে আমাদের কোন গোপনীয়তা ছিলনা।

এটাকে হয়তো অন্যভাবে কমানো যেত খেলাপি না করে। সেই জায়গা থেকে আমরা বললাম না আমরা তা করব না। প্রকৃত যেটা সেটাই চলে আসল। এরপর যখন খেলাপি করা হয়ে যায় তখন তো গ্রাহকরা বলবে রেগুলার না থাকলে ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে না। আমি একটা পয়েন্টে খুব স্ট্রং ছিলাম যে আমি কোনো অবস্থাতেই সুযোগ দিতে রাজি না। ব্যাংককে ঘুরায়ে ফিরায়ে কোনো কিছু করতে রাজি না। গ্রাহকের কাছে যখন এই বার্তাটা যাবে তখন বাধ্য হয়ে টাকা দিতে থাকবে। গ্রাহকদেরকে কঠোর বার্তা দেওয়ার কারণে পরে তারা দেখল যে আর টাকা না দিয়ে উপায় নাই। ব্যাংক অ্যাকশনে যাচ্ছে তখন তারা বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছে। আমরা তাদেরকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে সিস্টেমে আসতে হবে। সিস্টেমের বাইরে যাওয়া যাবে না। খেলাপিদের তালিকায় অনেক রাঘোব বোয়ালও থাকে। তাদেরকেও একই ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়েছে। অনেক বড় বড় গ্রাহকদের কাছ থেকে আমরা টাকা আদায় করেছি।

বিজনেস বাংলাদেশ: বর্তমানে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কি লক্ষ্যে কাজ করছেন?

আব্দুল জব্বার: আমরা এখন ছোট লোনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। বিশেষ করে এসএমই খাতে আমাদের টার্গেট বেশি। কারণ বড় লোন যেটা সেখান থেকে রিটার্ন আনা কঠিন। কর্মসংস্থান বলে, প্রফিট বলেন, জিডিপি বলেন, যাই বলেন না কেন একটা ইন্ডাস্ট্রি স্টাবলিস্ট হতে ২-৩ বছর লেগে যায়। এজন্য আমরা ছোট লোনে গুরুত্ব দিচ্ছি বেশি। উদ্যোক্তা তৈরি না হলে বাণিজ্য সৃষ্টি হয় না। আমি এই জিনিসটাকে খুব পজিটিভলি দেখি। কোনো উদ্যোক্তা আসলে আমি তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করি।

বিজনেস বাংলাদেশ: ব্যাংককে এগিয়ে নিতে কিভাবে কাজ করছেন?

আব্দুল জব্বার: আমি আসার পরে প্রথমেই আমরা ১০১ দিনের একটা কর্মসূচি হাতে নেই। এটাই ছিল আমার মূল ভিত্তি। এখন পর্যন্ত যেটাই অর্জন হয়েছে এটার মাধ্যমেই হয়েছে। সবাইকে কাজে সম্পৃক্ত করার সুযোগ হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে এটাকে খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। তাদের সাধ্যমত তারা কাজ করেছে। এজন্য আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। যেখানে প্রতিষ্ঠান ঝিমিয়ে গেছিল, সেই জায়গাটাতে সবাই সেই জায়গাতে তারা কাজ করছে। আমার একটা নির্দেশনা ছিল অ্যাকচুয়াল যে পজিশন যেটা সেটাই বের করে আনতে হবে। বাড়লে বাড়বে, কমলে কমবে।

বিজনেস বাংলাদেশ : জনতা ব্যাংকের বর্তমান আমানতের কি অবস্থা?

আব্দুল জব্বার: বর্তমানে জনতা ব্যাংকের প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার মতো আমানত রয়েছে। ডিপোজিট বাড়বে কমবে এটা স্বাভাবিক। আমি যখন আসি তখন আমানত ছিল ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা। আমি আসার একশ এক দিনের কর্মসূচি নেওয়ার পরে ডিপোজিট বেশ বাড়ল। ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি পর্যন্ত হয়। আবার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ যখন হয়, তখন সরকারি ফান্ডগুলো ব্যাবহৃত হয়, আমার এখানেও গভমেন্ট ফান্ডগুলো ছিল। এখন সরকার বিভিন্ন কারণে তা নিয়ে যায়, পেমেন্ট করে, অন্যান্য কাজে লাগায়, বছরের শেষে দিকে কিংবা অর্থ বছরের শেষের দিকে এসে উত্থান পতন ঘটে। আবার বাড়ে। এভাবেই চলে। যেমন এ বছরের শুরুতে আবার বাড়ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ : গত বছরের তুলনায় এ বছর কি পরিমাণ খেলাপি ঋণ কমানোর টার্গেট ছিল? আপনারা কেমন আদায়ে সক্ষম হয়েছেন?

