দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, উপকূলীয় এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার এবং দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে জাপানের দেওয়া পাঁচটি আধুনিক উচ্চগতির পেট্রোল বোট।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জাপানের Official Security Assistance (OSA) কর্মসূচির আওতায় দেওয়া এসব পেট্রোল বোট আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমোয়াকি। এছাড়া জাপানের প্রতিনিধি দল, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
নৌবাহিনী সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক আস্থা এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের নভেম্বরে পাঁচটি উচ্চগতির পেট্রোল বোট সংগ্রহে দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। একই বছরের নভেম্বরে নোট বিনিময়ের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বোটগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছে।
বোটগুলো দেশে আসার পর জাপানি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ‘বানৌজা নির্ভীক’-এ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এগুলো নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিটি পেট্রোল বোটের দৈর্ঘ্য ১৬ দশমিক ১৫ মিটার, প্রস্থ ৩ দশমিক ৫৩ মিটার এবং গভীরতা ১ দশমিক ৭৮ মিটার। প্রায় ১৩ দশমিক ৫ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এসব বোট ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২ মাইল গতিতে চলতে পারে। অল্প গভীরতার নদী, মোহনা ও উপকূলীয় জলপথে চলাচলের উপযোগী হওয়ায় দুর্গম ও সংকীর্ণ নৌপথেও এগুলো কার্যকরভাবে অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।
নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, নতুন এসব পেট্রোল বোট দেশের সমুদ্রবন্দর, নদী ও উপকূলীয় এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, মানবিক সহায়তা প্রদান, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ, অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ এবং দেশের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও এসব বোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নৌবাহিনী আরও জানিয়েছে, জাপানের OSA কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্প শুধু নৌবাহিনীর সক্ষমতাই বৃদ্ধি করবে না; বরং বাংলাদেশ ও জাপানের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্রও উন্মোচিত হবে।
ডিএস./



















