০৩:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পোশাক খাত

রফতানি আয় বাড়বে ৫০ কোটি ডলার

করোনার সময় বিশ্বব্যাপী যখন অর্থনীতিতে স্থবিরতা চলছিল। দোকান-পাট বন্ধ ছিল, খুচরা বিক্রয়ে ধ্বস নেমেছিল, তখন কিন্তু ভার্চ্যুল মার্কেটের গুরুত্ব সবাই উপলব্ধি করেছিল। ঘরে বসে অন-লাইনে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার স্বাচ্ছন্দটি তখনই তৈরি হয়। তৈরী পোশাক খাতসহ বিভিন্ন সেক্টরেও এই পরিবর্তনটি দেখা যায়।

দেশের এক মাত্র রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএ আগামী দিনেও ভোক্তাদের মাঝে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব বাড়তে কাজ করছে। ভার্চুয়াল প্লাটফর্মের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসায়িক কার্যক্রম (ক্রয়াদেশ গ্রহণ) পরিচালনা করতে চায় সংস্থাটি। এটি করতে পারলে পোশাক খাতে ৫০ কোটি ডলার রফতানি আয় বাড়বে।

সম্প্রতি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সম্ভাবনা নিয়ে বিজিএমইএ গবেষণার ফলাফল করেছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সভাপতি আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প বিগত ৪৫ বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশ ও সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে কাজ করে আসছে। ৮০র দশকের গোড়ার দিকে যাত্রা শুরু করে একটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি, সম্প্রতি ২০২৩ সালে আমাদের পোশাক রপ্তানি ৪৭.৩৮ বিলিয়নে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্যে চীনের পরেই আমাদের অবস্থান, তবে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানের মধ্যে ব্যবধান অনেক। আমরা ২০২২ সালে আমাদের গ্লোবাল শেয়ার ৭.৮৭% এ নিয়ে যেতে পেরেছি। আশা করছি ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা এই শেয়ার ১২% এ নিয়ে যেতে পারব, তবে তার জন্য প্রয়োজন নতুন নতুন সুযোগ তৈরি ও তা কাজে লাগাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন। যেহেতু ফ্যাশন জগতে ভার্চুয়াল রিটেইলিং এর অবস্থান দৃঢ় হচ্ছে, তাই এই বিষয়টিতে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।

করোনা মহামারির সময়টিতে যখন আমাদের অর্ডার ক্যান্সেল হচ্ছিল, আর বাজারগুলোতে ভার্চুয়ালী খুচরা ব্যবসা বাড়ছিল, তখনই আমরা উদ্যোগী হয়েছিলাম ভার্চুয়াল মার্কেটে সম্পৃক্ত হতে। তবে আমাদের প্রাথমিক অবজারভেশন ছিল এরকম যে, প্রথাগত ব্যবস্থায় আমরা যে ব্যাংকিং ও কাস্টমস নিয়মনীতি অনুসরণ করে ব্যবসা করি, ভার্চুয়াল মার্কেটের ক্ষেত্রে সেটি সব ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অর্থাৎ বেশকিছু বিধিবিধান বিশেষকরে ব্যাংকিং ও কাস্টমস নিয়মনীতি সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। অপরদিকে ভার্চুয়াল মার্কেট যেহেতু একটি নতুন বিষয় তাই শিল্পের ভিতর আমাদের কিছু প্রস্তুতি ও এ্যাডজাস্টমেন্টের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোকে চিহ্নিত করা ও যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। আর এই পুরো বিষয়টি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে যথাযথভাবে করার জন্য আমরা এই গবেষণা কাজটি হাতে নেই।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক হিসাবে নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। এই অর্জন সত্তে¡ও, বৈশ্বিক ভ‚-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিনিময় হারের ওঠানামা, ডলারের সংকট, তুলার দাম বৃদ্ধি, স্বল্প খরচের দেশগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতা প্রভৃতি কারণে বাংলাদেশের পোশাকখাত এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হয়েছে। এ পটভ‚মিতে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটিং প্লাটফর্ম হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে, তবে নিয়ন্ত্রক কাঠামো থেকে উদ্ভ‚ত সীমাবদ্ধতা, বিশেষ করে আন্তঃসীমান্ত লেনদেন এবং বৈদেশিক মুদ্রা নীতির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাগুলো, দেশীয় পোশাক শিল্পের জন্য বিকাশমান ই-কমার্স বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। এই সব চ্যালেঞ্জের আলোকে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকখাতের জন্য উপযুক্ত ভার্চ্যুয়াল প্লাটফর্ম তৈরির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য লাইটক্যাসল পার্টনারস’কে গবেষণা পরিচালনার দায়িত্ব দেয়।