আব্দুল জব্বার: আমাদের পরিকল্পনাটা বিভিন্নভাবে নেওয়া হয়। কিছু পরিকল্পনা থাকে পাঁচ বছরের, কিছু থাকে ১০ বছরের। আমরা আশা করছি আমরা চার বছরের মধ্যে খেলাপি ঋণ সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসব। সরকার যদি আদায়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর হয়। সেক্ষেত্রে আরও কম সময় লাগতে পারে। তারা যে টাকা নিয়েছে সেটা ইনভেস্ট করেছে। তারা তো সেটা পাচার করেনি। সেটা থেকে রেভিনিউ করেই তারা টাকাটা দিবে। এজন্য সময় লাগে। এখন খেলাপি ঋণ ১৬ পার্সেন্ট আছে। প্রতি বছর ১-২ পাসেন্ট এর মতো টার্গেট থাকে। ২০২৪ সালের মধ্যে ১৪ পার্সেন্টে আনা যায় কি না এর পর পর্যায়ক্রমে ১৩-১২ এভাবে চার-পাঁচ বছরের মধ্যে এটাকে সিঙ্গেল ডিজিটে আনার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। চলতি বছরে আমরা সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ আদায় করতে চাই। আমরা রেকর্ড ভাংতে চাই। আমি আশাবাদি কারণ এ বছরের শুরুতে আমরা অপ্রত্যাশিত কিছু আদায় করেছি। বিভিন্ন জায়গায় আমরা যাচ্ছি। আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

বিজনেস বাংলাদেশ: চলমান ডলার সংকট ও তারল্য সংকটে কিভাবে কাজ করে যাচ্ছেন?

আব্দুল জব্বার: চলমান যে ডলার সংকট এটা শুধু জাতীয় সমস্যাই না, বিশ্বব্যাপি একটা সমস্যা। আমরা প্রথমে ভাবছিলাম কোভিটের পরে হয়তো ভালো হবে। কোভিটের পরপরই রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হল। সাইপ্লাই চেইনে সমস্যা হয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবসা বাণিজ্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এটা তো সবাই জানে। ফলে ডলার সংকট আমাদের দেশেও চলে আসে। রেমিট্যান্স কমে যায়। আমাদের ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় সবথেকে বেশি আমদানি করে। সরকারের যে সাপোর্ট, সার, তেল সরকারের অন্যান্য সংস্থার বিশেষ আমদানি এগুলো ম্যাক্সিমামই জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে হয়ে থাকে। আমরা এই সংকট কালেও এই কাজগুলো করে যাচ্ছি। যেভাবে হোক ডলার আমরা ম্যানেজ করি। বাইরে থেকে রেমিট্যান্স আনার জন্য ক্যাম্পিং করি। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় দ্বিগুণ রেমিট্যান্স এসেছে। আর তারল্য সংকটের বিষয়টা হচ্ছে, দেশের বর্তমান ৬২ ব্যাংকেই তারল্য সংকট আছে। সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকেই আছে। এটা আমরা বিভিন্নভাবে সমাধান করি। এটা তো সবসময় হয় না। মাঝেমধ্যে যখন হয় তখন আন্ত ব্যাংক একটা লেনদেন সিস্টেম আছে। আমরা বিভিন্নভাবে এটাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করি। তবে আমদের আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো অবস্থা তৈরি হয়নাই।

বিজনেস বাংলাদেশ : দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো বাধা বা চাপের সম্মুখিন হয়েছেন কি না?

আব্দুল জব্বার: আমি কোনো চাপ অনুভব করি না। আমাকে কেউ চাপ দেয়ও না। আমি নেইও না। কারণ আমি গ্রাহকদের সাইকোলোজি বুঝে কাজ করা চেষ্টা করি। তাদের ক্ষতি হোক এমন কোনো পদক্ষেপ আমি নেই না। কারণ তারা যদি টিকে না থাকে তবে ব্যাংক টিকবে না। ব্যাংক না টিকলে দেশের অর্থনীতি টিকবে না।

বিজনেস বাংলাদেশ: ব্যাংকের সু-শাসন ফিরিয়ে আনতে কি ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

আব্দুল জব্বার: ব্যাংকে সু-শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমরা জিরো ট্রলারেন্সে আছি। কোনো রকম প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে, নিয়মনীতি ভঙ্গ করলে কোনো জায়গায় আমরা আমরা ছার দেই না। কাউকে কোনো পানিশমেন্ট দেওয়ার পরে উপর থেকে তার জন্য কেউ সুপারিশ করতে আসলে আমি আমলে নেই না। আমি বলে দেই তাকে কেন পানিশমেন্ট দেওয়া হয়েছে সেটা তাকে জিজ্ঞেস করেন। শৃঙ্খলার জন্য আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকি।

বিজনেস বাংলাদেশ : ব্যাংকিং সেক্টরে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার কথা শোন যায়। বিশেষ করে এলসির ক্ষেত্রে। আপনারা তা কিভাবে মোকাবিলা করেছেন?

আব্দুল জব্বার: এলসির মাধ্যমে প্রতারণার একটা কথা শোনা যায়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি যাচাই কার। যতগুলা থিউরি আছে অ্যাপ্লাই করি। এবং সেটা আরও উপর থেকেও যাচাই করা হয়। একটা সার্টেন্ট অ্যামাউন্ট যদি এলসি করা হয় সেটা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও একটা মনিটরিং থাকে। আমার মনে হয় না এখন খুব বেশি প্রতারণার সুযোগ আছে। আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে যদি হয়, আমরা আন্তর্জাতিক মূল্য যাচাই করেই এলসি করি। অনেক সময় পেমেন্ট বিভিন্ন কারণে দেড়ি হওয়ার কারণে পণ্য আসতে একটু দেড়ি হতে পারে। কিন্তু পণ্যা আসে না এটা হয় না।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে