কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নীলফামারীতে দিনব্যাপী ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (PARTNER)’ প্রকল্পের আওতায় এ কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নীলফামারী উপজেলা পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে জেলার কৃষি উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুবাশ্বিরা আয়াতুল্লাহ, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, কৃষি খাতকে আধুনিক ও লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার বিকল্প নেই। পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাতের ফসল, বাজারসংযোগ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির পথ আরও সুগম হবে।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রার বলেন, দেশের প্রচলিত কৃষিকে খোরপোষভিত্তিক চাষাবাদ থেকে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরের মাধ্যমে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহনশীল ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। কৃষকদের দোরগোড়ায় আধুনিক তথ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।
কংগ্রেসে উচ্চফলনশীল ও নতুন জাতের ফসল সম্প্রসারণ, কৃষিপণ্যের কার্যকর বাজারজাতকরণ, কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ, খাদ্যের গুণগত মানোন্নয়ন এবং বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
এর আগে অতিথিরা উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে স্থাপিত বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন। স্টলগুলোতে উন্নত জাতের ধান, শাকসবজি, ফলদ ও বনজ গাছের চারা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং কৃষিভিত্তিক উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রদর্শন করা হয়। এসব প্রদর্শনী কৃষক ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
দিনব্যাপী এ কংগ্রেসে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) কর্মকর্তা, পিএফএস ও নন-পিএফএসভুক্ত কৃষক-কৃষাণী, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন প্রকার সার, উচ্চফলনশীল আমন ধানের বীজ এবং ফলদ-বনজসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি কৃষি উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় স্থানীয় কৃষক সেবা কেন্দ্র ও সফল কৃষি উদ্যোক্তাদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, কৃষিকে আরও আধুনিক, উৎপাদনমুখী ও জলবায়ু সহনশীল খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে পার্টনার প্রকল্পের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।
ডিএস./



















