মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনটা দুঃস্বপ্নের মতো কাটল বাংলাদেশের। সেঞ্চুরি তুলে সাদমান ইসলাম ফিরতেই শুরু হয় উইকেট হারানোর মিছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যানের ঘূর্ণি আর শামার জোসেফের গতির সামনে দাড়াতেই পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। লাঞ্চ বিরতির আগেই গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস। ৯৭.৪ ওভার ব্যাট করে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৭২ রান।
দিনের শুরুতে সাদমানের সেঞ্চুরি পূর্ণ করার মধ্য দিয়ে স্বস্তি ফিরেছিল বাংলাদেশ শিবিরে। প্রথম দিনের শেষ বিকেলে আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা এই বাহাতি ওপেনার দ্বিতীয় দিনে এসে অপেক্ষার অবসান ঘটান। তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। তবে ব্যক্তিগত ১০৫ রানেই থামে তার ইনিংস। অভিষিক্ত পেসার বিশপের বলে এলবিডব্লিউ হন সাদমান। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি তিনি।
সাদমানের বিদায়ের পর আর কোনো রান যোগ করতে পারেননি হৃদয়। প্রথম দিনের শেষ দিকে ৪২ রানে ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয় দিনে আবার ব্যাটিংয়ে নেমে বিশপের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন এই ব্যাটার।
এরপর ইনিংস বড় করার দায়িত্ব নিতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজও। জোমেল ওয়ারিক্যানের আর্ম বলে বোল্ড হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান। তাতে লিটন দাসের সঙ্গে ৩২ রানের জুটির সমাপ্তি ঘটে।
নতুন বল হাতে নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর চাপ আরও বাড়ান শামার জোসেফ। তার ঘণ্টায় ১৪১.২ কিলোমিটার গতির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নাঈম হাসান। তার সংগ্রহ মাত্র ৫ রান। এরপর হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলামও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ২৭২ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ওয়ারিক্যান। ২৩.৪ ওভার বল করে ৫ উইকেট নিয়েছেন এই বাহাতি স্পিনার। অন্যদিকে গতির ঝড় তুলে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন শামার জোসেফ।
এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। দলীয় ৭ রানেই বিদায় নেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হককে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন সাদমান। দুজনের ব্যাটে আসে ৫৯ রানের জুটি। ২৮ রান করে মুমিনুল ফিরলে শান্তকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন সাদমান। তৃতীয় উইকেটে তাঁদের জুটি থেকে যোগ হয় ৪২ রান। তবে ১৯ রান করে শান্ত ফিরে গেলে আবারও উইকেট হারায় বাংলাদেশ।




















