০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

মোবাইল গেমে আসক্ত কিশোর তরুণরা; বাড়ছে অপরাধ

বিভিন্ন এলাকার কিশোর এমনকি তরুনরা স্মার্টফোন আর অনলাইন ভিত্তিক নানা গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে চোখের ক্ষতিসহ তাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দিন দিন এই মোবাইলের বিভিন্ন গেমসের প্রতি তাদের আগ্রহে একদিকে যেমন যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে তেমনি পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকারে ধাবিত হচ্ছে বলে সচেতন মহলের অভিমত। শর জমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় কিশোরদের দলবেঁধে মোবাইল ঝুঁকে থাকার দৃশ্য। রংপুরের বিভিন্ন ওলি গলিতে ।যে বয়সে মাঠে খেলাধুলা করার কথা সেখানে তারা ডুবেছে মোবাইল গেমের নেশায়। পড়াশুনা বাদ দিয়ে দিনের সিংহভাগ সময়েই তারা ব্যয় করছে গেমিং এর পিছনে এমনকি মোবাইল গেমের প্রতি এতই আসক্ত যে তারা দায়িত্ব ও কর্তব্য কাজকর্ম ইত্যাদি বাদ দিয়ে সারাদিন মুঠোফোনের পিছনে পড়ে থাকে।
এছাড়াও অনলাইন বাজি খেলার সংখ্যাটাও কম নয়। সব বিভিন্ন ধরনের ব্যাটিং সাইট তৈরি হচ্ছে কিশোর তরুণদের টার্গেট করে। দ্রুত সময়ে কয়েকগুণ টাকার প্রলোভনে পা দিচ্ছে অনেকেই। সম্প্রতি বেশ কিছুদিন আগেও খানসামা উপজেলার এমনই অনলাইন জুয়া খেলার দায়ে জুয়া চক্রের ৪ সদস্যকে কারাদণ্ড করে থানা পুলিশ। তাদের প্রত্যেকেই এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। আগারপাড়া ইউনিয়নের জব্বার ও সুমন আলী জানান কিশোর ও তরুণ বয়সী ছেলের প্রতিদিন আমার বাড়ির আশেপাশে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসে মোবাইল টিপাটি পি করে। ওরা নাকি কি গেম খেলে। একই এলাকার জব্বার আলী জানান, প্রতিদিন বিকেলে কিংবা সন্ধ্যায় কোন দিন রাতে কাজকর্ম শেষে বাড়ি ফেরার সময় দেখা যায় বিভিন্ন স্কুল -কলএজএর ছাত্ররা মাঠে, রাস্তার পাশে একত্রিত হয়ে বসে মোবাইলে কেউ পাবজি  ও ফ্রী ফায়ার নামক ও গেম খেলছে। আমি এদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। সচেতন মহল বলছেন এসব গেম আসক্তির কারণে কিশোররা পারিবারিক সামাজিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। সাথে পড়াশোনার ও তাদের মনোযোগ কমছে। খেলার এক পর্যায়ে এসে তারা ভায়োলেট হয়ে যেতে পারে। এমনকি এটি আলোচিত আরেক কোল
 হলের গেমের মত কোন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কেবল শারীরিক ক্ষতির কারণেই নয় এই গেমগুলো সেই সাথে মানসিক রোগের কারণ ও হতে পারে। শারীরিক মানসিক রোগের সাথে এই গেমটি একজন শিশু কিংবা কিশোরের উপর সামাজিক মূল্যবোধের জন্য বাধ্য হয়ে দাঁড়াতে পারে। গেমটি যেহেতু একটি জায়গা থেকেই আটকে থেকে খেলতে হয়। তাই এই গেম খেলা মানুষটি সামাজিকভাবে খুব বেশি সংযুক্ত থাকতে পারে না! আর এই কারণে সামাজিক মূল্যবোধের সাথে সমাজের আচার ব্যবহার থেকেও ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে হয় সেই মানুষটিকে। সর্বোপরি একটা সময় একাকীত্ব বরণ করতে হয় তাদেরকে।
এই গেমটি অতিরিক্ত খেলার কারণে চোখের সমস্যা হতে পারে। আর সেই সাথে দেখা দেয় ঘুমের ঘাটতিও। মোবাইল কিংবা কম্পিউটারে বেশি সময় ধরে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের ক্ষতি হতেই পারে। আর চোখের সমস্যার সাথে ঘুমেরও ঘাটতি দেখা দেয় তাদের মধ্যে। আবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনলাইন গেম সম্পর্কে ঠিক মত ধারণা না থাকার অভিভাবক রাও সন্তানের ঠিকমতো খোঁজখবর রাখতে পারছে না। এক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষ করে অভিভাবকদের ছেলেমেয়েদের বিষয়ে সচেতন থাকার জরুরী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে অনলাইন গেম এবং মুঠোফোন গেমের ক্ষতিকর ব্যবহারকে রোগ হিসেবে চিহ্নিত করছে। মূলত মোবাইল গেমে আসক্তি অন্যান্য দেশলাই দ্রব্য ইয়াবা হিরোইন গাজা মত ইত্যাদি আসক্তির মতোই শুধু পার্থক্য হচ্ছে এটি আচরণগত আসক্তি আর অন্যান্য নেশা জাত দ্রব্যের আসক্তি রাসায়নিক আসক্তি এছাড়াও তারা তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে হয়ে ওঠে অনাগ্রহী।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ঢাবি কেন্দ্রীয় মসজিদে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের আকদ সম্পন্ন

মোবাইল গেমে আসক্ত কিশোর তরুণরা; বাড়ছে অপরাধ

প্রকাশিত : ০৮:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
বিভিন্ন এলাকার কিশোর এমনকি তরুনরা স্মার্টফোন আর অনলাইন ভিত্তিক নানা গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে চোখের ক্ষতিসহ তাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দিন দিন এই মোবাইলের বিভিন্ন গেমসের প্রতি তাদের আগ্রহে একদিকে যেমন যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে তেমনি পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকারে ধাবিত হচ্ছে বলে সচেতন মহলের অভিমত। শর জমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় কিশোরদের দলবেঁধে মোবাইল ঝুঁকে থাকার দৃশ্য। রংপুরের বিভিন্ন ওলি গলিতে ।যে বয়সে মাঠে খেলাধুলা করার কথা সেখানে তারা ডুবেছে মোবাইল গেমের নেশায়। পড়াশুনা বাদ দিয়ে দিনের সিংহভাগ সময়েই তারা ব্যয় করছে গেমিং এর পিছনে এমনকি মোবাইল গেমের প্রতি এতই আসক্ত যে তারা দায়িত্ব ও কর্তব্য কাজকর্ম ইত্যাদি বাদ দিয়ে সারাদিন মুঠোফোনের পিছনে পড়ে থাকে।
এছাড়াও অনলাইন বাজি খেলার সংখ্যাটাও কম নয়। সব বিভিন্ন ধরনের ব্যাটিং সাইট তৈরি হচ্ছে কিশোর তরুণদের টার্গেট করে। দ্রুত সময়ে কয়েকগুণ টাকার প্রলোভনে পা দিচ্ছে অনেকেই। সম্প্রতি বেশ কিছুদিন আগেও খানসামা উপজেলার এমনই অনলাইন জুয়া খেলার দায়ে জুয়া চক্রের ৪ সদস্যকে কারাদণ্ড করে থানা পুলিশ। তাদের প্রত্যেকেই এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। আগারপাড়া ইউনিয়নের জব্বার ও সুমন আলী জানান কিশোর ও তরুণ বয়সী ছেলের প্রতিদিন আমার বাড়ির আশেপাশে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসে মোবাইল টিপাটি পি করে। ওরা নাকি কি গেম খেলে। একই এলাকার জব্বার আলী জানান, প্রতিদিন বিকেলে কিংবা সন্ধ্যায় কোন দিন রাতে কাজকর্ম শেষে বাড়ি ফেরার সময় দেখা যায় বিভিন্ন স্কুল -কলএজএর ছাত্ররা মাঠে, রাস্তার পাশে একত্রিত হয়ে বসে মোবাইলে কেউ পাবজি  ও ফ্রী ফায়ার নামক ও গেম খেলছে। আমি এদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। সচেতন মহল বলছেন এসব গেম আসক্তির কারণে কিশোররা পারিবারিক সামাজিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। সাথে পড়াশোনার ও তাদের মনোযোগ কমছে। খেলার এক পর্যায়ে এসে তারা ভায়োলেট হয়ে যেতে পারে। এমনকি এটি আলোচিত আরেক কোল
 হলের গেমের মত কোন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কেবল শারীরিক ক্ষতির কারণেই নয় এই গেমগুলো সেই সাথে মানসিক রোগের কারণ ও হতে পারে। শারীরিক মানসিক রোগের সাথে এই গেমটি একজন শিশু কিংবা কিশোরের উপর সামাজিক মূল্যবোধের জন্য বাধ্য হয়ে দাঁড়াতে পারে। গেমটি যেহেতু একটি জায়গা থেকেই আটকে থেকে খেলতে হয়। তাই এই গেম খেলা মানুষটি সামাজিকভাবে খুব বেশি সংযুক্ত থাকতে পারে না! আর এই কারণে সামাজিক মূল্যবোধের সাথে সমাজের আচার ব্যবহার থেকেও ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে হয় সেই মানুষটিকে। সর্বোপরি একটা সময় একাকীত্ব বরণ করতে হয় তাদেরকে।
এই গেমটি অতিরিক্ত খেলার কারণে চোখের সমস্যা হতে পারে। আর সেই সাথে দেখা দেয় ঘুমের ঘাটতিও। মোবাইল কিংবা কম্পিউটারে বেশি সময় ধরে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের ক্ষতি হতেই পারে। আর চোখের সমস্যার সাথে ঘুমেরও ঘাটতি দেখা দেয় তাদের মধ্যে। আবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনলাইন গেম সম্পর্কে ঠিক মত ধারণা না থাকার অভিভাবক রাও সন্তানের ঠিকমতো খোঁজখবর রাখতে পারছে না। এক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষ করে অভিভাবকদের ছেলেমেয়েদের বিষয়ে সচেতন থাকার জরুরী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে অনলাইন গেম এবং মুঠোফোন গেমের ক্ষতিকর ব্যবহারকে রোগ হিসেবে চিহ্নিত করছে। মূলত মোবাইল গেমে আসক্তি অন্যান্য দেশলাই দ্রব্য ইয়াবা হিরোইন গাজা মত ইত্যাদি আসক্তির মতোই শুধু পার্থক্য হচ্ছে এটি আচরণগত আসক্তি আর অন্যান্য নেশা জাত দ্রব্যের আসক্তি রাসায়নিক আসক্তি এছাড়াও তারা তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে হয়ে ওঠে অনাগ্রহী।