ঢাকা সকাল ১০:৩২, বুধবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দৃশ্যমান হলো পদ্মাসেতু

পিলারের ওপর প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হলো পদ্মাসেতু। শনিবার সকাল ৮টায় কাজ শুরু করে ১০টার মধ্যে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর প্রথম স্প্যানটি বসানো হয়। ১৫০ মিটার দীর্ঘ স্প্যানের ওজন প্রায় তিন হাজার ২০০ টন। অস্থায়ী বেয়ারিংয়ের ওপর এই স্প্যান বসানো হয়েছে। স্থায়ীভাবে স্প্যানটি বসাতে আরও সময় লাগবে। সেই সঙ্গে আগামী মাসেই বসানো হবে আরও ৩-৪টি স্প্যান। এভাবে সেতুর ৪২টি পিলারের ওপর এই সুপারস্ট্রাকচারগুলো স্থাপন করা হলেই প্রকাশ পাবে সেতুর পূর্ণ চেহারা। শনিবার সকালে স্প্যান বসানোর সময় উপস্থিতিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “প্রথম স্প্যানটি সফলভাবে বসানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য স্প্যানগুলো উঠবে।” এখন পর্যন্ত এ সেতুর সাড়ে ৪৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে স্প্যান বসানো উদ্বোধন করবেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সেতুর কাজ যাতে একমুহূর্তের জন্যও বন্ধ না থাকে সেজন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে স্প্যান বসানো হয়েছে।” সেতুমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ব্যাংক যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল পদ্মা সেতুর আকাশে তখন কালো মেঘ জমে অনিশ্চতায় রুপ নেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একক নেতৃত্বে মশাল হাতে নিয়ে পদ্মা সেতুর কাজকে এগিয়ে নিয়ে যান। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা। পিলারের উপর স্প্যান স্থাপনের মাধ্যমে নানা প্রতিক‚লতা এখন কাটিয়ে উঠানো সম্ভব হয়েছে। ধাপে ধাপে বাকি স্প্যান গুলো বসতে শুরু করবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ হবে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, সেতু সচিব আনোয়ারুল ইসলাম, সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর জেনারেল আবু সাইদ, চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এর আগে ক্রেনে করে মাওয়া থেকে স্প্যানটি আনা হয়। আর স্প্যানটি যে দুটি পিলারের ওপর বসানো হয় তার আশেপাশে প্রস্তুতি চলে গত দুদিন ধরে। প্রথম দিকে স্প্যানের রঙ সোনালি হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা ধূসর করা হয়েছে। ফলে পদ্মাসেতুটি দেখতে সোনালি রঙের না হয়ে ধূসর রঙের হবে। অন্যদিকে ইংরেজি অক্ষরের অনেকটা ‘ওয়াই’ আকৃতির আদলে নির্মাণ করা হচ্ছে পদ্মাসেতুর পিলার। এদিকে, নদীর বুকে প্রথম জেগে ওঠা মূল সেতুর অংশ দেখে উচ্ছ¡াস প্রকাশ করেছেন পদ্মাপারের সব শেণিপেশার মানুষ। স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষ মুখরিত ছিল সেতুর বাস্তবতা নিয়ে আলাপচারিতায়। প্রকল্প এলাকার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে মূল পিলারের ওপর ছয়টি স্প্যান বসিয়ে দেশবাসীর আশার আলো পদ্মাসেতু দৃশ্যমান করা হবে। ছয়টি স্প্যান বসানো হলে সেতুর ৯০০ মিটার দৃশ্যমান হবে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়। এ পর্যন্ত প্রকল্পের প্রায় ৪৭ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুতে মোট ৪২টি পিলার থাকবে। এর মধ্যে ৪০টি পিলার নির্মিত হবে নদীতে এবং দুটি নদীর তীরে। ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আগামী বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এ বিভাগের আরও সংবাদ