১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

দুই দশকের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় আবারও রাউজানে গিয়াসউদ্দিন কাদের

চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা হলে এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দেয়।

রাউজান আসনটি সব সময়ই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ বিজয়ী হন।
১৯৭৯ সালে এ এম জহিরউদ্দীন খান ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়ে বিএনপিকে এ আসনে প্রথম সাফল্য এনে দেন। ঐ নির্বাচনে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে তীব্র লড়াই হয়েছিল।

১৯৮৮ সালে সাবেক ছাত্রনেতা জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু নাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির দুর্লভ বিজয় অর্জন করেন।

এরপর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ৪৮,৩৪৩ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নৌকার মাঝি আবদুল্লাহ আল হারুন, যিনি পান ৩২,১০৫ ভোট।

গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রাজনৈতিক পথচলা

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রথমবার নির্বাচিত হন ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির হয়ে চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে। পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাউজান থেকে ধানের শীষ প্রতীকে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনে গোলাম আকবর খোন্দকার বিনাভোটে বিজয়ী হলেও জুনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী দুজনেই বিএনপিতে যোগ দেন।

১৯৯৬ ও ২০০১ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য লড়াই

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৫০,০৫৯ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে ১৪,০৬৬ ভোটে পরাজিত করেন।

২০০১ সালে তিনি আবারো ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬৭,৩৪০ ভোট পান, যদিও অল্প ব্যবধানে ফজলে করিম চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন।

২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির হয়ে লড়লেও বিভিন্ন কৌশলগত প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জয় পাননি। তবুও তিনি দল ছাড়েননি; বরং কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নেতাকর্মীদের সুখে দুঃখে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন অফলাইনে অপপ্রচারসহ নানা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হলেও মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের সংগঠনিক তৎপরতা ও জনগণের সমর্থনে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী এগিয়ে ছিলেন।

রাউজান বিএনপি, অঙ্গসংগঠন এবং স্থানীয় ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন তার মনোনয়ন প্রাপ্তিকে আরও দৃঢ় করে।

একই আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে আগ্রহী ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার এবং ২০১৮ সালের ধানের শীষের প্রার্থী জসিম উদ্দিন সিকদার। তবে বিভিন্ন সংগঠনিক সূচক ও জনসমর্থন বিবেচনা করে বিএনপি হাইকমান্ড গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়।

রাউজানে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে গতি

মনোনয়ন ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাউজানে বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বিজয়ী করতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামবেন।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রবাসীদের হাত ধরে বিদেশি বিনিয়োগ এলে মিলবে নগদ প্রণোদনা

দুই দশকের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় আবারও রাউজানে গিয়াসউদ্দিন কাদের

প্রকাশিত : ০৫:১৪:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা হলে এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দেয়।

রাউজান আসনটি সব সময়ই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ বিজয়ী হন।
১৯৭৯ সালে এ এম জহিরউদ্দীন খান ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়ে বিএনপিকে এ আসনে প্রথম সাফল্য এনে দেন। ঐ নির্বাচনে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে তীব্র লড়াই হয়েছিল।

১৯৮৮ সালে সাবেক ছাত্রনেতা জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু নাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির দুর্লভ বিজয় অর্জন করেন।

এরপর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ৪৮,৩৪৩ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নৌকার মাঝি আবদুল্লাহ আল হারুন, যিনি পান ৩২,১০৫ ভোট।

গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রাজনৈতিক পথচলা

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রথমবার নির্বাচিত হন ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির হয়ে চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে। পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাউজান থেকে ধানের শীষ প্রতীকে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনে গোলাম আকবর খোন্দকার বিনাভোটে বিজয়ী হলেও জুনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী দুজনেই বিএনপিতে যোগ দেন।

১৯৯৬ ও ২০০১ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য লড়াই

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৫০,০৫৯ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে ১৪,০৬৬ ভোটে পরাজিত করেন।

২০০১ সালে তিনি আবারো ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬৭,৩৪০ ভোট পান, যদিও অল্প ব্যবধানে ফজলে করিম চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন।

২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির হয়ে লড়লেও বিভিন্ন কৌশলগত প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জয় পাননি। তবুও তিনি দল ছাড়েননি; বরং কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নেতাকর্মীদের সুখে দুঃখে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন অফলাইনে অপপ্রচারসহ নানা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হলেও মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের সংগঠনিক তৎপরতা ও জনগণের সমর্থনে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী এগিয়ে ছিলেন।

রাউজান বিএনপি, অঙ্গসংগঠন এবং স্থানীয় ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন তার মনোনয়ন প্রাপ্তিকে আরও দৃঢ় করে।

একই আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে আগ্রহী ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার এবং ২০১৮ সালের ধানের শীষের প্রার্থী জসিম উদ্দিন সিকদার। তবে বিভিন্ন সংগঠনিক সূচক ও জনসমর্থন বিবেচনা করে বিএনপি হাইকমান্ড গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়।

রাউজানে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে গতি

মনোনয়ন ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাউজানে বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বিজয়ী করতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামবেন।

ডিএস./