চলতি অর্থবছর কৃষিঋণ বিতরণে প্রথম তিন মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর চেয়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলো ২৭ শতাংশেরও বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। ৮ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক বিতরণ করেছে ১ হাজার ৫৩৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আর ৩৯ দেশী বিদেশী ব্যাংক বিতরণ করেছে ১ হাজার ৯৫৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ চিত্র ব্যাংকিং খাতের ঋণ কাঠামো বদলের আভাস দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মোট ঋণের ৪০ শতাংশ রাষ্টায়ত্ত ব্যাংকগুলো বিতরণ করতো। আর বেসরকারি দেশি-বিদেশি ব্যাংকগুলো বিতরণ করতো ৬০ শতাংশ। বিগত কয়েক বছর ৮ রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক বিতরণ করতো মোট ঋণের প্রায় অর্ধেক। আবার চলতি অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টারে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ঋণ বিতরণ হার অনেক কমেছে। দেশী বিদেশী ব্যাংকগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চেয়ে ২৭ শতাংশেরও বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। অর্থনীতিতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আধিপত্য বাড়ছে আর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আধিপত্য কমার চিত্র ফুটে উঠছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ কৃষি ও পল্লী ঋণ বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি (২০১৮-২০১৯) অর্থবছরে ২১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে প্রথম তিন মাসে বিতরণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭১৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ রুরাল ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিআরডিবি) বিতরণ করেছে ২১৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বাকি ৩ হাজার ৪৯৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বাংকিং খাত থেকে বিতরণ করা হয়েছে। ৪৮ টি দেশি বিদেশি বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ ঋণ বিতরণ করে।
কিন্তু ৬ বিদেশি ও ২ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক কোনো কৃষিঋণই বিতরণ করতে পারেনি। কৃষি ঋণ বিতরণ শুরু না করা বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো হলো-ব্যাংক আল ফালাহ, সিটি ব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, নাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও উরি ব্যাংক। আর দেশি বেসরকারি বাণিজ্যিক মধুমতি ব্যাংক ও সীমান্ত ব্যাংকও কৃষিঋণ বিতরণ শুরু করতে পারেনি।
আবার তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রার ২৫ ভাগ বিতরণ করার কথা থাকলেও ৫ শতাংশের নিচে কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে যমুনা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এসিসি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক বিতরণ করেছে সর্বনিম্ন ২ শতাংশ।
বিবি/জেজে


























