নওগাঁ সদর উপজেলার তিনটি বিল ও মুক্ত জলাশয়ে ২৬০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় শনিবার দুপুরে সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
উপজেলার হাঁসাইগাড়ি ইউনিয়নের হাঁসাইগাড়ি বিল, গুটার বিলসহ তিনটি মুক্ত জলাশয়ে পর্যায়ক্রমে এসব পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে স্থানীয় জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্যসম্পদের সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পোনামাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু। অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এমপি ধলু বলেন, বাংলাদেশ মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ একটি দেশ। দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে মৎস্যসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণের পাশাপাশি দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, মুক্ত জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্ত করার ফলে একদিকে যেমন মাছের উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।
এমপি ধলু আরও বলেন, শুধু পোনামাছ অবমুক্ত করলেই হবে না, এগুলোকে নিরাপদে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। এ জন্য স্থানীয় মৎস্যজীবী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি অবমুক্ত করা পোনামাছ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে তিনি জলাশয়ে অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যবহার না করার জন্য মৎস্যজীবীদের প্রতি অনুরোধ করেন। অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ধরা পড়ায় মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নূরুল আমিন, সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দিপংকর পাল (অ.দা.), নওগাঁ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শ.ম.আ. আল কাফি তুহিন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হায়দার টিপু, হাঁসাইগাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জালাল হোসেন এবং বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সারোয়ার কামাল চঞ্চল।
এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, এলাকার মৎস্যজীবী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি উদ্যোগে নিয়মিত পোনামাছ অবমুক্ত করার ফলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের বংশবৃদ্ধি ও উৎপাদন বাড়বে। এতে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।মৎস্যসম্পদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জলাশয় সংরক্ষণ, মাছের প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা এবং অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে জানান কর্মকর্তারা।
ডিএস./



















