০৫:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনায় জরুরি রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কারে চিকিৎসক

​পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্র লতিফ টাওয়ার থেকে জেনারেল হাসপাতাল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। সড়কের বড় বড় খানাখন্দের কারণে জরুরি রোগী বহনকারী যানবাহন ও পথচারীদের পোহাতে হচ্ছে নিদারুণ দুর্ভোগ। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘবে পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজ উদ্যোগে সড়ক চলাচলের উপযোগী করার কাজে নেমেছেন স্থানীয় একদল তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবী। উদ্যোগটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন একজন চিকিৎসক। সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, লতিফ টাওয়ার থেকে জেনারেল হাসপাতালগামী সড়কের বড় বড় গর্তগুলোতে ইট, খোয়া ও বালু ফেলে ভরাট করছেন একদল স্বেচ্ছাসেবী। কাজের তদারকি করছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) পাবনা জেলা শাখার সদস্য সচিব ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য ও রাজনৈতিক কর্মীরা অংশ নেন।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটির দুই পাশে জেলার একমাত্র বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জেলা সদর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা মুমূর্ষু রোগী এবং প্রসূতিদের জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছানোর প্রধান পথ এটি। তবে সড়কের বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়ত গাড়ি বিকল হচ্ছে এবং ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

​জরুরি রোগীদের ক্ষেত্রে এই সড়কের পথটুকু পার হওয়াই যেন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। অ্যাম্বুলেন্সচালক আরমান বলেন, লতিফ টাওয়ার থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত মাত্র এক কিলোমিটার পথ পার হতে স্বাভাবিকভাবে তিন মিনিট লাগার কথা। অথচ খানাখন্দের কারণে সময় লাগছে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। পেছনে রোগী যন্ত্রণায় ছটফট করেন, কিন্তু ঝাঁকুনির ভয়ে দ্রুত গাড়ি চালানোও সম্ভব হয় না।

​অটোরিকশাচালক শফিক মিয়া বলেন, এই রাস্তায় গাড়ি নামালেই খুচরা যন্ত্রাংশ ভেঙে যেত। ডাক্তার সাহেব নিজে এসে খোয়া-বালু ফেলায় অন্তত গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে আমরা চাই পৌরসভা দ্রুত রাস্তাটি স্থায়ীভাবে পাকা করে দিক।

​উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান বলেন, প্রতিদিন প্রসূতি ও হৃদরোগীদের এই পথে আসার কষ্ট চোখের সামনে দেখি। এক মিনিটের ব্যবধানে যেখানে রোগীর জীবন-মরণ নির্ভর করে, সেখানে রাস্তার খানাখন্দের জন্য দেরি হওয়া মেনে নেওয়া যায় না। এটি স্থায়ী সমাধান নয়, তবে সাধারণ মানুষের কষ্ট কিছুটা কমাতেই এই সাময়িক সংস্কার। পৌরসভা দায়িত্ব না নিলেও আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না।

​সাময়িক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা দ্রুত সড়কটির স্থায়ী নির্মাণ ও আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন। হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, প্রসূতি ও জটিল রোগীদের জন্য সময় অত্যন্ত সংবেদনশীল; ঝাঁকুনিতে পথে জটিলতা তৈরির আশঙ্কা থাকে।

​এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দাউদকান্দিতে গভীর রাতে বসতঘরে আগুন লাগানোর অভিযোগে থানায় জিডি

পাবনায় জরুরি রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কারে চিকিৎসক

প্রকাশিত : ০৫:০৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্র লতিফ টাওয়ার থেকে জেনারেল হাসপাতাল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। সড়কের বড় বড় খানাখন্দের কারণে জরুরি রোগী বহনকারী যানবাহন ও পথচারীদের পোহাতে হচ্ছে নিদারুণ দুর্ভোগ। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘবে পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজ উদ্যোগে সড়ক চলাচলের উপযোগী করার কাজে নেমেছেন স্থানীয় একদল তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবী। উদ্যোগটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন একজন চিকিৎসক। সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, লতিফ টাওয়ার থেকে জেনারেল হাসপাতালগামী সড়কের বড় বড় গর্তগুলোতে ইট, খোয়া ও বালু ফেলে ভরাট করছেন একদল স্বেচ্ছাসেবী। কাজের তদারকি করছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) পাবনা জেলা শাখার সদস্য সচিব ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য ও রাজনৈতিক কর্মীরা অংশ নেন।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটির দুই পাশে জেলার একমাত্র বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জেলা সদর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা মুমূর্ষু রোগী এবং প্রসূতিদের জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছানোর প্রধান পথ এটি। তবে সড়কের বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়ত গাড়ি বিকল হচ্ছে এবং ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

​জরুরি রোগীদের ক্ষেত্রে এই সড়কের পথটুকু পার হওয়াই যেন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। অ্যাম্বুলেন্সচালক আরমান বলেন, লতিফ টাওয়ার থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত মাত্র এক কিলোমিটার পথ পার হতে স্বাভাবিকভাবে তিন মিনিট লাগার কথা। অথচ খানাখন্দের কারণে সময় লাগছে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। পেছনে রোগী যন্ত্রণায় ছটফট করেন, কিন্তু ঝাঁকুনির ভয়ে দ্রুত গাড়ি চালানোও সম্ভব হয় না।

​অটোরিকশাচালক শফিক মিয়া বলেন, এই রাস্তায় গাড়ি নামালেই খুচরা যন্ত্রাংশ ভেঙে যেত। ডাক্তার সাহেব নিজে এসে খোয়া-বালু ফেলায় অন্তত গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে আমরা চাই পৌরসভা দ্রুত রাস্তাটি স্থায়ীভাবে পাকা করে দিক।

​উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান বলেন, প্রতিদিন প্রসূতি ও হৃদরোগীদের এই পথে আসার কষ্ট চোখের সামনে দেখি। এক মিনিটের ব্যবধানে যেখানে রোগীর জীবন-মরণ নির্ভর করে, সেখানে রাস্তার খানাখন্দের জন্য দেরি হওয়া মেনে নেওয়া যায় না। এটি স্থায়ী সমাধান নয়, তবে সাধারণ মানুষের কষ্ট কিছুটা কমাতেই এই সাময়িক সংস্কার। পৌরসভা দায়িত্ব না নিলেও আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না।

​সাময়িক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা দ্রুত সড়কটির স্থায়ী নির্মাণ ও আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন। হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, প্রসূতি ও জটিল রোগীদের জন্য সময় অত্যন্ত সংবেদনশীল; ঝাঁকুনিতে পথে জটিলতা তৈরির আশঙ্কা থাকে।

​এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

ডিএস./