পবিত্র ঈদুল আজহা ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ৯ আগস্ট থেকে ১৮ আগস্ট টানা ৯ দিন বন্ধ থাকে। এ সময় ভারত থেকে কোনো পণ্য বাংলাদেশে আমদানি হয়নি। এ সুযোগে ভারতে বন্যার অজুহাত দেখিয়ে হিলি স্থলবন্দরে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি করে আমদানিকারকরা।
ভারতে বন্যার অজুহাতে হঠাৎ অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়িয়ে দেয়ার পর আবার ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে হিলি স্থলবন্দরে। আমদানি বেড়ে যাওয়ায় এই স্থলবন্দরে গত দিনের ৪ ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম কমেছে ১০ থেকে ১২ টাকা। ভারত থেকে ব্যাপক হারে আমদানি হওয়ায় আরও দাম কমতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ঈদের আগে ২২ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও ছুটির পর ১০ থেকে ১২ দিনের ব্যবধানে সেই পেঁয়াজ বিক্রি করে ৩৮ থেকে ৪৪ টাকায়। তখন আমদানিকারকরা জানান, ভারতের মহারাষ্ট্র ও উত্তরপ্রদেশসহ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী কয়েকটি রাজ্যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। সে কারণে পেঁয়াজ আমদানি কমে গেছে এবং ভারত পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত ৪ দিনের ব্যবধানে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৩৮ থেকে ৪৪ টাকার স্থলে নেমে এসেছে ২৮ থেকে ৩২ টাকায়। হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক নাজমুল হক জানান, আমদানি বৃদ্ধি হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। এই বন্দরের আরেক আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম জানান, ভারতে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজের এলসি করা আছে। সেগুলো বন্দরে প্রবেশ করলে পেঁয়াজের দাম আরও কমে আসবে।
হিলি কাস্টম সূত্রে জানা যায়, প্রতি টন পেঁয়াজ আমদানি করতে ২শ’ ডলার করে এলসি করা হয়ে থাকে। সূত্রটি জানায়, গত সপ্তাহের ৫ কর্মদিবসে ১১২টি ভারতীয় ট্রাকে ২ হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বাংলাদেশে আমদানি হয়। চলতি সপ্তাহের ৩ কর্মদিবসে ভারতীয় ৮৮ ট্রাকে ২ হাজার ১৪০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে এই বন্দর দিয়ে।
হিলি স্থলবন্দর আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুনুর রশিদ জানান, বন্দর দিয়ে কম আমদানি হওয়ায় হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পায়। কিন্তু আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দাম আবার নেমে এসেছে। তিনি জানান, আমদানিকৃত কাঁচা এই পণ্য মজুদের কোনো সুযোগ নেই। তাই আমদানিকারকদের কারসাজিতে দাম বৃদ্ধি করার বিষয়টি অযৌক্তিক।
বিজনেস বাংলাদেশ-/এমএ


























