১২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

একটি সেতুর অভাবে হাজারও মানুষ চরম দুর্ভোগে

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় একটি সেতুর অভাবে হাজারও মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অনেক জনপ্রতিনিধিরা আসছেন গেছেন, ভোটের সময় ভাঙা সেতুর স্থানে নতুন সেতু করার অঙ্গীকারও করেছেন; কিন্তু কথা রাখেনি কেউ।

জানা গেছে, ভারত থেকে আসা গিরিধর নদীর পানি প্রবাহ। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দীগলটারী এলাকার দালাইলামা ছড়ার ওপর নির্মিত সেতুটি গত ৭ বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে। দীগলটারি বিজিবি ক্যাম্পের পূর্বে এবং ডিগ্রিচর এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এই ভাঙা সেতুর কারণে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুই পাড়ের অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবারকে। কয়েকটি জায়গায় সেতুর খন্ডিতাংশের কিছু দাঁড়িয়ে ও কিছু পানিতে ডুবে আছে। এতে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে মানুষের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এই ভাঙা সেতুর কারণে দুই পাড়ের মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী এবং কৃষকরা।

স্থানীরা জানান, যুগের পর যুগ অপেক্ষায় থাকার পর ২০১৬ সালে স্থানীয় সরকার প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের মাত্র এক বছরের মাথায় ২০১৭ সালের বন্যায় সেটি ভেঙে ভেসে যায়। এরপর থেকে স্থানীয়রা কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এরমাঝে অনেক জনপ্রতিনিধিরা আসছেন-গেছেন, ভোটের সময় ভাঙা সেতুর স্থানে নতুন সেতু করার অঙ্গীকারও করেছেন; কিন্তু কেউ কথা রাখেনি!।

স্থানীয় বাসিন্দা নুর মোসলেম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ৫‘শ থেকে ৭‘শ মানুষ এখানে বসবাস করি। রাস্তাঘাট এমনিতেই কাঁচা, তার ওপর সেতুটি এক বছর না যেতেই ভেঙে পড়েছে। ছেলেমেয়েরা খুব কষ্ট করে স্কুল-কলেজে যাচ্ছে। চিকিৎসার অসুবিধা চরম। রোগী অসুস্থ হলে কাঁধে করে নিয়ে পারাপার করতে হয়। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি সেতুটি যেন দ্রুত পুনঃনির্মাণ করা হয়।

এলাকাবাসী মিজানুর রহমান বলেন, সেতুর অভাবে আমরা আমাদের কষ্টে অর্জিত ফসল ঘরে তুলতে সমস্যা হচ্ছে। গাড়ী বা যানবাহন চলাচলের উপায় নেই। তাই কাদা-পানিতে ফসল কাঁধে নিয়ে পাপারে খুব কষ্ট হয়। শ্রমিক দিয়ে ফসল বহনে খরচ বেড়ে যায়। তাছাড়া রাতের বেলা চলাচল আরো ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ কোনো আলো থাকে না। সরকারের কাছে দাবি, যেন দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

শিক্ষক নূর আলম বলেন, কেউ কথা রাখছে না। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা আমাদের কাছে আসেন ভোট চাইতে। ওয়াদা করেন সেতু করে দেবে। অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেন আমাদের যাতায়াতের পথে সেতু নির্মাণ করে দেয়ার। কেউ আর সেতু করে দেন না।

লালমনিরহাটের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার আলম বলেন, সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে দ্রুতই কাজটি করা সম্ভব হবে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জে দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা তারেক রহমানের

একটি সেতুর অভাবে হাজারও মানুষ চরম দুর্ভোগে

প্রকাশিত : ০৪:২৭:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় একটি সেতুর অভাবে হাজারও মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অনেক জনপ্রতিনিধিরা আসছেন গেছেন, ভোটের সময় ভাঙা সেতুর স্থানে নতুন সেতু করার অঙ্গীকারও করেছেন; কিন্তু কথা রাখেনি কেউ।

জানা গেছে, ভারত থেকে আসা গিরিধর নদীর পানি প্রবাহ। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দীগলটারী এলাকার দালাইলামা ছড়ার ওপর নির্মিত সেতুটি গত ৭ বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে। দীগলটারি বিজিবি ক্যাম্পের পূর্বে এবং ডিগ্রিচর এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এই ভাঙা সেতুর কারণে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুই পাড়ের অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবারকে। কয়েকটি জায়গায় সেতুর খন্ডিতাংশের কিছু দাঁড়িয়ে ও কিছু পানিতে ডুবে আছে। এতে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে মানুষের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এই ভাঙা সেতুর কারণে দুই পাড়ের মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী এবং কৃষকরা।

স্থানীরা জানান, যুগের পর যুগ অপেক্ষায় থাকার পর ২০১৬ সালে স্থানীয় সরকার প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের মাত্র এক বছরের মাথায় ২০১৭ সালের বন্যায় সেটি ভেঙে ভেসে যায়। এরপর থেকে স্থানীয়রা কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এরমাঝে অনেক জনপ্রতিনিধিরা আসছেন-গেছেন, ভোটের সময় ভাঙা সেতুর স্থানে নতুন সেতু করার অঙ্গীকারও করেছেন; কিন্তু কেউ কথা রাখেনি!।

স্থানীয় বাসিন্দা নুর মোসলেম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ৫‘শ থেকে ৭‘শ মানুষ এখানে বসবাস করি। রাস্তাঘাট এমনিতেই কাঁচা, তার ওপর সেতুটি এক বছর না যেতেই ভেঙে পড়েছে। ছেলেমেয়েরা খুব কষ্ট করে স্কুল-কলেজে যাচ্ছে। চিকিৎসার অসুবিধা চরম। রোগী অসুস্থ হলে কাঁধে করে নিয়ে পারাপার করতে হয়। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি সেতুটি যেন দ্রুত পুনঃনির্মাণ করা হয়।

এলাকাবাসী মিজানুর রহমান বলেন, সেতুর অভাবে আমরা আমাদের কষ্টে অর্জিত ফসল ঘরে তুলতে সমস্যা হচ্ছে। গাড়ী বা যানবাহন চলাচলের উপায় নেই। তাই কাদা-পানিতে ফসল কাঁধে নিয়ে পাপারে খুব কষ্ট হয়। শ্রমিক দিয়ে ফসল বহনে খরচ বেড়ে যায়। তাছাড়া রাতের বেলা চলাচল আরো ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ কোনো আলো থাকে না। সরকারের কাছে দাবি, যেন দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

শিক্ষক নূর আলম বলেন, কেউ কথা রাখছে না। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা আমাদের কাছে আসেন ভোট চাইতে। ওয়াদা করেন সেতু করে দেবে। অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেন আমাদের যাতায়াতের পথে সেতু নির্মাণ করে দেয়ার। কেউ আর সেতু করে দেন না।

লালমনিরহাটের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার আলম বলেন, সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে দ্রুতই কাজটি করা সম্ভব হবে।

ডিএস./