চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চাপোড়া নামক একটি খালের গতিপথ পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে স্থানীয় সরওয়ার কামালসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে থানা পুলিশ। এ মামলায় আরও ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে লোহাগাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হাকিম লিটন বাদী হয়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩)-এর ১৫(১) ধারায় মামলাটি করেন।
একইদিন বিকেলে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের জঙ্গল পদুয়া গ্রামের উলুবনিয়া এলাকার চাপোড়া খাল ও তার পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন পুলিশ ও বন বিভাগ। এ সময় বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি শ্যালো মেশিনসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এরপর এ ঘটনায় মামলা করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন, সরওয়ার কামাল (৪২), হুবায়ের (৩৬), মো. জিয়াবুল (৪২), ভুট্টো (৩৭), মো. রাকিব (২৫) ও মো. শফিক (৩০)। তাদের প্রত্যেকের বাড়ি লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সরওয়ার কামালের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাপোড়া খাল ও পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। খবর পেয়ে বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জ ও লোহাগাড়া থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলনে জড়িত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে তারা সেখানে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ফেলে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে দুটি পুরোনো শ্যালোমেশিন, একটি লোহার তৈরি পাম্প এবং দুটি সবুজ রঙের হার্ড প্লাস্টিকের সাকশন পাইপের কাটা অংশ জব্দ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান আসামি সরওয়ার কামাল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে ওই পাহাড়ি এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন। একাধিকবার প্রশাসনের অভিযান ও নিষেধাজ্ঞার পরও থেমে থাকেনি বালু উত্তোলন। এতে খাল ও পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমি ও খালের প্রবাহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
পদুয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘আসামীরা বন বিভাগের আওতাধীন পাহাড় ও সুফল বাগানের ক্ষতি করে অবৈধভাবে বালু পরিবহন করে আসছিলেন। বনভূমি রক্ষায় বিভিন্ন সময় বাধা দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আবারও রাস্তা চালু করে বালু পরিবহন করেন। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দিকনির্দেশনায় বনভূমি ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান চলতে থাকবে।’
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে পুলিশ ও বন বিভাগ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চলতে থাকবে।’




















