অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র ১৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩১ জুলাই ২০২৫ অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বোর্ড রুমে অনুষ্ঠিত এ সভার সভাপতিত্ব
করেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ। সভায় প্রধান অতিথি ও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক।
এসময় পরিচালনা পর্ষদেরপরিচালক ড. মোহাম্মদ ফজলুল হক, কবিরুল ইজদানী খান, মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ,মুজাফফর আহম্মদ, মো. সাঈদ কুতুব এবং মো. রিজওয়ানুল হুদা, অগ্রণী ব্যাংকের
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষকমো. আমজাদ হোসেন খাঁন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ, মহাব্যবস্থাপকবৃন্দ ও নিরীক্ষা
ফার্মের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় ২০২৪ সালের নিরীক্ষিত আর্থিকবিবরণী সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
সভায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক তাঁর বক্তব্যে অগ্রণীব্যাংকের ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা করেন। আগামীতে ব্যাংকটি সকল
আর্থিক সূচকে অধিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক হিসেবে শীর্ষে অবস্থান করে নিতে পারবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ ২০২৪ সালের নিরীক্ষিতআর্থিক বিবরণীর উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। তিনি ব্যাংকের সকল ব্যবসায়িক ও
আর্থিক সূচকে অগ্রগতি ও সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন।ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. আনোয়ারুল ইসলাম ২০২৪ সালের ব্যবসায়িক
কার্যক্রম ও আর্থিক সূচক সমূহের অবস্থা তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন। ব্যাংকেরশ্রেণীকৃত ঋণ আদায়সহ আমানত, ঋণ ও অগ্রিম, পরিচালন মুনাফা, আমদানি,
রপÍানি, রেমিটেন্স, বিভিন্ন সেবা খাতে ব্যাংকের ভূমিকা উল্লেখ করে সমাজ তথাজাতীয় অর্থনীতিতে রাষ্ট্র মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানের অবদান ও সাফল্যের বিশদ
বর্ণনা দেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,২৮,১০৬কোটি টাকা যা ২০২৩ সালে ছিল ১,২৩,০৯৬ কোটি টাকা এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৫,০১০
কোটি টাকা বা ৪.০৭%। সামগ্রিকভাবে, ২০২৪ সালে ব্যাংকের সুদ উপার্জনক্ষম সম্পদ৮৩,০৬৬ কোটি টাকা যা ২০২৩ সালে ছিল ৮০,৪৭৩ কোটি টাকা, এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার
৩.২২%। ২০২৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংক মোট ২৭,৭৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে যারমধ্যে সরকারী খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ২১,৫৯৯ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের
বিনিয়োগ ২৫,৪৪৪ কোটি টাকার তুলনায় ২০২৪ সালের প্রবৃদ্ধি ২,৩১৬ কোটি টাকাবা ৯.১০%। ২০২৪ সালে ব্যাংকের রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (জঙও) ৮.৭১% যা পূর্ববর্তী
বছরে ছিল ৭.৯০%। ঋণ এবং অগ্রিম ২০২৩ সালের ৭৫,৬৯৯ কোটি টাকা থেকে ৩,৩৩৮কোটি টাকা বা ৪.৪১% বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪ সালে ৭৯,০৩৭ কোটি টাকায় উন্নীত
হয়েছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংকের মোট সংগ্রহকৃত আমানতের পরিমাণ ৯৯,২৩২কোটি টাকা যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩২৩ কোটি টাকা বেশি। ব্যাংকের আমানতের
মধ্যে সুদবিহীন/স্বল্পসুদবাহী আমানত ৫৪%। ২০২৪ সালে ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত
ছিল ৭৯.৬৫%।
২০২৪ সালে ব্যাংক ১,৫১১ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে। উক্ত বছরেব্যাংকের নীট স্প্রেড এর পরিমাণ ৫.৩৮%। এ সময়ে ব্যাংকের পরিচালন ব্যয়ও বাংলাদেশ
ব্যাংকের সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুসারে নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখাহয়েছে। ২০২৪ সালে ব্যাংক মোট ৯,০৮৩ কোটি টাকা সংরক্ষণ করেছে যা ২০২৩ সালের
তুলনায় ২,০৮৪ কোটি টাকা বা ৩০% বেশি।
অন্যান্য বছরের ন্যায় ২০২৪ সালেও রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক সমূহের মধ্যেঅগ্রণী ব্যাংক বৈদেশিক রেমিট্যান্স অর্জনে শীর্ষস্থান বজায় রেখেছে। অগ্রণী ব্যাংক
২০২৪ সালে ২১,০৩৩ কোটি টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স অর্জন করেছে যা ২০২৩ সালেছিল ১১,৯৩৪ কোটি টাকা। এখাতে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ৯,০৯৯ কোটি টাকা বা৭৬.২৪%। এ অর্জনের স্বীকৃতি স্বরূপ অগ্রণী ব্যাংক ’প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিককর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়’ হতে ’রেমিট্যান্স পদক ২০২৪’ অর্জন করে। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০২৪ সালে ব্যাংকের
আমদানির পরিমাণ ৫০,৫৮৮ কোটি টাকা যা ২০২৩ সালে ছিল ৪১,৭৪৫ কোটি টাকা।
এ খাতে প্রবৃদ্ধি ২১.১৮%। ২০২৪ সালে ব্যাংকের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৪,১১৪ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২,০০২ কোটি টাকা। ব্যাংক বছরজুড়ে শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান প্রদর্শনকরেছে। অগ্রণী ব্যাংক ২০২৪ সালে শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে নগদ ৪৪১ কোটি
সহ মোট ১,৭২৬ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করেছে।
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে সুদক্ষব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দক্ষ জনবল নিয়ে সর্ব ক্ষেত্রে ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
সর্বোত্তম সেবা দিয়ে দেশ তথা জাতির উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এ ব্যাংকটি নানাসাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে এগিয়ে চলেছে- ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তাঁর
বক্তব্যে তা তুলে ধরেন। সেই সাথে ২০২৫ সালে ব্যাংকটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারলক্ষ্যে ব্যাংকের সকল ব্যবসায়িক কর্মকান্ড এবং আর্থিক সূচক সমূহের অধিক প্রবৃদ্ধি
অর্জন, অধিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম অর্জনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।


