প্রতিবেদনে একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পোশাক শিল্পের সামনে যে চ্যালেঞ্জ ও সুযোগগুলো রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি নীতিসমূহে কোথায় কোথায় ঘাটতি আছে, তা সহ টেকসই বিজনেস মডেলের প্রস্তাবনা দিয়েছে এবং ভার্চ্যুয়াল মার্কেটপ্লেস সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল সমন্বিত উপযুক্ত কর্মপরিকল্পনার বিষয়েও সুপারিশ করেছে।

ভার্চ্যুয়াল মার্কেটপে সের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় টেক্সটাইল শিল্পকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে একীভ‚ত করা এবং অনলাইন ক্রয়ের দিকে স্থানান্তর করা। প্রতিবেদনে পোশাক খাতের টেকসই সাফল্যের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ন কৌশলগত পদ্ধতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে: (১) এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মতো উদীয়মান বাজারে বিরাজমান ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (বিটুবি) কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং (২) বাংলাদেশী প্রস্তুতকারক এবং চ‚ড়ান্ত ভোক্তাদের মধ্যে (বিটুসি) সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অতিরিক্ত মূল্য তৈরি করা; যার ফলে মুনাফা মার্জিন বাড়বে এবং ব্যবসার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

প্ল্যাটফর্মগুলো স্বতন্ত্র ব্যক্তিগত সংস্থা হিসাবে কাজ করবে এবং লজিস্টিক সহায়তা, নকশা পরামর্শ পরিষেবা, নিরাপদ অর্থপ্রদান ব্যবস্থা এবং সক্ষমতা ম্যাচিং এর মতো বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করবে। তবে দেশীয় বাজারের জন্য ২০১৮ সালের জাতীয় ডিজিটাল বাণিজ্য নীতির বিপরীতে, আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে প্রবেশ করার জন্য কোন সুস্পষ্ট নীতি কাঠামো গড়ে উঠেনি। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, একটি শক্তিশালী ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গ্লোবাল পেমেন্ট গেটওয়ের অনুপস্থিতি, ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের অর্থায়ন নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ, ছোট অর্ডারের জন্য জটিল রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এবং অবাস্তব রিটার্ন নীতি (যেখানে রিটার্নকে আমদানি হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়) প্রভৃতি বিষয়গুলো যথেষ্ট প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।

অধিকন্তু, প্রতিবেদনটি স্থানীয় প্রস্তুতকারক, ব্যবসায়ী এবং উদীয়মান বাজারে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন সহজ করার মাধ্যমে, স্টকলটের জন্য একটি কেন্দ্রীয় হাব হিসাবে ভার্চুয়াল মার্কেটপ্লেসের কাজ করার সম্ভাবনা তুলে ধরেছে।

বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, “আমরা যদি আগামী দিনে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চাই, তাহলে আমাদের একটি সামগ্রিক ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমি বিশ্বাস করি এই প্রতিবেদনটি একদিকে যেমন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তার ঘটাবে, পাশাপাশি ব্যবসা প্রসারের ক্ষেত্রে আগামী দিনে আমাদের জন্য একটি গাইডলাইন হয়ে থাকবে।”

এই গবেষনাটি আইএফসি এর পার্টনারশিপ ফর ক্লিনার টেক্সটাইল (প্যাক্ট টু) প্রোগ্রাম এর অর্থায়নে করা হয়েছে, যেখানে ডেনিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ডানিডা) এর মাধ্যমে ডেনমার্ক সরকার এবং বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস সহযোগিতা প্রদান করছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বিগত সময়ে সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে সাতক্ষীরায়: ডা. শফিকুর রহমান

