১২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লায় দুই পরিবহণ সংস্থার দ্বন্দ্বে তিন বাস টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ

কুমিল্লায় দুই পরিবহণ সংস্থা বোগদাদ ও আইদি সার্ভিসের দ্বন্দ্বের জেরে নগরীর তিনটি বাস টার্মিনাল থেকে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, এর ফলে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার প্রায় ৪০টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল থেকে কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ বাস টার্মিনাল, শাসনগাছা বাস টার্মিনাল ও পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড টার্মিনাল থেকে কোনো রুটেই বাস ছেড়ে যায়নি। হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাসগুলো দাঁড়িয়ে থাকলেও চালক ও শ্রমিকরা গাড়ি ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করছেন। যাত্রীদের অনেকে বিকল্প যানবাহনের সন্ধানে ঘুরে বেড়ালেও অতিরিক্ত ভাড়া ও যান সংকটে বিপাকে পড়েন।

পরিবহণ নেতাদের সূত্রে জানা যায়, জাঙ্গালিয়া বাস টার্মিনাল থেকে কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়কে আইদি পরিবহণের বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি। মূলত ২০২৩ সালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আইদি পরিবহণ চলাচল শুরু করার পর থেকেই এই বিরোধের সূত্রপাত। আইদি পরিবহণের চেয়ারম্যান মীর পারভেজ আলম অভিযোগ করেন, চাঁদপুর থেকে অনুমতি থাকলেও কুমিল্লার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট তাদের চলাচলে বাধা দিচ্ছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন থেকে অনাপত্তিপত্র না পাওয়ায় গত ফেব্রুয়ারি থেকে তারা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে সার্ভিস পরিচালনা করে আসছিলেন।

অন্যদিকে কুমিল্লা বাস মালিক সমিতির কার্যকরী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘আইদি পরিবহণ চাঁদপুর থেকে পারমিট পেলেও কুমিল্লা থেকে কোনো রুট পারমিট পায়নি। তবুও তারা জোর করে টার্মিনাল ব্যবহার করতে চাচ্ছে।’ তিনি জানান, বুধবার ও বৃহস্পতিবারও জোরপূর্বক বাস টার্মিনালে আনার চেষ্টা করা হলে শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা তিনটি টার্মিনাল থেকেই বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

তাৎক্ষনিক ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম জানান, সকালে জাঙ্গালিয়া এসে বাস না পেয়ে ১০০ টাকা বেশি ভাড়ায় বিকল্প পথে গন্তব্যে রওনা হয়েছেন। আবদুল হাই নামের অন্য এক যাত্রী জানান, পরিবহণ ধর্মঘটের কারণে আজ তাঁর বাড়ি ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সাহেবের সঙ্গে বসেছিলেন। আমরা দ্রুত সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় নগরীর সড়কগুলোতে যাত্রীদের চাপ কম থাকলেও জনদুর্ভোগ বেড়েছে বহুগুণ। দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

যাত্রীসেবা স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জে দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা তারেক রহমানের

কুমিল্লায় দুই পরিবহণ সংস্থার দ্বন্দ্বে তিন বাস টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ

প্রকাশিত : ০৪:২৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

কুমিল্লায় দুই পরিবহণ সংস্থা বোগদাদ ও আইদি সার্ভিসের দ্বন্দ্বের জেরে নগরীর তিনটি বাস টার্মিনাল থেকে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, এর ফলে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার প্রায় ৪০টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল থেকে কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ বাস টার্মিনাল, শাসনগাছা বাস টার্মিনাল ও পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড টার্মিনাল থেকে কোনো রুটেই বাস ছেড়ে যায়নি। হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাসগুলো দাঁড়িয়ে থাকলেও চালক ও শ্রমিকরা গাড়ি ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করছেন। যাত্রীদের অনেকে বিকল্প যানবাহনের সন্ধানে ঘুরে বেড়ালেও অতিরিক্ত ভাড়া ও যান সংকটে বিপাকে পড়েন।

পরিবহণ নেতাদের সূত্রে জানা যায়, জাঙ্গালিয়া বাস টার্মিনাল থেকে কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়কে আইদি পরিবহণের বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি। মূলত ২০২৩ সালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আইদি পরিবহণ চলাচল শুরু করার পর থেকেই এই বিরোধের সূত্রপাত। আইদি পরিবহণের চেয়ারম্যান মীর পারভেজ আলম অভিযোগ করেন, চাঁদপুর থেকে অনুমতি থাকলেও কুমিল্লার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট তাদের চলাচলে বাধা দিচ্ছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন থেকে অনাপত্তিপত্র না পাওয়ায় গত ফেব্রুয়ারি থেকে তারা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে সার্ভিস পরিচালনা করে আসছিলেন।

অন্যদিকে কুমিল্লা বাস মালিক সমিতির কার্যকরী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘আইদি পরিবহণ চাঁদপুর থেকে পারমিট পেলেও কুমিল্লা থেকে কোনো রুট পারমিট পায়নি। তবুও তারা জোর করে টার্মিনাল ব্যবহার করতে চাচ্ছে।’ তিনি জানান, বুধবার ও বৃহস্পতিবারও জোরপূর্বক বাস টার্মিনালে আনার চেষ্টা করা হলে শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা তিনটি টার্মিনাল থেকেই বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

তাৎক্ষনিক ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম জানান, সকালে জাঙ্গালিয়া এসে বাস না পেয়ে ১০০ টাকা বেশি ভাড়ায় বিকল্প পথে গন্তব্যে রওনা হয়েছেন। আবদুল হাই নামের অন্য এক যাত্রী জানান, পরিবহণ ধর্মঘটের কারণে আজ তাঁর বাড়ি ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সাহেবের সঙ্গে বসেছিলেন। আমরা দ্রুত সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় নগরীর সড়কগুলোতে যাত্রীদের চাপ কম থাকলেও জনদুর্ভোগ বেড়েছে বহুগুণ। দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

যাত্রীসেবা স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

ডিএস./