রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে ঘিরে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক বলে দাবি করেছেন সংগঠনের নেতারা।
নবঘোষিত কমিটিকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে তারা শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি মো. তুহিন রানা। এসময় উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মো. ইয়ামিন, সাধারণ সম্পাদক মো. জহির রায়হান, সহ-সভাপতি মো. মাইদুল ইসলাম বাপ্পি, সহ-সভাপতি মো. তুহিন রানা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিফাত হোসেন রাফি, সাংগঠনিক সম্পাদক সজিব গাজী, দপ্তর সম্পাদক মো. সুমন হোসাইন, প্রচার সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক মোছা. আসমা আক্তার খুশিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।
লিখিত বক্তব্যে তুহিন রানা বলেন, ছাত্রদল দীর্ঘদিন ধরে ত্যাগ, যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় ত্যাগী, নির্যাতিত, অ-বিতর্কিত ও শিক্ষার্থীদের কাছে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য নেতাকর্মীদের নিয়ে আংশিক নতুন কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ যাচাই–বাছাই ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে গত ২৭ নভেম্বর ৯ সদস্যের আংশিক নতুন কমিটি প্রকাশ করে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ।
তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য-কমিটি ঘোষণার কয়েকদিন পর ইমরান নামে একজন সাবেক শিক্ষার্থী নিজেদের ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে সংবাদ সম্মেলন করে কয়েকটি ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলেন। একটি গোষ্ঠীর প্ররোচনায় তিনি অপপ্রচার চালিয়েছেন।” তুহিন দাবি করেন, এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। “আমরা মুসা ভাইকে (কমিটি গঠনের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি) এক কাপ চা-নাস্তা পর্যন্ত করাতে পারিনি। অথচ অর্থ লেনদেনের মতো হাস্যকর অভিযোগ তোলা হয়েছে—যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।”
তুহিন আরও বলেন, “ইমরান নামের ওই সাবেক শিক্ষার্থী উদ্দেশ্যমূলকভাবে দলের ভেতরে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সংগঠনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছেন। আমরা তার এই আগ্রাসী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, নবগঠিত কমিটির বিরুদ্ধে এমন প্রচারণা একটি সংগঠিত মহলের কাজ, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তারা বলেন, “নতুন এই কমিটি সৎ, পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের নিয়ে গঠিত। তাই শুরু থেকেই একটি গোষ্ঠী এটিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।”
এসময় সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, “ছাত্রদল কখনো টাকার ভিত্তিতে কমিটি গঠন করে না। আমাদের সংগঠনের ভিত্তি হচ্ছে ত্যাগ, ঐতিহ্য ও মতাদর্শ। নতুন কমিটি প্রকাশের পর থেকেই আমরা দেখছি পরিকল্পিত অপপ্রচারের মাধ্যমে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। এসব ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না।”
সাধারণ সম্পাদক মো. জহির রায়হান বলেন, “যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, সেগুলোর কোনও প্রমাণ নেই। উল্টো অভিযোগকারী নিজেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত। সংগঠনকে বিভক্ত করার জন্য তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব কথা বলেছেন।”
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) একই বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পদবঞ্চিত সভাপতি প্রার্থী ইমরান হোসেন অভিযোগ করেন, নতুন কমিটি ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে গঠিত হয়েছে। তার দাবি-তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নেওয়ার পর আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগকে নবগঠিত কমিটির নেতারা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা একযোগে বলেন, “ছাত্রদল কখনো অর্থের বিনিময়ে সংগঠন পরিচালনা করে না।ত্যাগীরাই নেতৃত্ব পায়-এটাই ছাত্রদলের ঐতিহ্য ও শক্তি।শেষ পর্যন্ত তারা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
ডিএস./






















