০১:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: হানিফসহ চারজনের রায় বৃহস্পতিবার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির রায় আগামী ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ঘোষণা করা হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের এ দিন ধার্য করেন। এর আগে, উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে গত ৭ অক্টোবর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এর দুই দিন পর আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এক বক্তব্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজগর আলী বলেছিলেন, আন্দোলন ‘যে কোনোভাবে’ দমনে তাদের নেতা হানিফের নির্দেশ রয়েছে। যুক্তিতর্কে এ বক্তব্যের ওপর গুরুত্ব দেয় প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিদের বক্তব্য, নির্দেশনা ও সাংগঠনিক ভূমিকার প্রত্যক্ষ প্রভাবেই কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটে।

এ মামলায় এর আগে গত ১০ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। পরে প্রসিকিউশন অতিরিক্ত প্রমাণ দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ও অন্যান্য সাক্ষীসহ মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। চার আসামিই পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

হানিফ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।

প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ এনেছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগই যথেষ্ট—ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্য করা একটি বৈঠকে উপস্থিত থেকে হানিফসহ অন্যরা ওই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানান। দ্বিতীয় অভিযোগে রয়েছে, ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া ও এ-সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া। তৃতীয় অভিযোগটি কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনা নিয়ে।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। গত বছরের ৬ অক্টোবর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। একই বছরের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল চার আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু করেন।

_Rakib_

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আইনজীবী তালিকাভুক্তির বয়স ৩৫ বছর করার সিদ্ধান্ত

কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: হানিফসহ চারজনের রায় বৃহস্পতিবার

প্রকাশিত : ০১:০৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির রায় আগামী ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ঘোষণা করা হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের এ দিন ধার্য করেন। এর আগে, উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে গত ৭ অক্টোবর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এর দুই দিন পর আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এক বক্তব্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজগর আলী বলেছিলেন, আন্দোলন ‘যে কোনোভাবে’ দমনে তাদের নেতা হানিফের নির্দেশ রয়েছে। যুক্তিতর্কে এ বক্তব্যের ওপর গুরুত্ব দেয় প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিদের বক্তব্য, নির্দেশনা ও সাংগঠনিক ভূমিকার প্রত্যক্ষ প্রভাবেই কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটে।

এ মামলায় এর আগে গত ১০ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। পরে প্রসিকিউশন অতিরিক্ত প্রমাণ দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ও অন্যান্য সাক্ষীসহ মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। চার আসামিই পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

হানিফ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।

প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ এনেছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগই যথেষ্ট—ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্য করা একটি বৈঠকে উপস্থিত থেকে হানিফসহ অন্যরা ওই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানান। দ্বিতীয় অভিযোগে রয়েছে, ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া ও এ-সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া। তৃতীয় অভিযোগটি কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনা নিয়ে।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। গত বছরের ৬ অক্টোবর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। একই বছরের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল চার আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু করেন।

_Rakib_