০৫:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাঙ্গাইলে আলোচিত চেয়ারম্যান ফারুক হত্যা মামলা

সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা বাপ্পাসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৪ জনের যাবজ্জীবন

টাঙ্গাইল সদরের দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিন জনের মৃত্যুদণ্ড ও চার জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। এছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের এক লাখ টাকা ও দণ্ডিত যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অপর দিকে সঞ্জিত ঘোষ নামের এক আসামীকে বেকুসুর খালাস দেয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামীরা হচ্ছেন, সদর উপজেলার কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ, শ্রীফলিয়াটা গ্রামের মো. সহিদ মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান মিয়া (৩১), যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত অপর আসামীরা হচ্ছেন, সদর উপজেলার কাঠুয়া যোগনী গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে মো. সুজন, শ্রীফলিয়াটার মো. রওশন আলীর ছেলে মো. সানোয়ার হোসেন, কাগমারা এলাকার নুরুল ইসলাম নিলু বাবুর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, ছিটকীবাড়ী গ্রামের মো. নুর বক্সের ছেলে রুজবেল ইমন।

আদালতের পিপি মো. সাইদুল রহমান স্বপন জানান, রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল শহরে আকুরটাকুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তিনি হাটতে বের হন। আকুর টাকুর পাড়া বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পরদিন তার ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ। তবে এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী লাভলু মিয়া। পরে আদালতের নির্দেশে সিআইডি মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পায়।

তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সিআইডির পরিদর্শক রফিক উদ্দিন আহম্মেদ আবার অভিযোগপত্র জমা দেন। এ অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কাজ শুরু হয়। সমস্ত স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সোমবার বিচারক রায় ঘোষনা করেন।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

পাবনায় জরুরি রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কারে চিকিৎসক

টাঙ্গাইলে আলোচিত চেয়ারম্যান ফারুক হত্যা মামলা

সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা বাপ্পাসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৪ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত : ০৪:৪২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইল সদরের দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিন জনের মৃত্যুদণ্ড ও চার জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। এছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের এক লাখ টাকা ও দণ্ডিত যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অপর দিকে সঞ্জিত ঘোষ নামের এক আসামীকে বেকুসুর খালাস দেয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামীরা হচ্ছেন, সদর উপজেলার কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ, শ্রীফলিয়াটা গ্রামের মো. সহিদ মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান মিয়া (৩১), যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত অপর আসামীরা হচ্ছেন, সদর উপজেলার কাঠুয়া যোগনী গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে মো. সুজন, শ্রীফলিয়াটার মো. রওশন আলীর ছেলে মো. সানোয়ার হোসেন, কাগমারা এলাকার নুরুল ইসলাম নিলু বাবুর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, ছিটকীবাড়ী গ্রামের মো. নুর বক্সের ছেলে রুজবেল ইমন।

আদালতের পিপি মো. সাইদুল রহমান স্বপন জানান, রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল শহরে আকুরটাকুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তিনি হাটতে বের হন। আকুর টাকুর পাড়া বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পরদিন তার ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ। তবে এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী লাভলু মিয়া। পরে আদালতের নির্দেশে সিআইডি মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পায়।

তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সিআইডির পরিদর্শক রফিক উদ্দিন আহম্মেদ আবার অভিযোগপত্র জমা দেন। এ অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কাজ শুরু হয়। সমস্ত স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সোমবার বিচারক রায় ঘোষনা করেন।

ডিএস./