১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

বড়ুয়া উপজেলা লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে আমন ধানে বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

কুমিল্লার বড়ুয়া উপজেলা লালমাই পাহাড়ের পাদদেশজুড়ে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষক সমাজে নেমে এসেছে আনন্দের বন্যা। চারদিকে সোনালি ধানের হাসি—ফসলের মাঠ এখন ব্যস্ততার চিত্রে টইটম্বুর। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষক- কৃষাণীদের মাঠে সরব উপস্থিতি জানান দিচ্ছে সমৃদ্ধ মৌসুমের।

স্থানীয় কৃষক আবুল হাসেম সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকা, সময়মতো বৃষ্টি এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে ফলন বাড়িয়েছে। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, গত বছরের বর্ষার প্লাবনে জমিতে কোন ধান ছিল না তাই এইবার তাদের উৎপাদন তুলনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এবারের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ। এতে তাদের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

এক কৃষক সফিউল্লাহ বলেন, “এইবার আল্লাহর রহমতে ধানের ফলন বাম্পার হয়েছে। যদি সরকার সহযোগিতা করে আর আমরা ধানের প্রকৃত দাম পাই, তাহলে এই অঞ্চলে কৃষিতে এক নতুন বিপ্লব ঘটবে।”

কৃষি বিভাগও মাঠ পর্যায়ে সুখবর নিশ্চিত করেছে। তারা বলছে, সার, বীজ ও পরামর্শ সরবরাহের ফলে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে এবং ফলনও তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে কৃষকদের প্রধান দাবি উৎপাদনের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। বাজারে সঠিক দাম না পেলে চাষাবাদের আগ্রহ কমে যাওয়া এবং ঋণের বোঝা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় বিজয়পুর বাজারে নতুন ধান উঠতে শুরু করায় আমন মৌসুম ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ধান ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা। ক্রয়-বিক্রয়ের জমজমাট পরিবেশ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এবারের আমন ফলন ইতোমধ্যে বড়ুয়া উপজেলার কৃষিচিত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। কৃষকেরা আশাবাদী সরকারি সহায়তা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে লালমাই পাহাড়ঘেরা গ্রামীণ এই অঞ্চল দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ ধানভান্ডারে পরিণত হবে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রবাসীদের হাত ধরে বিদেশি বিনিয়োগ এলে মিলবে নগদ প্রণোদনা

বড়ুয়া উপজেলা লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে আমন ধানে বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

প্রকাশিত : ০৫:১৭:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

কুমিল্লার বড়ুয়া উপজেলা লালমাই পাহাড়ের পাদদেশজুড়ে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষক সমাজে নেমে এসেছে আনন্দের বন্যা। চারদিকে সোনালি ধানের হাসি—ফসলের মাঠ এখন ব্যস্ততার চিত্রে টইটম্বুর। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষক- কৃষাণীদের মাঠে সরব উপস্থিতি জানান দিচ্ছে সমৃদ্ধ মৌসুমের।

স্থানীয় কৃষক আবুল হাসেম সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকা, সময়মতো বৃষ্টি এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে ফলন বাড়িয়েছে। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, গত বছরের বর্ষার প্লাবনে জমিতে কোন ধান ছিল না তাই এইবার তাদের উৎপাদন তুলনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এবারের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ। এতে তাদের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

এক কৃষক সফিউল্লাহ বলেন, “এইবার আল্লাহর রহমতে ধানের ফলন বাম্পার হয়েছে। যদি সরকার সহযোগিতা করে আর আমরা ধানের প্রকৃত দাম পাই, তাহলে এই অঞ্চলে কৃষিতে এক নতুন বিপ্লব ঘটবে।”

কৃষি বিভাগও মাঠ পর্যায়ে সুখবর নিশ্চিত করেছে। তারা বলছে, সার, বীজ ও পরামর্শ সরবরাহের ফলে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে এবং ফলনও তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে কৃষকদের প্রধান দাবি উৎপাদনের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। বাজারে সঠিক দাম না পেলে চাষাবাদের আগ্রহ কমে যাওয়া এবং ঋণের বোঝা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় বিজয়পুর বাজারে নতুন ধান উঠতে শুরু করায় আমন মৌসুম ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ধান ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা। ক্রয়-বিক্রয়ের জমজমাট পরিবেশ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এবারের আমন ফলন ইতোমধ্যে বড়ুয়া উপজেলার কৃষিচিত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। কৃষকেরা আশাবাদী সরকারি সহায়তা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে লালমাই পাহাড়ঘেরা গ্রামীণ এই অঞ্চল দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ ধানভান্ডারে পরিণত হবে।

ডিএস./