চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ায় কোনো ধরনের আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি বলে দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবীরা। তারা বলেন, আইনের সকল বিধিবিধান অনুসরণ করেই জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন। এ বিষয়ে একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত।
২৮ জানুয়ারি (বুধবার) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সরওয়ার আলমগীরের আইনজীবী এডভোকেট রেজাউল করিম রণি।
সংবাদ সম্মেলনে এডভোকেট রেজাউল করিম রণি বলেন, হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মঙ্গলবার সরওয়ার আলমগীরের রিট শুনানি শেষে তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন এবং অবিলম্বে প্রতীক বরাদ্দের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। ওই আদেশের পর আইনজীবীর প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রতীক বরাদ্দ দেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের ৪৪ ডিএলআর (এডি) ২১৯ পৃষ্ঠার রায় অনুযায়ী আইনজীবীর প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে আদেশ কার্যকর করা সম্পূর্ণ বৈধ এবং তা মানতে সংশ্লিষ্ট সবাই বাধ্য।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হাসান আলী চৌধুরী বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা সরওয়ার আলমগীরকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন সম্পূর্ণ আইনের মধ্য দিয়েই। এখানে কোনো বেআইনি কাজ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ড একই দিনে সকালে সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলেও বিকেলে আবার তা অবৈধ ঘোষণা করে। উভয় ক্ষেত্রেই আইনজীবীর প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমেই আদেশ কার্যকর করা হয়েছিল।
এডভোকেট রেজাউল করিম রণি অভিযোগ করে বলেন, সরওয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা ঠেকাতে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন একের পর এক মামলা করেছেন। অথচ সরওয়ার আলমগীর কোনো ঋণখেলাপি নন। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি অনুযায়ী তিনি পাঁচটি ব্যাংকের ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন এবং কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ আগেই পরিশোধ করেছেন। তবুও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো মামলা না করলেও নুরুল আমিন ব্যাংকের পক্ষ হয়ে মামলা করেছেন। পরবর্তীতে ব্যাংক এশিয়া ও প্রিমিয়ার লিজিং তাদের মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবীরা জানান, গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ড ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম-২) আসনে বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে। কিন্তু একইদিন বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি ছাড়াই কেবল লয়ার সার্টিফিকেট জমা দিয়ে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এক সপ্তাহ ধরে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি প্রচারণার মাঠের বাইরে থাকলেও মঙ্গলবার হাইকোর্টের আদেশে আবার প্রার্থিতা ফিরে পান।
আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের আদেশ ও অনলাইন কোর্ট ডকুমেন্টের ভিত্তিতে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ায় একটি গোষ্ঠী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিঞার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এডভোকেট হাসান আলী চৌধুরী বলেন, লয়ার সার্টিফিকেটকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট অবজারভেশন রয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও আসিফ হাসানের বেঞ্চ সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে প্রতীক ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি।
আইনজীবীরা আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ড একই দিনে দুই ধরনের আদেশ দিয়েছেন একবার মনোনয়ন বৈধ, পরে আবার অবৈধ। জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে কেবল লয়ার সার্টিফিকেট ও অনলাইন স্ক্রিনশট উপস্থাপন করেই মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল। তখন কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি। কিন্তু হাইকোর্টের রায়ে বিএনপির প্রার্থী প্রতীক পাওয়ার পর বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যা নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত।
তারা বলেন, জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে আইনজীবীর প্রত্যয়নপত্র বৈধ হলে বিএনপির প্রার্থীর ক্ষেত্রেও তা বৈধ হতে হবে। এক দেশে দুই আইন চলতে পারে না। প্রিমিয়ার লিজিং লিমিটেডের সঙ্গে পুরোনো আইনি বিরোধকে কেন্দ্র করে সরওয়ার আলমগীরকে নির্বাচনের মাঠের বাইরে রাখার চেষ্টা করা হলেও ওই প্রতিষ্ঠান তাদের পিটিশন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার দিন তাঁর সব ঋণ পুনঃতফসিল করা ছিল এবং তিনি কোনোভাবেই ঋণখেলাপি নন।
আইনজীবীরা বলেন, এসব বাস্তবতার পরও প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে অপপ্রচার ও গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হাসান আলী চৌধুরী, সাবেক সভাপতি এডভোকেট এনামুল হক, এডভোকেট রেজাউল করিম রণি, এডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ, এডভোকেট হাসান উদ্দিনসহ আরও অনেকে।
ডিএস./



