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পোশাক খাত

রফতানি আয় বাড়বে ৫০ কোটি ডলার

প্রকাশিত : ০৪:২০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪

করোনার সময় বিশ্বব্যাপী যখন অর্থনীতিতে স্থবিরতা চলছিল। দোকান-পাট বন্ধ ছিল, খুচরা বিক্রয়ে ধ্বস নেমেছিল, তখন কিন্তু ভার্চ্যুল মার্কেটের গুরুত্ব সবাই উপলব্ধি করেছিল। ঘরে বসে অন-লাইনে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার স্বাচ্ছন্দটি তখনই তৈরি হয়। তৈরী পোশাক খাতসহ বিভিন্ন সেক্টরেও এই পরিবর্তনটি দেখা যায়।

দেশের এক মাত্র রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএ আগামী দিনেও ভোক্তাদের মাঝে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব বাড়তে কাজ করছে। ভার্চুয়াল প্লাটফর্মের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসায়িক কার্যক্রম (ক্রয়াদেশ গ্রহণ) পরিচালনা করতে চায় সংস্থাটি। এটি করতে পারলে পোশাক খাতে ৫০ কোটি ডলার রফতানি আয় বাড়বে।

সম্প্রতি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সম্ভাবনা নিয়ে বিজিএমইএ গবেষণার ফলাফল করেছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সভাপতি আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প বিগত ৪৫ বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশ ও সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে কাজ করে আসছে। ৮০র দশকের গোড়ার দিকে যাত্রা শুরু করে একটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি, সম্প্রতি ২০২৩ সালে আমাদের পোশাক রপ্তানি ৪৭.৩৮ বিলিয়নে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্যে চীনের পরেই আমাদের অবস্থান, তবে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানের মধ্যে ব্যবধান অনেক। আমরা ২০২২ সালে আমাদের গ্লোবাল শেয়ার ৭.৮৭% এ নিয়ে যেতে পেরেছি। আশা করছি ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা এই শেয়ার ১২% এ নিয়ে যেতে পারব, তবে তার জন্য প্রয়োজন নতুন নতুন সুযোগ তৈরি ও তা কাজে লাগাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন। যেহেতু ফ্যাশন জগতে ভার্চুয়াল রিটেইলিং এর অবস্থান দৃঢ় হচ্ছে, তাই এই বিষয়টিতে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।

করোনা মহামারির সময়টিতে যখন আমাদের অর্ডার ক্যান্সেল হচ্ছিল, আর বাজারগুলোতে ভার্চুয়ালী খুচরা ব্যবসা বাড়ছিল, তখনই আমরা উদ্যোগী হয়েছিলাম ভার্চুয়াল মার্কেটে সম্পৃক্ত হতে। তবে আমাদের প্রাথমিক অবজারভেশন ছিল এরকম যে, প্রথাগত ব্যবস্থায় আমরা যে ব্যাংকিং ও কাস্টমস নিয়মনীতি অনুসরণ করে ব্যবসা করি, ভার্চুয়াল মার্কেটের ক্ষেত্রে সেটি সব ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অর্থাৎ বেশকিছু বিধিবিধান বিশেষকরে ব্যাংকিং ও কাস্টমস নিয়মনীতি সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। অপরদিকে ভার্চুয়াল মার্কেট যেহেতু একটি নতুন বিষয় তাই শিল্পের ভিতর আমাদের কিছু প্রস্তুতি ও এ্যাডজাস্টমেন্টের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোকে চিহ্নিত করা ও যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। আর এই পুরো বিষয়টি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে যথাযথভাবে করার জন্য আমরা এই গবেষণা কাজটি হাতে নেই।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক হিসাবে নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। এই অর্জন সত্তে¡ও, বৈশ্বিক ভ‚-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিনিময় হারের ওঠানামা, ডলারের সংকট, তুলার দাম বৃদ্ধি, স্বল্প খরচের দেশগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতা প্রভৃতি কারণে বাংলাদেশের পোশাকখাত এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হয়েছে। এ পটভ‚মিতে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটিং প্লাটফর্ম হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে, তবে নিয়ন্ত্রক কাঠামো থেকে উদ্ভ‚ত সীমাবদ্ধতা, বিশেষ করে আন্তঃসীমান্ত লেনদেন এবং বৈদেশিক মুদ্রা নীতির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাগুলো, দেশীয় পোশাক শিল্পের জন্য বিকাশমান ই-কমার্স বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। এই সব চ্যালেঞ্জের আলোকে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকখাতের জন্য উপযুক্ত ভার্চ্যুয়াল প্লাটফর্ম তৈরির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য লাইটক্যাসল পার্টনারস’কে গবেষণা পরিচালনার দায়িত্ব দেয়।

