০৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

উদ্ভাবনী উদ্যোগে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন : আতিউর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, গত এক দশকে সরকারের কার্যকর সহযোগিতায় বাংলাদেশ ব্যাংক টেকসই এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপকভিত্তিক উদ্যোগ নিয়েছে। এর প্রাথমিক ইতিবাচক সুফলগুলো ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে। দেশে আর্থিক অন্তর্ভূক্তির ক্ষেত্রে এক নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে।

বুধবার ওয়ার্ল্ড সেভিংস অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং ইনস্টিটিউট (ডব্লিএসবিআই) এর উদ্যোগে গ্রামীণ আর্থিক অন্তর্ভূক্তি বিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কর্মশালার একটি অধিবেশনে মূল নিবন্ধ উপস্থাপনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

এ বছর ঢাকায় এই আন্তর্জাতিক কর্মশালার আয়োজক ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড। ড. আতিউর তার নিবন্ধে বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভূক্তি ও এজেন্ট ব্যাংকিং নিয়ে আলোচনা করেন। অন্যান্যের মধ্যে ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট এবং ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. আরফান আলি এবং ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আবুল কাশেম মো. শিরীন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন দেশ-বিদেশের আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, দাতা সংস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

ড. আতিউর বলেন যে, বাংলাদেশের আর্থিক সেবা খাত এখন প্রথাগত কৌশল থেকে বেরিয়ে এসে সার্বিক উন্নয়নের জন্য আর্থিক অন্তর্ভূক্তির ওপর জোর দিচ্ছে। গত এক দশকে কৃষি, এসএমই এবং নারী উদ্যেক্তাদের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের ব্যাংকগুলো অর্থনৈতিক পিরামিডের মূল ভিত্তিতে ঋণ প্রবাহ নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, আগে যারা ব্যাংকিং সেবার বাইরে ছিলেন বা যথাযথ সেবা পাচ্ছিলেন না তাদের কাছে সেবা পৌঁছানোর জন্য ডিজিটাইজেশনের ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। ফল স্বরূপ, এখন ৬ কোটির বেশি মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসের গ্রাহক প্রতিদিন ১১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার লেনদেন করছেন এবং ৫ হাজারেরও বেশি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে খোলা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ব্যাংক হিসাব।

তিনি আরো বলেন, মানুষের কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে প্রথাগত ব্যাংকের শাখার তুলনায় এজেন্ট ব্যাংকিং অনেক সাশ্রয়ী হওয়ায় এর টেকসই প্রসার ঘটবে। পাশাপাশি এর ফলে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠির জন্য উদ্যেক্তা হওয়ার সুযোগ এবং নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।

দেশের আর্থিক সেবা খাত ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যত প্রসঙ্গে ড. আতিউর বলেন, এখন বাংলাদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত দেশ গঠন এবং উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার মতো বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের জন্য ছুটছে। এ পর্যায়ে দেশের আর্থিক খাত বিশেষত ডিজিটাল প্রযুক্তিভিত্তিক আর্থিক সেবার প্রসার এসব লক্ষ্য অর্জনে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এর ফলে আরো বেশি সংখ্যক মানুষ উদ্যোক্তা (অর্থাৎ এজেন্ট) এবং ভোক্তা হিসেবে আর্থিক খাতের সঙ্গে যুক্ত হবেন এবং দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বাড়বে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

উদ্ভাবনী উদ্যোগে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন : আতিউর রহমান

প্রকাশিত : ০৩:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর ২০১৮

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, গত এক দশকে সরকারের কার্যকর সহযোগিতায় বাংলাদেশ ব্যাংক টেকসই এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপকভিত্তিক উদ্যোগ নিয়েছে। এর প্রাথমিক ইতিবাচক সুফলগুলো ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে। দেশে আর্থিক অন্তর্ভূক্তির ক্ষেত্রে এক নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে।

বুধবার ওয়ার্ল্ড সেভিংস অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং ইনস্টিটিউট (ডব্লিএসবিআই) এর উদ্যোগে গ্রামীণ আর্থিক অন্তর্ভূক্তি বিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কর্মশালার একটি অধিবেশনে মূল নিবন্ধ উপস্থাপনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

এ বছর ঢাকায় এই আন্তর্জাতিক কর্মশালার আয়োজক ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড। ড. আতিউর তার নিবন্ধে বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভূক্তি ও এজেন্ট ব্যাংকিং নিয়ে আলোচনা করেন। অন্যান্যের মধ্যে ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট এবং ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. আরফান আলি এবং ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আবুল কাশেম মো. শিরীন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন দেশ-বিদেশের আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, দাতা সংস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

ড. আতিউর বলেন যে, বাংলাদেশের আর্থিক সেবা খাত এখন প্রথাগত কৌশল থেকে বেরিয়ে এসে সার্বিক উন্নয়নের জন্য আর্থিক অন্তর্ভূক্তির ওপর জোর দিচ্ছে। গত এক দশকে কৃষি, এসএমই এবং নারী উদ্যেক্তাদের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের ব্যাংকগুলো অর্থনৈতিক পিরামিডের মূল ভিত্তিতে ঋণ প্রবাহ নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, আগে যারা ব্যাংকিং সেবার বাইরে ছিলেন বা যথাযথ সেবা পাচ্ছিলেন না তাদের কাছে সেবা পৌঁছানোর জন্য ডিজিটাইজেশনের ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। ফল স্বরূপ, এখন ৬ কোটির বেশি মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসের গ্রাহক প্রতিদিন ১১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার লেনদেন করছেন এবং ৫ হাজারেরও বেশি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে খোলা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ব্যাংক হিসাব।

তিনি আরো বলেন, মানুষের কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে প্রথাগত ব্যাংকের শাখার তুলনায় এজেন্ট ব্যাংকিং অনেক সাশ্রয়ী হওয়ায় এর টেকসই প্রসার ঘটবে। পাশাপাশি এর ফলে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠির জন্য উদ্যেক্তা হওয়ার সুযোগ এবং নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।

দেশের আর্থিক সেবা খাত ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যত প্রসঙ্গে ড. আতিউর বলেন, এখন বাংলাদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত দেশ গঠন এবং উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার মতো বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের জন্য ছুটছে। এ পর্যায়ে দেশের আর্থিক খাত বিশেষত ডিজিটাল প্রযুক্তিভিত্তিক আর্থিক সেবার প্রসার এসব লক্ষ্য অর্জনে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এর ফলে আরো বেশি সংখ্যক মানুষ উদ্যোক্তা (অর্থাৎ এজেন্ট) এবং ভোক্তা হিসেবে আর্থিক খাতের সঙ্গে যুক্ত হবেন এবং দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বাড়বে।