লক্ষ্য নির্ধারণ করে পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিশ্রম ও ধৈর্যের সঙ্গে এগিয়ে গেলেই টেকসই সফলতা অর্জন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত।
তিনি বলেন, সফলতার কোনো শর্টকাট নেই। নিজের আগ্রহ ও সক্ষমতার জায়গা চিহ্নিত করে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যেতে হবে। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারলেই একজন উদ্যোক্তার জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) চট্টগ্রামে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনা, আইন ও পদ্ধতিগত নির্দেশনামূলক দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী ও সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রকল্প-১-এর আওতায় ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (MTI)-এর আয়োজনে ও চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CWCCI)-এর সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। গত ৩ অক্টোবর থেকে CWCCI সেমিনার হলে পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, প্রশিক্ষণে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনা, আইন এবং পদ্ধতিগত নির্দেশনামূলক দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে উদ্যোক্তারা ব্যবসার পাশাপাশি নিজেদের নেতৃত্বের সক্ষমতাও বৃদ্ধি করতে পারবেন।
তিনি বলেন, আগুন জ্বালানোর জন্য যেমন একটি দিয়াশলাই যথেষ্ট, তেমনি প্রশিক্ষণ থেকে পাওয়া জ্ঞান একজন উদ্যোক্তার জন্য নতুন সম্ভাবনার সূচনা করতে পারে। তবে সেই জ্ঞানকে কাজে লাগানোর দায়িত্ব উদ্যোক্তার নিজের। ব্যবসার প্রতিটি কাজ পদ্ধতিগতভাবে সম্পন্ন করতে হবে এবং বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সাখাওয়াত জামিল সৈকত আরও বলেন, মানুষ জন্মের পরপরই হাঁটতে শেখে না। ধীরে ধীরে দাঁড়াতে শেখে, এরপর হাঁটা ও দৌড়ানো শেখে। ব্যবসায় সফলতার ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। লক্ষ্য ঠিক করে পরিকল্পনা অনুযায়ী ধৈর্য ও পরিশ্রমের সঙ্গে এগিয়ে গেলেই টেকসই সফলতা অর্জন সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আমেনা শাহীন বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের সফলতার মধ্যেই এ কর্মসূচির প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। নারী উদ্যোক্তাদের বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং নিজেদের জন্য সুস্পষ্ট ভিশন ও লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। নিজেদের ভেতরের সম্ভাবনা খুঁজে বের করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের সামনে পারিবারিকসহ বিভিন্ন ধরনের বাধা রয়েছে। তবে কাজ ও সাফল্যের মাধ্যমে এসব বাধা অতিক্রম করতে হবে। ব্যবসা শুরুর আগে ফিজিবিলিটি স্টাডি ও যথাযথ পরিকল্পনা করা জরুরি। একই সঙ্গে ব্যবসার আইনগত বিষয়গুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে CWCCI-এর পরিচালক চৌধুরী জুবাইরা সাকী জিপসি বলেন, একজন নারী উদ্যোক্তার জন্য টানা পাঁচ দিন সময় বের করে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সহজ নয়। তবে প্রশিক্ষণে কী শেখা হয়েছে, তার চেয়ে অর্জিত জ্ঞান ব্যবসায় কতটা প্রয়োগ করা যাচ্ছে সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগিয়ে ব্যবসাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।
CWCCI-এর পরিচালক রেহেনুমা মরিয়ম তুলি বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট ও প্রয়োজনীয় নিবন্ধনসহ আইনগত বিষয়গুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে ব্যাংকঋণ নিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে এবং ব্যবসার গ্রহণযোগ্যতাও বাড়বে।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে CWCCI-এর পরিচালক ও প্রশিক্ষক নূজহাত নূয়েরী কৃষ্টি বলেন, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান সঠিকভাবে ব্যবসায় প্রয়োগ করতে পারলে তা উদ্যোক্তাদের সফলতার পথে এগিয়ে নেবে। পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি প্রশিক্ষণে শেখা বিষয়গুলো বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে CWCCI-এর প্ল্যাটফর্ম ও সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিডিএস এক্সপার্ট ও প্রশিক্ষক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, গতানুগতিক পণ্যের পাশাপাশি বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নতুন ও সম্ভাবনাময় পণ্য নিয়ে উদ্যোক্তাদের কাজ করতে হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবসা পরিচালনা এবং ব্যবসার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। এখন অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি ও উদ্যোগী মনোভাব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও বরণ করা হয়। পরে MTI-এর ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ খাঁন স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ৫০ জন নারী উদ্যোক্তার হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় তিনজন প্রশিক্ষণার্থী তাদের প্রশিক্ষণকালীন অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরেন।






















