০৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সৌদিকে সহায়তা না দিলে সংকটে পড়বে ইসরাইল: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরবের প্রতি মার্কিন সমর্থন-সহায়তা বন্ধ হলে ইসরাইল কঠিন সংকটের সম্মুখীন হবে। সৌদি আরবকে ছাড়া ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সমস্যায় পড়বে।

ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার অবকাশযাপন কেন্দ্র মার-আ-লগোতে সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরবে যদি স্থিতিশীলতা না থকে তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক সমস্যায় পড়বে ইসরাইল।

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার নির্দেশ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দিয়েছেন, সিআইএ’র এমন মূল্যায়ন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এমন উত্তর দেন। গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগিকে হত্যা করা হয়।

ট্রাম্প বলেছেন, সিআইএ তাদের মূল্যায়নে খাসোগিকে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে প্রিন্স মোহাম্মদকে দায়ী করেনি।

তিনি বলেন, ইসরাইলকে দেখেন। সৌদি আরবকে ছাড়া ইসরাইল বড় সমস্যায় পড়বে। এর অর্থ হলো, ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে হবে। আপনি কি চান ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ুক? সৌদি আরবের সাথে আমাদের খুবই শক্তিশালী মিত্রতা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রকৃতপক্ষে মধ্যপ্রাচ্যে অত্যন্ত সহায়ক একটি দেশ সৌদি আরব। যদি আমাদের সৌদি আরব না থাকতো তাহলে সেখানে আমাদের বড় ঘাঁটি থাকতো না। আমাদের সম্ভবত কোনো কারণ নেই…। এরপর বাক্যটি তিনি আর শেষ করেননি।

খাসোগি হত্যায় জড়িত থাকার দায়ে সৌদি সরকারের প্রতি মার্কিন সাহায্য-সহায়তা ও সমর্থন বন্ধের দাবি ঘরে-বাইরে জোরালো হয়ে ওঠার কারণে চাপের মুখে রয়েছে মার্কিন সরকার।

ট্রাম্প একই প্রসঙ্গে সৌদি সরকারের প্রতি তার সরকারের সমর্থনের যুক্তি দেখিয়ে বলেন, সৌদি সরকার আমাদের খুবই শক্তিশালী মিত্র। এই সরকারের অনুপস্থিতিতে ইসরাইল বড় ধরনের সংকটে পড়বে।

তিনি বলেন, সৌদি সরকার তেলের দর কমিয়ে রাখছে। সৌদি সরকারের সাথে সুসম্পর্ক হারালেই বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেবে এবং তেলের দর ব্যারেল প্রতি ৫০ ডলার করে বেড়ে যাবে।

এছাড়া সৌদি সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল অংকের পুঁজি বিনিয়োগ করে রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

খাসোগি হত্যার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজ। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, হয়তো পৃথিবীকেই এজন্য জবাবদিহি করতে হবে। কারণ পৃথিবী খুবই নিষ্ঠুর একটি জায়গা।

এর আগে এক বিবৃতিতে ট্রাম্প সাংবাদিক হত্যার বিষয়টি ক্রাউন প্রিন্স ‘ভালোভাবেই অবগত ছিলেন’ বলেও ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, মর্মান্তিক ওই ঘটনার বিষয়টি ক্রাউন প্রিন্স হয়তো ভালোভাবেই জানতেন। হয়তো জানতেন, হয়তো না।

১৭ নভেম্বর দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের মালিবু পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আকর্ষণীয় মিত্র। আমাকে সেটা দেখতে হয়। আপনারা জানেন, আমি প্রেসিডেন্ট, আমাকে অনেক কিছু বিবেচনায় নিতে হয়। সূত্র: বিবিসি

বিবি/জেজে

ট্যাগ :

জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষ স্থানে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল

সৌদিকে সহায়তা না দিলে সংকটে পড়বে ইসরাইল: ট্রাম্প

প্রকাশিত : ১১:৩৯:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরবের প্রতি মার্কিন সমর্থন-সহায়তা বন্ধ হলে ইসরাইল কঠিন সংকটের সম্মুখীন হবে। সৌদি আরবকে ছাড়া ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সমস্যায় পড়বে।

ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার অবকাশযাপন কেন্দ্র মার-আ-লগোতে সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরবে যদি স্থিতিশীলতা না থকে তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক সমস্যায় পড়বে ইসরাইল।

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার নির্দেশ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দিয়েছেন, সিআইএ’র এমন মূল্যায়ন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এমন উত্তর দেন। গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগিকে হত্যা করা হয়।

ট্রাম্প বলেছেন, সিআইএ তাদের মূল্যায়নে খাসোগিকে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে প্রিন্স মোহাম্মদকে দায়ী করেনি।

তিনি বলেন, ইসরাইলকে দেখেন। সৌদি আরবকে ছাড়া ইসরাইল বড় সমস্যায় পড়বে। এর অর্থ হলো, ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে হবে। আপনি কি চান ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ুক? সৌদি আরবের সাথে আমাদের খুবই শক্তিশালী মিত্রতা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রকৃতপক্ষে মধ্যপ্রাচ্যে অত্যন্ত সহায়ক একটি দেশ সৌদি আরব। যদি আমাদের সৌদি আরব না থাকতো তাহলে সেখানে আমাদের বড় ঘাঁটি থাকতো না। আমাদের সম্ভবত কোনো কারণ নেই…। এরপর বাক্যটি তিনি আর শেষ করেননি।

খাসোগি হত্যায় জড়িত থাকার দায়ে সৌদি সরকারের প্রতি মার্কিন সাহায্য-সহায়তা ও সমর্থন বন্ধের দাবি ঘরে-বাইরে জোরালো হয়ে ওঠার কারণে চাপের মুখে রয়েছে মার্কিন সরকার।

ট্রাম্প একই প্রসঙ্গে সৌদি সরকারের প্রতি তার সরকারের সমর্থনের যুক্তি দেখিয়ে বলেন, সৌদি সরকার আমাদের খুবই শক্তিশালী মিত্র। এই সরকারের অনুপস্থিতিতে ইসরাইল বড় ধরনের সংকটে পড়বে।

তিনি বলেন, সৌদি সরকার তেলের দর কমিয়ে রাখছে। সৌদি সরকারের সাথে সুসম্পর্ক হারালেই বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেবে এবং তেলের দর ব্যারেল প্রতি ৫০ ডলার করে বেড়ে যাবে।

এছাড়া সৌদি সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল অংকের পুঁজি বিনিয়োগ করে রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

খাসোগি হত্যার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজ। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, হয়তো পৃথিবীকেই এজন্য জবাবদিহি করতে হবে। কারণ পৃথিবী খুবই নিষ্ঠুর একটি জায়গা।

এর আগে এক বিবৃতিতে ট্রাম্প সাংবাদিক হত্যার বিষয়টি ক্রাউন প্রিন্স ‘ভালোভাবেই অবগত ছিলেন’ বলেও ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, মর্মান্তিক ওই ঘটনার বিষয়টি ক্রাউন প্রিন্স হয়তো ভালোভাবেই জানতেন। হয়তো জানতেন, হয়তো না।

১৭ নভেম্বর দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের মালিবু পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আকর্ষণীয় মিত্র। আমাকে সেটা দেখতে হয়। আপনারা জানেন, আমি প্রেসিডেন্ট, আমাকে অনেক কিছু বিবেচনায় নিতে হয়। সূত্র: বিবিসি

বিবি/জেজে