০৮:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

গেল অর্থবছরে ঋণ বিতরণ বেড়েছে

গেল অর্থবছরে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। দেশে আমদানির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলো উদারহস্তে ঋণ দিয়েছে। বিশেষ করে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য মালপত্র আমদানিতে ঠিকাদারেরা পর্যাপ্ত ঋণ পেয়েছেন।

বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এলপিজি বোতলজাতকরণ প্রকল্প নির্মাণ, পোশাক কারখানা স্থাপনসহ নানা খাতে বিনিয়োগের জন্য ঋণ গেছে, যদিও ভালো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এমন প্রকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া মোট ঋণের পরিমাণ ২০১৭ সালের জুনে ছিল ৮ লাখ ৯০ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। এই পরিমাণ চলতি ২০১৮ সালের জুনে বেড়ে দাঁড়ায় ১০ লাখ ২১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। এক বছরে ঋণ ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা বেড়েছে।

তবে একই সময়ে আমানতের পরিমাণ তুলনামূলক কম বেড়েছে। আমানত বেড়েছে ৯০ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের জুনে আমানতের পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা, যা ২০১৮ সালের জুনে বেড়ে হয়েছে ৯ লাখ ৬৯ হাজার ৬০ কোটি টাকা।

এব্যাপারে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আগের চেয়ে গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে একটু বেশি ঋণ বিতরণ হয়েছে। অনেক সরকারি প্রকল্পের কাজ চলছিল।

এ কারণে ঠিকাদারেরা অনেক ঋণ নিয়েছেন। তাঁদের অনেক মালপত্র আমদানি করতে হয়েছে। এ কারণেই ঋণ এত বেড়েছে। ঋণ বিতরণ অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলো কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এ কারণে অর্থ পাচার হয়নি এমন কথা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারব না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে গত অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ, আগের অর্থবছরে যা ছিল ১৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৪ শতাংশ। এই সময়ে খাদ্যপণ্য, মূলধনি যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল ও জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খাদ্যপণ্যের এলসি খোলার হার, প্রায় ১৪৪ শতাংশ। এর আগের ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানি এলসি খোলায় প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১১ শতাংশ।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৮৮৬ কোটি ৫৩ লাখ মার্কিন ডলার। সেখানে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৩৪৯ কোটি ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৬ হাজার ৯৪২ কোটি ২১ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪ হাজার ৮১২ কোটি ৫৯ লাখ ডলার।

অন্যদিকে আলোচ্য অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য খোলা ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে ৫ হাজার ১৫৩ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪ হাজার ৪২৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার।

এব্যাপারে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান বলেন, গত অর্থবছরে ব্যবসায়িক ঋণ কমেছে। তবে শিল্প ও মেয়াদি ঋণ বেড়েছে। আমদানি ঋণপত্র খোলার হারও অনেক বেড়েছে। এ কারণেই ঋণের এত প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ঋণের ব্যবহার প্রসঙ্গে আনিস এ খান বলেন, ঋণ যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না, তা এখনই বোঝা যাবে না। কিছুদিন পর বোঝা যাবে এত টাকা কোথায় গেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

গেল অর্থবছরে ঋণ বিতরণ বেড়েছে

প্রকাশিত : ০৩:০৬:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গেল অর্থবছরে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। দেশে আমদানির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলো উদারহস্তে ঋণ দিয়েছে। বিশেষ করে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য মালপত্র আমদানিতে ঠিকাদারেরা পর্যাপ্ত ঋণ পেয়েছেন।

বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এলপিজি বোতলজাতকরণ প্রকল্প নির্মাণ, পোশাক কারখানা স্থাপনসহ নানা খাতে বিনিয়োগের জন্য ঋণ গেছে, যদিও ভালো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এমন প্রকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া মোট ঋণের পরিমাণ ২০১৭ সালের জুনে ছিল ৮ লাখ ৯০ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। এই পরিমাণ চলতি ২০১৮ সালের জুনে বেড়ে দাঁড়ায় ১০ লাখ ২১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। এক বছরে ঋণ ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা বেড়েছে।

তবে একই সময়ে আমানতের পরিমাণ তুলনামূলক কম বেড়েছে। আমানত বেড়েছে ৯০ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের জুনে আমানতের পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা, যা ২০১৮ সালের জুনে বেড়ে হয়েছে ৯ লাখ ৬৯ হাজার ৬০ কোটি টাকা।

এব্যাপারে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আগের চেয়ে গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে একটু বেশি ঋণ বিতরণ হয়েছে। অনেক সরকারি প্রকল্পের কাজ চলছিল।

এ কারণে ঠিকাদারেরা অনেক ঋণ নিয়েছেন। তাঁদের অনেক মালপত্র আমদানি করতে হয়েছে। এ কারণেই ঋণ এত বেড়েছে। ঋণ বিতরণ অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলো কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এ কারণে অর্থ পাচার হয়নি এমন কথা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারব না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে গত অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ, আগের অর্থবছরে যা ছিল ১৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৪ শতাংশ। এই সময়ে খাদ্যপণ্য, মূলধনি যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল ও জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খাদ্যপণ্যের এলসি খোলার হার, প্রায় ১৪৪ শতাংশ। এর আগের ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানি এলসি খোলায় প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১১ শতাংশ।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৮৮৬ কোটি ৫৩ লাখ মার্কিন ডলার। সেখানে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৩৪৯ কোটি ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৬ হাজার ৯৪২ কোটি ২১ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪ হাজার ৮১২ কোটি ৫৯ লাখ ডলার।

অন্যদিকে আলোচ্য অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য খোলা ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে ৫ হাজার ১৫৩ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪ হাজার ৪২৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার।

এব্যাপারে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান বলেন, গত অর্থবছরে ব্যবসায়িক ঋণ কমেছে। তবে শিল্প ও মেয়াদি ঋণ বেড়েছে। আমদানি ঋণপত্র খোলার হারও অনেক বেড়েছে। এ কারণেই ঋণের এত প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ঋণের ব্যবহার প্রসঙ্গে আনিস এ খান বলেন, ঋণ যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না, তা এখনই বোঝা যাবে না। কিছুদিন পর বোঝা যাবে এত টাকা কোথায় গেছে।