বাংলাদেশের কৃষিপণ্য বিশ্বের ১২১টি দেশে রফতানি হচ্ছে। গত ছয় অর্থবছরে এ খাত থেকে মোট আয় হয়েছে ৩৫৫ কোটি ৬৫ মার্কিন ডলার। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি অর্থবছরে এ খাত থেকে রফতানি আয় বাড়ছে। তবে কিভাবে এ খাত থেকে রফতানি আরো বাড়ানো যায় এজন্য সরকারকে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে হবে।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে চা, সবজি, তামাক, ফুল, ফল, মসলা, শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য রফতানি হয়। আর এসব পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রফতানি হয় সবজি জাতীয় কৃষিপণ্য।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, মরিশাস, ভারত, সুইডেন, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্স, কুয়েত, ভুটান, সিয়েরা লিওন, সেনেগালসহ ১২১টি দেশে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রফতানি হয়।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ১২১টি দেশে কৃষিপণ্য রফতানি হচ্ছে। কৃষিজাত পণ্যের রফতানি বাড়াতে সরকার নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেই লক্ষ্যে বিদ্যমান রফতানি নীতিতে কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কৃষিপণ্য রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক সবক্ষেত্রে চুক্তিবদ্ধ চাষ ব্যবস্থা ও উত্তম কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করে মাঠ থেকে বাজার নীতি অনুসরণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এছাড়া কৃষিপণ্য উন্নয়নে বিভিন্ন গবেষণামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে এবং বালাইমুক্ত কৃষিপণ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আওতাধীন উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ উইংকে শক্তিশালী করা হবে।
ইপিবি সূত্রে আরো জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে কৃষিপণ্য রফতানিতে আয় হয় ৫৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ আয় বেড়ে হয় ৬১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আবার রফতানি আয় কমে যায়। তখন এ খাত থেকে আয় হয় ৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে আয় হয় ৫৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয় হয় ৫৫ কোটি ৩১ লাখ ডলার। আর সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ আয় বেড়ে হয় ৬৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) পরিচালক ইমরান আহমেদ বলেন, কৃষিপণ্য আহরণে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের স্বল্পতা, কোল্ডস্টোরেজের অপ্রতুলতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতি বছর মোট উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ১২ শতাংশ এবং শাকসবজি ও ফলমূলের ২০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে। তাই এ দিকগুলো বিবেচনায় এনে এই খাতের সব সমস্যা দূর করতে হবে। এতে এত কৃষিপণ্য নষ্ট না হয়ে রফতানি করা গেলে আয় আরও বাড়বে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বাইরে দিন দিন বাড়ছে কৃষিপণ্যের চাহিদা। আর এ চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ। কৃষিপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের পর তা রফতানির পরিমাণও বাড়ছে।
এছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলো বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য আমদানি করছে। তাই এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ। শুধু প্রতিবেশী দেশগুলোতেই ১৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য রফতানির সুযোগ আছে।


























