পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বখাটের ছুরিকাঘাতে এক স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় ওই স্কুলছাত্রীকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের ধুলাসার বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীরা বখাটে নাঈমকে আটক করে মহিপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
জানা গেছে, আহত স্কুলছাত্রী তুলি আক্তার (১৪) ধুলাসার ইউনিয়নের পশ্চিম ধুলাসার গ্রামের নিজাম উদ্দিন হাওলাদারের মেয়ে। ঘাতক নাঈম হোসেন (১৬) একই ইউনিয়নের পূর্ব ধুলাসার গ্রামের সোলায়মান মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় ৮ মাস ধরে নাঈম তার ফুফাতো বোন তুলিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করে আসছিল। একটা পর্যায়ে পারিবারিকভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য নাঈমকে বলা হয়। লেখাপাড়া শেষে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।
কিন্তু, এরপরও নাঈম তুলিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করে আসছিল। পরিশেষ আজ শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় বিদ্যালয়ের গেটের সামনে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তুলির পেটে ধারালো ছুরি ঢুকিয়ে দেয় নাঈম।
এ সময় স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক স্কুলছাত্রী তুলিকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে দ্রুত বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার জে এইচ খাল লেলিন জানান, তুলি আক্তারের নাভির নিচের ডান পাশে একটি ধারালো ছুরি ঢুকিয়ে দেয়ায় পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চি চামড়া কেটে নাড়ি-ভঁড়ি বেড়িয়ে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েটির জরায়ু এবং মূত্র থলি মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মারাত্মক ভাবে আহত ওই স্কুলছাত্রীর পেট থেকে ছুরিটি বের না করে প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং রক্ত গ্রুপিং করে বি পজিটিভ রক্ত এক ব্যাগ পুশ করে এবং এক ব্যাগ সঙ্গে করে দিয়ে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে ধুলাসার বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম জানান, নাঈমের বখাটেপনা ও উত্যক্ত করা নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিস বৈঠক হয়েছে। তাতেও কোনো কাজ হয়নি। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকগণ এ ঘটনায় অভিযুক্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি তোলেন।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, বখাটে নাঈমকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে (নাঈম) জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।


















