শেখ মোহাম্মদ দানিয়াল তাঁর স্বচ্ছ নেতৃত্ব, কৌশলী পরিকল্পনা এবং দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে নিজেকে একজন প্রগতিশীল কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। শুধু পরিচালনা পর্ষদের নেতা নয়, তিনি এক সমাজ সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী, যিনি বিশ্বাস করেন—ব্যবসা মানে দায়বদ্ধতা। সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের সুশাসন, ডিজিটাল রূপান্তর ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাঁর প্রচেষ্টা প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে যাচ্ছে এক নতুন যুগে, যেখানে আস্থা, সেবা ও স্বচ্ছতা একত্রে বিকশিত হয়। শেখ মোহাম্মদ ড্যানিয়েল শুধু একজন সফল কর্পোরেট নেতা নন, তিনি একজন স্বপ্নবান রূপকার, যাঁর চিন্তা ও কর্ম ভবিষ্যতের দিশারী। তাঁর কণ্ঠে যেমন থাকে নেতৃত্বের দৃঢ়তা, তেমনি থাকে সামাজিক দায়বদ্ধতার গভীর সুর। সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সকে তিনি দেখেন কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি আস্থা, মূল্যবোধ ও সামাজিক অগ্রগতির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি যেভাবে এগোচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে দেশের বীমা খাতে এক ইতিবাচক মানদণ্ড হয়ে উঠছে। সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স দেশের বীমা খাতে এক অনন্য নাম। স্বল্প সময়ে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করে সংস্থাটি নিজেদের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে। সোনালী লাইফের অন্যতম পরিচালক শেখ মোহাম্মদ ড্যানিয়েল ভাইয়ের সঙ্গে বিজনেস বাংলাদেশের একান্ত আলাপচারিতায় বীমা খাতের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানার চেষ্টা করব।
প্রশ্ন : সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স সাথে আপনার যাত্রাটা কিভাবে?
উত্তর :শেখ মোহাম্মদ ড্যানিয়েল বলেন, “আসলে সোনালী লাইফের সঙ্গে আমার যাত্রাটা এক্সিডেন্টালি শুরু হলেও বলতে পারেন ভাগ্যেই ছিল। আমাদের পারিবারিক ব্যবসা ছিল গার্মেন্টস সেক্টরে। বিয়ের পর শ্বশুরমশাই আমাকে বললেন ব্যাংক বা ইন্স্যুরেন্স লাইসেন্স নেওয়া যায়। আমি বলেছিলাম ইন্স্যুরেন্স লাইসেন্সই ভালো হবে। তখনই জানতে পারি উনি রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান। পরবর্তীতে রূপালী লাইফ নতুন একটি জীবনবীমা কোম্পানির লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে, আর সেখান থেকেই শুরু হয় আমার বীমা খাতের যাত্রা।”
প্রশ্ন: ক্লেইম নিষ্পত্তিতে সোনালী লাইফ কিভাবে কাজ করে?
উত্তর : শেখ মোহাম্মদ ড্যানিয়েল, “তিনি জানান, বীমা খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো গ্রাহক আস্থা। কারণ অনেক সময় মানুষ ক্লেইম পায় না বা পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। “আমরা প্রথম থেকেই ঠিক করি, আমাদের মূল শক্তি হবে ক্লেইম সেটেলমেন্ট। গ্রাহকের প্রাপ্য টাকা যেন নির্ধারিত সময়ে—বিশেষ করে মৃত্যুর ক্ষেত্রে সাত দিনের মধ্যে—হাতে পায়। এটা এখন আমাদের ডিএনএ হয়ে গেছে। গত ১৩ বছর ধরে আমরা এই নীতি মেনে চলছি।”
প্রশ্ন : আস্থা তৈরির মূলমন্ত্র সোনালী লাইফ এর ক্ষেত্রে কেমন?
উত্তর :শেখ মোহাম্মদ ড্যানিয়েল বলেন, “আমাদের ব্যবসার প্রায় ৮০ শতাংশই সমানুপাতিকভাবে ক্লেইম প্রদান করা। গত বছর প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে আমরা ৪০০ কোটি টাকার বেশি ক্লেইম পরিশোধ করেছি। প্রতিটি ক্লেইম সময়মতো পরিশোধ করা হয়েছে। এটাই আমাদের ইউএসপি—আস্থা।”
প্রশ্ন : মানুষ কেন বীমা করতে ভয় পায় ?
