দেশে খেলাপি ঋণ যেভাবে হু হু করে বাড়ছে, তাতে খেলাপি ঋণ কমানো ও বাজে ঋণ হিসেবে চিহ্নিত ঋণ তথা জনগণের অর্থ উদ্ধারে এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে বৈকি। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপিরা যাতে অংশ নিতে না পারে, সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি)। সিআইবির এ উদ্যোগ ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকাতে ভূমিকা রাখবে।
১৯৯১ সাল থেকেই দেশে এ সংক্রান্ত আইন বিদ্যমান থাকলেও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিজেদের খেলাপি না দেখানো, আদালতে রিট করে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম কাটিয়ে নেয়া, এমনকি রাজনৈতিক দলগুলো ও নির্বাচন কমিশনের গা-ছাড়া ভাবের সুযোগে বড় ঋণখেলাপিরা ঠিকই ‘আইন প্রণেতা’ বনে আসছিলেন।
সর্বশেষ সিআইবির নেয়া উদ্যোগ যদি দল-মত নির্বিশেষে সব ঋণখেলাপির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়, তবে দেশে খেলাপি ঋণ কমে আসা এবং নতুন করে খেলাপি কম হওয়ার ফল হাতেনাতে পাওয়া যাবে, তাতে সন্দেহ নেই।
১৯৯২ সালে সিআইবি গঠনের পর থেকে এটি হাতে-কলমে কাজ করলেও এখন অনলাইনে তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তো বটে, নিয়মিত মাসে মাসে ঋণখেলাপির তথ্য হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এমনকি আগে সিআইবি ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের তথ্য রাখলেও এখন থেকে এক টাকা ঋণের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে ঋণখেলাপিদের তথ্য হালনাগাদ করার জন্য ব্যাংকগুলোর প্রতি মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং কোনো খেলাপি রিট করলে তার বিরুদ্ধে আপিলের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। এটি মৌখিক না থেকে লিখিত করা হলে এবং অবহেলাকারী শাখা ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হলে পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে অবশ্যই।
পাশাপাশি কোনো খেলাপি মনোনয়ন পেয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তার বিরুদ্ধে জোরালো আপিল করার প্রস্তুতি নিতে হবে এবং এক্ষেত্রে যে কোনো উদ্যোগ হতে হবে দল-মত নির্বিশেষে।
দেশে ঋণখেলাপি হওয়ার পেছনে সরকারের শীর্ষমহলের রাজনৈতিক ছাড়ের বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এই তো গত বুধবার সংসদে ১০০ ঋণখেলাপির যে তালিকা উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী, তাতে শীর্ষ খেলাপিদের নামই নেই। এমনকি অনেক ব্যবসায়ী গ্রুপ ৪-৫ হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপি হলেও তাদের একটি বা দুটি কোম্পানির নাম তালিকায় আনা হয়েছে।
খোদ অর্থমন্ত্রী স্বীকারও করেছেন, খেলাপি ঋণ আদায় হয় না রাজনৈতিক কারণে। ফলে ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করতে হলে সিআইবির পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলকেও নিজেদের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কঠোর হতে হবে।
আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে কোনো খেলাপিকে দলীয় এমপি প্রার্থী করা হবে না- দলগুলোর এমন অঙ্গীকার খেলাপি ঋণ কমাতে ভালো ভূমিকা রাখবে। এছাড়া নির্বাচনের মাঠের আসল কারিগর ইসিরও ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ মানসিকতা বাদ দিয়ে নির্বাচনী আইন প্রতিষ্ঠার প্রতি আন্তরিক হওয়ার বিকল্প নেই।


























