০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দক্ষ ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী প্রয়োজন- সেনাপ্রধান

সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব ন্যস্ত হলো। দেশের সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন বহির্বিশ্বেও অবদান রেখে চলেছে। সেনাবাহিনীকে একটি প্রশিক্ষিত, সুশৃঙ্খল এবং আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সেনাপ্রধান।

সেনাপ্রধান বলেন, মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে দক্ষ, আধুনিক ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। আর এ বাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব মূলত অফিসারদের ওপরই ন্যস্ত।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, সামরিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, সততা ও দেশপ্রেমের মতো গুণাবলি একজন সৈনিকের পেশাগত দক্ষতা ও ব্যক্তিগত জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সেনাপ্রধান বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধ একজন সৈনিককে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক ও জবাবদিহিমূলক হতে সহায়তা করে। তিনি সকল সেনাসদস্যকে নিজ নিজ ধর্মের অনুশাসন যথাযথভাবে পালন এবং মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।

সেনাপ্রধান আরও বলেন, আধুনিক ও পেশাদার সেনাবাহিনী গঠনের পাশাপাশি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবময় ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীস্থ বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ, ২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন ও নবনির্মিত প্রকল্পসমূহের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, দক্ষ, চৌকস ও মেধাবী সেনা কর্মকর্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এখান থেকে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি বলেন, পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় অফিসার ক্যাডেটদের জন্য আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

সেনাপ্রধান নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, শপথগ্রহণের মধ্যদিয়ে তাদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এই দায়িত্ব পালনে সততা, শৃঙ্খলা, কর্তব্যবোধ ও পেশাদারত্বের পরিচয় দিতে হবে।

এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করেন। পাশাপাশি তিনি কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সর্বমোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন মহিলা অফিসার রয়েছেন। এছাড়াও, চারজন ফিলিস্তিন, একজন তানজানিয়া, একজন জাম্বিয়া ও একজন মালদ্বীপের অফিসার ক্যাডেট বিএমএ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, যারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদান করবেন।

৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে অসামান্য গৌরবমণ্ডিত ‘সোর্ড অব অনার’ ও সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন। পাশাপাশি, এ একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশি ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ অর্জন করেন সার্জেন্ট আবু বকর।

কুচকাওয়াজ শেষে সেনাপ্রধান প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন। পরে নবীন কর্মকর্তাদের মা-বাবা ও অভিভাবকেরা তাদের র‍্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠানের পর সেনাপ্রধান বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে নবগঠিত ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি নবনির্মিত সিএমএইচ ভাটিয়ারী, বিএমএ পার্ক, সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্স প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি, অভিভাবক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএস./

ট্যাগ :

ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দক্ষ ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী প্রয়োজন- সেনাপ্রধান

প্রকাশিত : ০৫:২৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব ন্যস্ত হলো। দেশের সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন বহির্বিশ্বেও অবদান রেখে চলেছে। সেনাবাহিনীকে একটি প্রশিক্ষিত, সুশৃঙ্খল এবং আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সেনাপ্রধান।

সেনাপ্রধান বলেন, মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে দক্ষ, আধুনিক ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। আর এ বাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব মূলত অফিসারদের ওপরই ন্যস্ত।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, সামরিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, সততা ও দেশপ্রেমের মতো গুণাবলি একজন সৈনিকের পেশাগত দক্ষতা ও ব্যক্তিগত জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সেনাপ্রধান বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধ একজন সৈনিককে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক ও জবাবদিহিমূলক হতে সহায়তা করে। তিনি সকল সেনাসদস্যকে নিজ নিজ ধর্মের অনুশাসন যথাযথভাবে পালন এবং মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।

সেনাপ্রধান আরও বলেন, আধুনিক ও পেশাদার সেনাবাহিনী গঠনের পাশাপাশি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবময় ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীস্থ বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ, ২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন ও নবনির্মিত প্রকল্পসমূহের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, দক্ষ, চৌকস ও মেধাবী সেনা কর্মকর্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এখান থেকে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি বলেন, পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় অফিসার ক্যাডেটদের জন্য আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

সেনাপ্রধান নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, শপথগ্রহণের মধ্যদিয়ে তাদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এই দায়িত্ব পালনে সততা, শৃঙ্খলা, কর্তব্যবোধ ও পেশাদারত্বের পরিচয় দিতে হবে।

এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করেন। পাশাপাশি তিনি কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সর্বমোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন মহিলা অফিসার রয়েছেন। এছাড়াও, চারজন ফিলিস্তিন, একজন তানজানিয়া, একজন জাম্বিয়া ও একজন মালদ্বীপের অফিসার ক্যাডেট বিএমএ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, যারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদান করবেন।

৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে অসামান্য গৌরবমণ্ডিত ‘সোর্ড অব অনার’ ও সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন। পাশাপাশি, এ একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশি ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ অর্জন করেন সার্জেন্ট আবু বকর।

কুচকাওয়াজ শেষে সেনাপ্রধান প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন। পরে নবীন কর্মকর্তাদের মা-বাবা ও অভিভাবকেরা তাদের র‍্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠানের পর সেনাপ্রধান বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে নবগঠিত ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি নবনির্মিত সিএমএইচ ভাটিয়ারী, বিএমএ পার্ক, সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্স প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি, অভিভাবক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএস./