০৫:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আশুলিয়ায় রুম থেকে স্বামী স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, পাশে ছিলো মৃত ভ্রূণ

আশুলিয়ায় একটি ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে মৃত ভ্রূণসহ স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছেন পুলিশ। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন পুলিশ।

শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হযরত আলীর একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করেন।

নিহতরা হলেন, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড় মাগুড়া পাকপাড়া এলাকার নাজমা আক্তার (৩৩) এবং তাঁর স্বামী পলাশবাড়ী এলাকার আলমগীর হোসেন (৪২)। স্বামী স্ত্রী ওই বাসায় ভাড়া থেকে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট ওই কক্ষটি ভাড়া নেন আলমগীর ও নাজমা দম্পতি। গত তিন দিন ধরে কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। শুক্রবার আশপাশের ভাড়াটেরা কক্ষ থেকে পচা গন্ধ পেয়ে বিষয়টি ভবনের মালিককে জানান।

প্রথমে ভবন মালিক ধারণা করেছিলেন, কোনো বিড়াল মারা গিয়ে পচে যাওয়ায় গন্ধ ছড়াচ্ছে। পরে গন্ধ তীব্র হলে মালিক ও ভাড়াটেরা কক্ষটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় খাটের ওপর নাজমা ও আলমগীরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের পাশেই একটি মৃত ভ্রূণ পড়ে ছিল। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

স্থানীয় ভাড়াটেরা জানান, কক্ষটি ভাড়া নেওয়ার সময় নাজমা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তাঁর স্বামী আলমগীর হকার হিসেবে কাজ করতেন।

নাজমার বোন শাপলা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলেও তাঁর সঙ্গে নাজমার দেখা হয়েছিল। শুক্রবার ও শনিবার নাজমা কাজে না যাওয়ায় তিনি ভেবেছিলেন, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় হয়তো কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে কাজে যাননি।

শাপলা বেগমের দাবি, তাঁর বোন ও দুলাভাইকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা থাকায় নাজমার গর্ভের সন্তানও পেট থেকে বের হয়ে গেছে বলে তিনি ধারণা করছেন।

এ্যাপারে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে ওই নারীর গর্ভপাত হয়ে আনুমানিক পাঁচ মাস বয়সী ভ্রূণটি বের হয়ে যায়। ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ ও মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আশুলিয়ায় রুম থেকে স্বামী স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, পাশে ছিলো মৃত ভ্রূণ

আশুলিয়ায় রুম থেকে স্বামী স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, পাশে ছিলো মৃত ভ্রূণ

প্রকাশিত : ০৫:১২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আশুলিয়ায় একটি ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে মৃত ভ্রূণসহ স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছেন পুলিশ। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন পুলিশ।

শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হযরত আলীর একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করেন।

নিহতরা হলেন, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড় মাগুড়া পাকপাড়া এলাকার নাজমা আক্তার (৩৩) এবং তাঁর স্বামী পলাশবাড়ী এলাকার আলমগীর হোসেন (৪২)। স্বামী স্ত্রী ওই বাসায় ভাড়া থেকে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট ওই কক্ষটি ভাড়া নেন আলমগীর ও নাজমা দম্পতি। গত তিন দিন ধরে কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। শুক্রবার আশপাশের ভাড়াটেরা কক্ষ থেকে পচা গন্ধ পেয়ে বিষয়টি ভবনের মালিককে জানান।

প্রথমে ভবন মালিক ধারণা করেছিলেন, কোনো বিড়াল মারা গিয়ে পচে যাওয়ায় গন্ধ ছড়াচ্ছে। পরে গন্ধ তীব্র হলে মালিক ও ভাড়াটেরা কক্ষটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় খাটের ওপর নাজমা ও আলমগীরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের পাশেই একটি মৃত ভ্রূণ পড়ে ছিল। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

স্থানীয় ভাড়াটেরা জানান, কক্ষটি ভাড়া নেওয়ার সময় নাজমা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তাঁর স্বামী আলমগীর হকার হিসেবে কাজ করতেন।

নাজমার বোন শাপলা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলেও তাঁর সঙ্গে নাজমার দেখা হয়েছিল। শুক্রবার ও শনিবার নাজমা কাজে না যাওয়ায় তিনি ভেবেছিলেন, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় হয়তো কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে কাজে যাননি।

শাপলা বেগমের দাবি, তাঁর বোন ও দুলাভাইকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা থাকায় নাজমার গর্ভের সন্তানও পেট থেকে বের হয়ে গেছে বলে তিনি ধারণা করছেন।

এ্যাপারে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে ওই নারীর গর্ভপাত হয়ে আনুমানিক পাঁচ মাস বয়সী ভ্রূণটি বের হয়ে যায়। ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ ও মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

ডিএস./