উত্তর : শেখমোহাম্মদ ড্যানিয়েল, বাংলাদেশে এখনো বীমা নিয়ে মানুষের মধ্যে ভীতি আছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বীমা অনেকটা তিতকরলার মতো—খেতে ভালো লাগে না, কিন্তু উপকারী। মানুষ ভাবে এটা খরচ, অথচ আসলে এটি ভবিষ্যতের সুরক্ষা। আজ যদি আমার কিছু হয়ে যায়, আমার সন্তানের শিক্ষা, পরিবারের খরচ চলবে এই বীমার মাধ্যমেই।”
প্রশ্ন :সোনালী লাইফ ইন্সুইরেন্স প্রশিক্ষণ ও স্বচ্ছতার জায়গায় কেমন?
উত্তর : শেখ মোহাম্মদ ড্যানিয়েল,
সোনালী লাইফের প্রতিটি এজেন্টকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ড্যানিয়েল জানান, “আমাদের প্রায় ৩৫ হাজার কর্মীবাহিনী রয়েছে। তাদের প্রতি বছর একাধিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি হেড অফিস থেকে সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় যাতে কোনো এজেন্ট ওভারসেলিং করতে না পারে। এতে গ্রাহকও নিশ্চিত হয় যে তিনি সঠিক প্রোডাক্ট কিনেছেন।”
প্রশ্ন: বীমা খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কি বলে আপনি মনে করেন?
উত্তর : শেখ মোহাম্মদ ড্যানিয়েল, তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের বীমা খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মানসিকতা। “ব্যাংকে চাকরিকে আমরা সম্মানজনক মনে করি, কিন্তু বীমা খাতকে এখনো অনেকে গুরুত্ব দেন না। এজন্য ভালো ট্যালেন্ট আনা কঠিন। আমরা আমাদের অফিসকে এমনভাবে সাজিয়েছি যাতে কর্মীরা একটি মাল্টিন্যাশনাল পরিবেশ পান—ক্যান্টিন, জিম, চাইল্ড কেয়ার, নামাজের জায়গা সব আছে। এতে কর্মীদের মানসিক প্রশান্তি আসে।”
প্রশ্ন: সরকারের ভূমিকা নিয়ে আপনার কি কোন মতামত আছে?
ড্যানিয়েল আশা করেন, সরকারের তরফ থেকে একটি “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, “ইদ্রা (IDRA) অনেক উন্নত হয়েছে, কিন্তু আরও রিসোর্স, বাজেট ও জনবল দরকার। শুধু রেগুলেশন নয়, ডেভেলপমেন্টের দিকেও নজর দেওয়া উচিত। বর্তমানে বাংলাদেশের জীবন বীমার পেনেট্রেশন মাত্র ০.৪%। এ বিশাল মার্কেট ডেভেলপ করলে দেশের অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখা সম্ভব।”
প্রশ্ন: সোনালী লাইফ ইন্সুইরেন্স কে নিয়ে আমরা কি স্বপ্ন দেখতে পারি?
উত্তর : শেখ মোহাম্মদ ড্যানিয়েল, সোনালী লাইফের আগামী দিনের স্বপ্ন নিয়ে ড্যানিয়েল বলেন, “আমাদের টার্গেট হেলথ ইন্স্যুরেন্স সেক্টরকে শক্তিশালী করা। আগামী ১০ বছরে আমরা এ খাতে ক্লিয়ার লিডার হতে চাই এবং আগামী ৩০ বছরে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করব। আমরা চাই, মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে না গিয়ে দেশের ভেতরেই মানসম্মত সেবা পাক, আর সেটা হবে ইন্স্যুরেন্সের মাধ্যমে।”
সাক্ষাৎকারের শেষাংশে তিনি বলেন, “সোনালী লাইফ শুধু একটি কোম্পানি নয়, এটি আস্থার প্রতীক। আমরা চাই বীমাকে মানুষের জীবনের অংশ করে তুলতে, যাতে এটি জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নে বড় অবদান রাখতে পারে।”
ডিএস.//


