প্রতিবেদনে একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পোশাক শিল্পের সামনে যে চ্যালেঞ্জ ও সুযোগগুলো রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি নীতিসমূহে কোথায় কোথায় ঘাটতি আছে, তা সহ টেকসই বিজনেস মডেলের প্রস্তাবনা দিয়েছে এবং ভার্চ্যুয়াল মার্কেটপ্লেস সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল সমন্বিত উপযুক্ত কর্মপরিকল্পনার বিষয়েও সুপারিশ করেছে।

ভার্চ্যুয়াল মার্কেটপে সের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় টেক্সটাইল শিল্পকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে একীভ‚ত করা এবং অনলাইন ক্রয়ের দিকে স্থানান্তর করা। প্রতিবেদনে পোশাক খাতের টেকসই সাফল্যের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ন কৌশলগত পদ্ধতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে: (১) এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মতো উদীয়মান বাজারে বিরাজমান ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (বিটুবি) কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং (২) বাংলাদেশী প্রস্তুতকারক এবং চ‚ড়ান্ত ভোক্তাদের মধ্যে (বিটুসি) সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অতিরিক্ত মূল্য তৈরি করা; যার ফলে মুনাফা মার্জিন বাড়বে এবং ব্যবসার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

প্ল্যাটফর্মগুলো স্বতন্ত্র ব্যক্তিগত সংস্থা হিসাবে কাজ করবে এবং লজিস্টিক সহায়তা, নকশা পরামর্শ পরিষেবা, নিরাপদ অর্থপ্রদান ব্যবস্থা এবং সক্ষমতা ম্যাচিং এর মতো বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করবে। তবে দেশীয় বাজারের জন্য ২০১৮ সালের জাতীয় ডিজিটাল বাণিজ্য নীতির বিপরীতে, আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে প্রবেশ করার জন্য কোন সুস্পষ্ট নীতি কাঠামো গড়ে উঠেনি। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, একটি শক্তিশালী ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গ্লোবাল পেমেন্ট গেটওয়ের অনুপস্থিতি, ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের অর্থায়ন নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ, ছোট অর্ডারের জন্য জটিল রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এবং অবাস্তব রিটার্ন নীতি (যেখানে রিটার্নকে আমদানি হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়) প্রভৃতি বিষয়গুলো যথেষ্ট প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।

অধিকন্তু, প্রতিবেদনটি স্থানীয় প্রস্তুতকারক, ব্যবসায়ী এবং উদীয়মান বাজারে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন সহজ করার মাধ্যমে, স্টকলটের জন্য একটি কেন্দ্রীয় হাব হিসাবে ভার্চুয়াল মার্কেটপ্লেসের কাজ করার সম্ভাবনা তুলে ধরেছে।

বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, “আমরা যদি আগামী দিনে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চাই, তাহলে আমাদের একটি সামগ্রিক ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমি বিশ্বাস করি এই প্রতিবেদনটি একদিকে যেমন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তার ঘটাবে, পাশাপাশি ব্যবসা প্রসারের ক্ষেত্রে আগামী দিনে আমাদের জন্য একটি গাইডলাইন হয়ে থাকবে।”

এই গবেষনাটি আইএফসি এর পার্টনারশিপ ফর ক্লিনার টেক্সটাইল (প্যাক্ট টু) প্রোগ্রাম এর অর্থায়নে করা হয়েছে, যেখানে ডেনিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ডানিডা) এর মাধ্যমে ডেনমার্ক সরকার এবং বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস সহযোগিতা প্রদান করছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে