বিগত বছরগুলোতে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে অধিক সংখ্যক মানুষ ঘরে ফিরছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি ট্রেনের টিকেট কালোবাজারীর সাথে জড়িয়ে পড়ছে বলে জানা যায়। আপনারা জানেন যে, এবার প্রথম বারের মতো বাংলাদেশ রেলওয়ের শতভাগ টিকেট অনলাইন প্লাটফর্ম সহজ ডট কম এর মাধ্যমে বিক্রয় করছে। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের টিকেট ছাড়ার সাথে সাথে টিকেট শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়া যায়।
উক্ত অভিযোগের বিষয়ে র্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল বর্ণিত অপরাধের সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশন হতে টিকেট কালোবাজারী চক্রের শিকড়ের অনুসন্ধানে তৎপর হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১ উত্তরা, ঢাকার একটি আভিযানিক দল এই চক্রের সাথে জড়িত অপরাধদের চিহ্নিতকরণ ও তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে বিমানবন্দর স্টেশন এলাকায় প্রাথমিকভাবে আভিযানিক দল ফাঁদ পাতে। উক্ত ফাঁদে প্রথমে পা দেয় চক্রের অন্যতম হোতা উত্তম চন্দ্র দাস (৩৪)যাকে ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন এলাকা হতে একটি অনলাইন টিকেটের প্রিন্টেড কপিসহ গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যমতে র্যাব-১ এর গোয়েন্দা চৌকশদল ঢাকার কাওলা হতে তারই ঘনিষ্ঠ সহযোগী হাবীব আহমেদ (২৬)মোঃ ফারুক (৫৫)বাংলাদেশ রেলওয়ের আউটসোর্সিং কর্মচারী মোঃ জুবায়ের (২৯), ঢাকা’কে তিনটি অনলাইন টিকেটের প্রিন্টেড কপিসহ আটক করা হয়। উত্তম চন্দ্র দাসের নিকট হতে জানা যায় যে, তিনি প্রতিবছর ঈদ মৌসুমে আনুমানিক প্রায় ৫০০-৭০০ রেলওয়ে টিকেট অবৈধ উপায়ে কালোবাজারী করত। এভাবে প্রতি মৌসুমে তিনি প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার মত অবৈধভাবে আয় করতেন বলে স্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য উত্তম চন্দ্র দাস (৩৪) এর বিরূদ্ধে ইতোমধ্যে পুলিশের পিসিপিআর অনুযায়ী ০৪ টি মামলা রয়েছে।
দুপুরে র্যাব-১ মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১ উপ-অধিনায়ক লেঃ কমান্ডার মোহাম্মদ জাকিউল করিম সাংবাদিকদের জানান,আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রেক্ষিতে র্যাব-১ এর আভিযানিক দল পূনরায় ফাঁদ পাতে।এবার উক্ত ফাঁদে পা দেয় স্বয়ং বাংলাদেশ রেলওয়ের আউটসোর্সিং কর্মচারী মোঃ সোহেল রানা (২১)কে যাকে ছয়টি অনলাইন টিকেটের প্রিন্টেড কপিসহ বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আটক করা হয়।
তিনি আরো জানান আটককৃতদের সাথে নিয়ে র্যাব-১ এর আভিযানিক দল গমন করে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। আটককৃতদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা হতে বাংলাদেশ রেলওয়ের আউটসোর্সিং কর্মচারী ৬) আব্দুল্লাহ আল মুমিন (৩০)এবং প্রকাশ চন্দ্র রায় (৩৪)ঢাকা’কে আটক করা হয়। আটককৃতদের মোবাইল যাচাই-বাছাই করে দেখা যায় তারা প্রত্যেকে টিকেট কালোবাজারীর সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত।
উল্লেখ্য আটককৃত প্রকাশ চন্দ্র রায় (৩৪) এর সাথে অনলাইন প্লাটফর্ম সহজ ডট কম এর কিছু অসাধুকর্মী টিকেট কালোবাজারীর সাথে জড়িত আছে মর্মে স্বীকার করেন। উক্ত চক্রের অন্যতম গ্রাহক কামরুজ্জামান(৩৫)আটক করা হয়।
আরো উল্লেখ্য যে,উক্ত কামরুজ্জামান(৩৫) সাধারনত প্রতিমাসে ১০০-১৫০ এর অধিক টিকেট উক্ত কালোবাজারীর চক্র হতে ক্রয় করত বলে জানা যায়।
সর্বপরি তিনি বলেন,টিকেট কালো বাজারি চক্রের সাথে জড়িত ২শত জন থাকলে ও র্যাব-১ তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে ও এর সাথে আর কারা কারা জড়িত আছেন তাদের সন্ধানে কাজ করছে র্যাব-১ ।
এ সময় ধৃত আসামীদের নিকট হতে ১২ টি মোবাইল ফোন এবং নগদ- ৩,০৩,০৪২/- টাকা উদ্ধার করা হয়।ধৃত অভিযুক্তদের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
ডিএস../